কম খরচে, সহজ ব্যবহারে, এবং রক্ত ছাড়াই এই স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভারতের ডিজিটাল স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে মনে করছেন চিকিৎসকমহল।
.jpeg.webp)
ক্যামেরার তাকালেই রোগ নির্ণয়?
শেষ আপডেট: 26 May 2025 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ রক্তপরীক্ষাই জানিয়ে দেয় আমাদের শরীরের আনাচে কানাচে কোথায় কী চলছে। সুগার, কোলেস্টেরল, হিমোগ্লোবিন, সংক্রমণ সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ মেলে এক ফোঁটা রক্তে। কিন্তু এবার চিরাচরিত রক্তপরীক্ষার দরকারই আর পড়বে না। আর এই নতুন যুগের সূচনা করেছে ভারতের প্রথম (AI based blood test)-ভিত্তিক ব্লাড টেস্টিং অ্যাপ কুইক ভাইটালস (Quick Vitals)।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু মুখ স্ক্যান করলেই ২০ সেকেন্ডের মধ্যে রিপোর্ট জানাবে এআই- রক্ত নেওয়ার দরকার পড়বে না, ব্যথারও প্রশ্ন নেই।
বছর ২০২৪-এ চালু হওয়া এই অ্যাপ প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছে হায়দরাবাদের সরকারি নিলোফার (Niloufer) হাসপাতালে, যেখানে প্রেগন্যান্ট মহিলাদের রক্তে আয়রনের ঘাটতি শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে।
মুখ স্ক্যানেই সফল ব্লাড টেস্ট! কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
অ্যাপটি ব্যবহার করে উজ্জ্বল আলোয় দাঁড়িয়ে শুধু মুখ স্ক্যান করলেই AI অ্যালগরিদম ও Photoplethysmography (PPG) পদ্ধতির মাধ্যমে সিস্টেম বুঝে নেয় রক্ত চলাচলের গতি। ফোনের ক্যামেরা দিয়ে যে আলো শরীরে ঢুকে ফিরে আসে, তা বিশ্লেষণ করে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বার করে নেয় অ্যাপ।
হরিশ বিসাম, Quick Vitals অ্যাপের নির্মাতা ও বিসাম ফার্মাসিউটিক্যালসের (Bisam Pharmaceuticals) প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘একাধিক অ্যালগরিদমের সঙ্গে PPG প্রযুক্তির সমন্বয়েই অ্যাপটি কাজ করে। আর ভাল আলো থাকলে আরও নিখুঁত ফলাফল পাওয়া যায়।’
অ্যাপটি ব্যবহার করে বেশ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিমাপ সম্ভব:
• রক্তচাপ (Blood Pressure)
• হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin A1c)
• হার্ট রেট ও ভ্যারিয়েবিলিটি (Heart Rate & HRV)
• অক্সিজেন স্যাচুরেশন (SpO2)
• শ্বাসপ্রশ্বাসের হার (Respiration Rate)
• নার্ভাস সিস্টেমের স্ট্রেস রেসপন্স
• কোলেস্টেরল
• সিম্প্যাথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক অ্যাক্টিভিটি
• পালস রেসপিরেটরি কোশেন্ট (Pulse Respiratory Quotient)
চিকিৎসা পরিবেশে নিয়মিত মনিটরিংয়ের জন্য অ্যাপের সঙ্গে ওয়্যারেবেল PPG সেন্সর ব্যবহার করা যায়।
ডা. রবি কুমার, নিলোফার হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, ‘এই প্রযুক্তি শিশু ও প্রেগন্যান্ট মহিলাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এক বিরাট অগ্রগতি। নির্ভরযোগ্য এবং ব্যথাহীন এই পদ্ধতিতে হিমোগ্লোবিন মাপা এখন অনেক সহজ হয়েছে।’
ভারতের অ্যানিমিয়া সংকটে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা নিতে পারে। ভারতে প্রায় ৪০% মায়েরা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। এই প্রসঙ্গে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের সদস্য ডা. সন্তোষ ক্রালেতি বলেন, ‘বড় পরিসরে স্ক্রিনিং করতে হলে দ্রুত এবং সংবেদনশীল টেস্ট দরকার, খুব সূক্ষ্ম পার্থক্য সবসময় জরুরি নয়। Quick Vitals সেই কাজে কার্যকর হতে পারে।’ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমেও এটি যুক্ত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
যেহেতু AI ও ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঢুকছে, তাই তথ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরিশ বিসাম জানান, ‘সকল তথ্য এনক্রিপ্টেড এবং নিয়ম মেনেই সংরক্ষিত। শুধু অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীরাই তথ্য দেখতে পারেন।’
কুইক ভাইটালসের মাল্টি-ইউজার সংস্করণ ‘আমরুথ স্বাস্থ্য ভারত’ (Amruth Swasth Bharath) ইতিমধ্যে সরকারি হাসপাতালে চালু হয়েছে। এবার এই পরিষেবা চালু হচ্ছে মহারাষ্ট্রে, তারপর ধাপে ধাপে গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকাগুলিতে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কম খরচে, সহজ ব্যবহারে, এবং রক্ত ছাড়াই এই স্বাস্থ্যপরীক্ষা ভারতের ডিজিটাল স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করবে মনে করছেন চিকিৎসকমহল।