সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে- খাওয়ার সময় ঘাম হওয়া, বিশেষ করে মাংস বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময়, ধমনীতে ব্লকেজ বা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।

গ্রাফিক্স- দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 May 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল অল্পবয়সিদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁর জন্য দায়ী করা হয় অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রাকে। আর হার্টের সমস্যা এতটাই চুপিসারে আসে যে বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পেতে পেতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই সংক্রান্ত বিষয়ে নানা তথ্য নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়, তার মধ্যে কতটা সত্যতা থাকে, তা ভাবার বিষয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে- খাওয়ার সময় ঘাম হওয়া, বিশেষ করে মাংস বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়ার সময়, ধমনীতে ব্লকেজ (heart blocakge) বা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে।
কিন্তু সত্যিই কি তাই? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, খেতে বসে ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যাকে বলা হয় গাস্টেটরি সোয়েটিং (Gustatory Sweating)। এটি ধমনীতে ব্লকেজ বা হার্ট অ্যাটাকের সরাসরি কোনও লক্ষণ নয়।
খাওয়ার সময় ঘাম হয় কেন?
মাংস বা অন্যান্য উচ্চ প্রোটিনজাত খাবার হজম করতে শরীরের বেশি শক্তি খরচ হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলে Thermic Effect of Food। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে এবং শরীর ঘাম দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়াও, গরম বা মশলাযুক্ত খাবার খেলে, গরম পরিবেশে খাওয়ার সময় বা মানসিক চাপে থাকলে অনেকেরই খেতে বসে ঘাম হতে পারে।
তবে ডাক্তাররা বলছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ‘Frey’s Syndrome’ বা অটোনোমিক ডিসফাংশনের কারণে ঘাম হতে পারে।
ডা. শরদ মালহোত্রা (HOD, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, আকাশ হেলথকেয়ার, দিল্লি) জানান, ‘গাস্টেটরি সোয়েটিং সাধারণত নিরীহ। কিন্তু যদি এই ঘামের সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি দেখা যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।’
ডা. দেবাশীষ মহাপাত্রের (কার্ডিওলজিস্ট, BM Birla Heart Research Centre, কলকাতা) কথায়, খাওয়ার সময় ঘাম হওয়ার সঙ্গে হার্ট ব্লকের কোনও সরাসরি যোগ নেই। এই প্রচলিত বিশ্বাসটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। তবে যদি ঘাম হওয়ার সঙ্গে বুকব্যথা বা দুর্বলতা থাকে, তবে তা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।’
তাহলে কখন চিন্তার কারণ?
খাওয়ার সময় ঘাম হওয়া বিশেষ কোনও রোগের লক্ষণ নয়। কিন্তু যদি তার সঙ্গে থাকে:
• বুকব্যথা
• মাথা ঘোরা
• শ্বাস নিতে কষ্ট
• বুকে চাপ বা জ্বালাভাব
খাদ্যাভ্যাস ও হৃদরোগ:
অনেকেই মনে করেন, খাবার দিয়ে ধমনীর ব্লকেজ সারানো যায়। যেমন, পেঁয়াজ বা ডালিম খেলে নাকি ব্লকেজ কমে যায়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে এইসবই ভুল এবং প্রচলিত ধারণা। ধমনীতে ব্লক হলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ ও প্রয়োজনে সার্জারিই একমাত্র পথ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক হলেও, তা ব্লকেজ সরাসরি দূর করতে পারে না।
স্পষ্টতই, সোশ্যাল মিডিয়ার ওই দাবি একেবারেই ভুল। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন মনে হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরাম নিন।