এই ধূমকেতুটিকে সবচেয়ে আগে দেখা গিয়েছিল জুলাই মাসে, চিলির রিও হুর্তাদোয় অ্যাটলাস টেলিস্কোপে। প্রথম নজরেই বিজ্ঞানীরা বুঝে যান - এর গতিপথ সাধারণ নয় বরং একদম উল্টো দিকে বাঁক নেওয়া হাইপারবোলিক পথে ছুটে আসছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের কৌতূহল যতদূর যেতে পারে, বিজ্ঞান (Science) তার থেকেও কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে। আর সেই কৌতূহলেরই এক চমৎকার উদাহরণ সম্প্রতি প্রকাশ করল নাসা (NASA)। ধূমকেতু 3I/ATLAS-এর টাটকা, বিস্ময়-জাগানো ছবি (Pictures) দেখাল তারা। এটি এমন এক মহাজাগতিক পথিক, যে জন্মেছে আমাদের সূর্যপরিবারেরও বহু আগে, আর এসেছে এমন এক অজানা অঞ্চল থেকে যার মানচিত্র আজও অচেনা।
এই ধূমকেতুটিকে (Comet) সবচেয়ে আগে দেখা গিয়েছিল জুলাই মাসে, চিলির (Chili) রিও হুর্তাদোয় অ্যাটলাস টেলিস্কোপে। প্রথম নজরেই বিজ্ঞানীরা বুঝে যান - এর গতিপথ সাধারণ নয় বরং একদম উল্টো দিকে বাঁক নেওয়া হাইপারবোলিক পথে ছুটে আসছে। অর্থাৎ এর জন্ম এই সৌরজগতে (Solar System) নয়। আর তাতেই শুরু হল নাসার নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ অভিযান - মঙ্গল, পৃথিবীর কক্ষপথ, সূর্য-পর্যবেক্ষণকারী মিশন, সবাই তাকাল এই ধারালো বরফখণ্ডের দিকে।

এই শরতের শুরুতে ধূমকেতুটি যখন মঙ্গলের মাত্র ১.৯ কোটি মাইল দূর দিয়ে চলে যায়, তখন নাসার মঙ্গল রিকনাইসান্স অরবিটার তোলে সবচেয়ে কাছের, সর্বাধিক সূক্ষ্ম ছবি। MAVEN অরবিটারে ধরা দেয় অতিবেগুনি আলো, ধূমকেতুর গায়ে কোন উপাদান কী রকম ছাপ রেখে যাচ্ছে তার সূক্ষ্ম তথ্য ধরা পড়ে। এমনকী লাল গ্রহের মাটিতে দাঁড়িয়ে পারসিভিয়ারেন্স রোভারও দেখেছিল ওই আলোকছটা।
পৃথিবী থেকে যখন 3I/ATLAS সূর্যের পিছনে চলে গেল, তখন ভূমিভিত্তিক টেলিস্কোপগুলি কার্যত অন্ধ হয়ে পড়ল। কিন্তু সেখানে এগিয়ে এল নাসার সৌর-পাহারাদার STEREO ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে যৌথ মিশন SOHO। তাদের ক্যামেরা ধরল সূর্যের আড়াল দিয়ে এগিয়ে চলা ধূমকেতুর স্পষ্ট চেহারা।
অন্যদিকে নাসার PUNCH মিশনের নতুন ছবিগুলিতে দেখা গেল ধূমকেতুর লেজ, সেটি যেন সৌরজগতের অদৃশ্য বায়ুমণ্ডল, হেলিওস্ফিয়ারের বুক চিরে দূর পর্যন্ত ছুটে গেছে।
একদিকে যখন সূর্য-মুখী যন্ত্ররা ছবি তুলছে, তখন অন্যদিক থেকে এগিয়ে এল নাসার Psyche মহাকাশযান। গ্রহাণুর পথে চলতে চলতেই মাত্র ৩.৩ কোটি মাইল দূর থেকে তুলল চারখানা ছবি। আরও দূর থেকে, ২৪০ মিলিয়ন মাইল ওপার থেকে Lucy মিশন দেখল ধূমকেতুটিকে। তার ফ্রেমে ধরা পড়ল লেজের সূক্ষ্ম গঠন।
পিছিয়ে নেই বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব, কিংবা SPHEREx। গত অগস্টে তারা যে উচ্চ-রেজোলিউশন ছবি আর স্পেকট্রাল ডেটা পাঠিয়েছে, তা 3I/ATLAS-কে পরিণত করেছে ইতিহাসের অন্যতম বেশি পর্যবেক্ষিত আন্তর্মহাজাগতিক বস্তুর একটিতে।
১৯ ডিসেম্বর ধূমকেতুটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে। দূরত্ব থাকবে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মাইল। এ সময় আরও ছবি ও তথ্য আসবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারপর ধীরে ধীরে ২০২৬ সালের বসন্তে ধূমকেতুটি পাড়ি দেবে বৃহস্পতির কক্ষপথ ছাড়িয়ে আরও দূর অচেনায়।