বোর্ডের চিন্তার কারণ টাইপ ২ ডায়াবেটিস, যা আগে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত। এখন সেটি অল্প বয়সিদের মধ্যেও বাড়ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 May 2025 23:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতজুড়ে শিশুদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিস (Type 2 Diabetes) এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার (Obesity) সমস্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিবিএসসি (CBSE-Central Board of Secondary Education)। সেইসঙ্গে, এই সমস্যা আটকাতে একটি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বোর্ড। সমস্ত সিবিএসই অনুমোদিত স্কুলে 'সুগার বোর্ড' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা পড়ুয়াদের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলি (side effects of excess sugar consumption) তুলে ধরবে।
১৪ মে সিবিএসসি-র (CBSE) অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর ড. প্রজ্ঞা এম. সিং সমস্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে বলেন, ‘সুগার বোর্ড-এর মাধ্যমে পড়ুয়াদেরদের চিনি খাওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হবে। এর মাধ্যমে জানানো হবে প্রতিদিন কতটা চিনি খাওয়া উচিত, জনপ্রিয় খাবারগুলিতে চিনির পরিমাণ কতটা থাকে, অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার কী কী ঝুঁকি রয়েছে এবং এর স্বাস্থ্যকর বিকল্পই বা কী হতে পারে।’
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতন এক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার বার্তা দেওয়া। বোর্ড স্কুলগুলিকে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের গ্রহণ করা যাবতীয় পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে দেশজুড়ে। ২০২৩ সালে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR) সিবিএসই-কে চিঠি দিয়ে টাইপ ১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত পড়ুয়াদেরদের সঠিক যত্ন নেওয়ার অনুরোধ জানায়। এরপরেই পরীক্ষায় ইনসুলিন পাম্প ও গ্লুকোমিটার নিয়ে ঢোকার অনুমতি দেয় বোর্ড।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস আগে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত, এখন সেটি অল্প বয়সিদের মধ্যেও বাড়ছে। বোর্ড জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্কুল ক্যাম্পাসের আশপাশে সহজলভ্য চিনিযুক্ত পানীয় ও জাঙ্ক ফুড এই সমস্যার মূল কারণ।
এক চিঠিতে বোর্ড উল্লেখ করে, ৪-১০ বছর বয়সি বাচ্চাদের দৈনিক ক্যালোরির ১৩ শতাংশ এবং ১১-১৮ বছর বয়সিদের ১৫ শতাংশ আসে শুধু চিনি থেকে- যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশকৃত ৫ শতাংশ সীমারও অনেক বেশি।
২০২০ সালে FSSAI স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রি নিষিদ্ধ করে। WHO-এর ২০২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৫ বছরের নিচে প্রায় ৩.৫ কোটি শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে।