নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এর আগের বেশিরভাগ ট্রায়াল মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এই ওষুধ তার থেকে কতটা আলাদা? জানিয়েছেন গবেষকরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 August 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন পর্যন্ত কোনওরকম সার্জারি ছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণের যাবতীয় দায়ভার ছিল মহিলাদের কাঁধেই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের (contraception) বিকল্প খুবই সীমিত - হয় কন্ডোম, নয়তো স্থায়ী পদ্ধতি ‘ভ্যাসেকটমি’। তবে এইবার সেই চিত্র বদলাতে পারে।
একটি নতুন ওষুধ সফলভাবে মানুষের ওপর পরীক্ষা বা হিউম্যান ট্রায়ালের (Human Trial) প্রথম ধাপ পেরিয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে - এই ওষুধটি হরমোনের স্বাভাবিক কাজে বাধা না দিয়েই কার্যকর এবং এর গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
ওষুধটির নাম YCT-529, এবং এটি এক ধরনের কেমিক্যাল, যা পুরুষের শরীরে শুক্রথলি বা টেস্টিসের বিশেষ এক ধরনের রিসেপ্টর (Retinoic Acid Receptor-Alpha)-কে টার্গেট করে।
কীভাবে কাজ করে এই ওষুধ?
• ওষুধটি শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে না।
• এটি অস্থায়ী বন্ধ্যাত্ব তৈরি করে, মানে ওষুধ বন্ধ করলেই পুরুষরা আবার সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা ফিরে পাবেন।
• প্রাণীদের (অ্যানিম্যাল টেস্টিং) উপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওষুধ বন্ধ করার পর যারা বাবা হয়েছে, তাদের সন্তান একেবারেই সুস্থ এবং স্বাভাবিক।
কী ছিল এই প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল?
এই গবেষণায় মোট ১৬ জন সুস্থ-স্বাভাবিক পুরুষ অংশ নেন। তাঁদের দু’ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয় ওষুধ। একদলকে দেওয়া হয় ১০ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম ডোজ। অন্য দলকে ৯০ থেকে ১৮০ মিলিগ্রাম। আর কিছু পুরুষকে প্লেসবো (ভুয়ো ওষুধ) দেওয়া হয় তুলনা করার জন্য।
তাঁদের শরীরের উপর ওষুধের প্রভাব ১৫ দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা হয় -
• শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের কাজে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কিনা
• লিভার, কিডনি, হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কিনা
• মুড বা যৌন ইচ্ছায় পরিবর্তন হচ্ছে কিনা
১৫ দিনব্যাপী এই পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ বলছে - কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারও হরমোনের ভারসাম্যে পরিবর্তন হয়নি, লিভার-কিডনিও ঠিকঠাক কাজ করেছে। কেউ মুড বা যৌন ইচ্ছায় পরিবর্তন জানাননি।
এখানে বেশ কিছু জিনিস পরীক্ষা করে দেখার রয়েছে গবেষকদের। এটি কতটা কার্যকর, এর প্রভাবই বা কতদিন থাকে, বন্ধ করার পর কত দ্রুত প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসে। তার থেকেও বড় কথা, এই ওষুধের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা।
এর আগেও তো নানারকম পরীক্ষা হয়েছে, সেই আগের ওষুধগুলো ব্যর্থ হওয়ার কারণ কী ছিল?
গবেষণা বলছে, আগের অনেক ওষুধ হরমোন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুক্রাণু বা স্পার্ম তৈরি বন্ধ করত। এতে হরমোনের ভারসাম্যে বড়সড় প্রভাব পড়ত। টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি একটা বড় সমস্যা ছিল ওইসব ক্ষেত্রে। পিল বা জেল হিসেবে ‘অ্যাড-ব্যাক’ টেস্টোস্টেরন দিতে হত। মুড সুইং, যৌন ইচ্ছার পরিবর্তন, ব্রণ, শারীরিক অস্বস্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো ছিলই।
এসব নানা কারণে বেশিরভাগ ট্রায়াল মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
নতুন এই ওষুধ আগের থেকে কতটা আলাদা?
এটি হরমোন নয় এবং সার্জারি লাগে না। শুধুমাত্র খাওয়ার ট্যাবলেট হিসেবে দেওয়া যায়। ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ঠিক থাকে। প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া যায়, এবং তখন পুরুষরা আবার সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা ফিরে পান।
এই সফল প্রাথমিক ধাপের পর এখন শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের (Phase 2) ট্রায়াল, যেখানে প্রথম ধাপের থেকেও বেশি সংখ্যক পুরুষের ওপর এই ওষুধের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে।
তারপর আসবে তৃতীয় ধাপের (Phase 3) ট্রায়াল, যেখানে একশো-রও বেশি পুরুষের উপর দীর্ঘ মেয়াদে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।