Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত

মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ভুতুড়ে’ কণা কি সত্যিই ঘুরপাক খাচ্ছে? ১০ বছরের গবেষণায় বড় মোড়

মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’ কি আদৌ বাস্তব?

মহাবিশ্বে রহস্যময় ‘ভুতুড়ে’ কণা কি সত্যিই ঘুরপাক খাচ্ছে? ১০ বছরের গবেষণায় বড় মোড়

ছবি- এআই

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 28 December 2025 13:56

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাবিশ্বের গঠন বুঝতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ কণার খোঁজ করছিলেন, যার নাম ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকসহ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছেন, এই কণার অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

নিউট্রিনো আসলে কী?

নিউট্রিনো হল মহাবিশ্বের অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরনের কণা। এগুলো এতটাই ছোট যে কোনও বাধা ছাড়াই পৃথিবী বা মানুষের শরীরের ভেতর দিয়ে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। সাধারণ পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম (Standard Model) অনুযায়ী তিন ধরনের নিউট্রিনোর কথা জানা যায়- ইলেকট্রন, মিউন এবং টাউ নিউট্রিনো। এই কণাগুলো এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘অসিলেশন’।

আগের কিছু পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, নিউট্রিনোগুলো বিজ্ঞানের চেনা নিয়মে চলছে না। সেই গরমিল মেলাতেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে, হয়তো চতুর্থ এক ধরনের নিউট্রিনো আছে, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্টেরাইল নিউট্রিনো’। এটি ধরা দেওয়া তো দূরের কথা, কেবল মহাকর্ষ বল ছাড়া অন্য কিছুর সঙ্গেই কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায় না।

এই রহস্যের সমাধান খুঁজতে বিজ্ঞানীরা ‘MicroBooNE’ নামে একটি বিশেষ পরীক্ষা চালান। এই পরীক্ষায় তরল আর্গন ভর্তি একটি বড় ডিটেক্টর ব্যবহার করা হয়, যা খুব সূক্ষ্ম কণার গতিবিধিও ধরতে পারে। প্রায় ১০ বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করার পর গবেষকরা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছেন যে, ‘একক স্টেরাইল নিউট্রিনো’ নামে আলাদা কোনও কণা বাস্তবে নেই।

রাটগার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মাস্টবাম বলেন, এই ফলাফল বিজ্ঞানের একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দূর করেছে। এর ফলে এখন বিজ্ঞানীরা অন্য নতুন পথে গবেষণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

এই দীর্ঘ গবেষণায় শুধু অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরাই নয়, রাটগার্স ইউনিভার্সিটির স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। পানাজিওটিস অ্যাঞ্জেলজোস গবেষণার ডেটা বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সিমুলেশন তৈরি করেন। অন্যদিকে, কেন লিং নিউট্রিনোর প্রবাহ ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা যাচাই করেন। অধ্যাপক মাস্টবাম নিজে ডিটেক্টর থেকে পাওয়া জটিল সিগন্যালকে বৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে রূপ দেওয়ার পুরো কাজটি তদারকি করেন।

কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান বিজ্ঞানের ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেল’ দিয়ে ডার্ক ম্যাটার বা ডার্ক এনার্জির মতো রহস্যময় বিষয়গুলো পুরোপুরি বোঝা যায় না। এত দিন স্টেরাইল নিউট্রিনোকে এই রহস্যের সম্ভাব্য উত্তর হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞানীরা এখন অন্য অজানা শক্তি বা কণার সন্ধানে মন দিতে পারবেন। এছাড়া, এই পরীক্ষায় যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে ‘ডুন’ (DUNE) নামে আরও বড় ও গভীর ভূগর্ভস্থ নিউট্রিনো গবেষণায় খুব কাজে লাগবে।


```