কী হতে চলেছে মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? কাজের ক্ষেত্রে কোন নতুন প্রযুক্তি জায়গা করে নেবে অপারেটিং সিস্টেমে?

মাইক্রোসফট
শেষ আপডেট: 6 August 2025 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেস্ক থেকে তাহলে কি এবার কম্পিউটারের চিরসঙ্গী কী-বোর্ড আর মাউসের বিদায় সময় আসন্ন? তার বদলে জায়গা দখল করবে কোনও ‘কথা বলা’ প্রযুক্তি?
মাইক্রোসফটের এক শীর্ষ কর্তা জানাচ্ছেন, ২০৩০-এর মধ্যে উইন্ডোজ (Windows) হয়ে উঠবে অনেক বেশি ‘মানবিক’ - যা শুনতে পাবে, দেখতে পারবে, বুঝতেও পারবে মানুষের মতোই।
ডেভিড ওয়েস্টন, মাইক্রোসফটের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এন্টারপ্রাইজ ও অপারেটিং সিস্টেম সিকিউরিটি), সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ভবিষ্যতের Windows-এর সম্ভাব্য রূপ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আগামী দিনে হয়তো আপনার নিরাপত্তা বিশ্লেষক (security analyst) কোনও মানুষ নন, বরং একজন এআই এজেন্ট - যার সঙ্গে আপনি ভার্চুয়াল মিটিং-এ কথা বলবেন, কাজের নির্দেশ দেবেন, এবং তাকে বিশ্বাস করবেন আপনার সংস্থার সাইবার নিরাপত্তার জন্য।
এআই-ই কি তাহলে হতে চলেছে আপনার ভবিষ্যতের সহকর্মী?
ওয়েস্টন বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে, আমি বিশ্বাস করি আপনি একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করবেন, যিনি আসলে একজন AI। সে আপনার সঙ্গে কথা বলবে, মিটিং জয়েন করবে, ইমেল পড়বে এবং মানবিক হয়ে তার উত্তরও দেবে। আর এতে মানুষ বিশেষ করে সেই কাজেই মন দিতে পারবে, যেখানে যন্ত্রের তুলনায় মানুষের দক্ষতা সবচেয়ে বেশি - যেমন সৃজনশীলতা, সংযোগ এবং ভাবনাচিন্তার পরিসরে।’
কল্পনা নয়, বাস্তবের পথেই হাঁটছে Microsoft
এই ধারণা শুধুই ভবিষ্যতের স্বপ্ন নয়। Microsoft ইতিমধ্যেই বেশ জোর দিয়েই AI-এর দিকে ঝুঁকেছে। তাদের Copilot সিস্টেম (যা Windows, Office সহ নানা সফটওয়্যারে AI সাপোর্ট দিচ্ছে) এই মুহূর্তে কোম্পানির কেন্দ্রীয় ফোকাস হয়ে উঠেছে। এই বিপুল পরিবর্তনের জেরে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাইও করেছে সংস্থা।
মাউস নয়, গলার স্বরই হবে ভবিষ্যতের কমান্ড
ওয়েস্টনের মতে, Windows 2030-এ মানুষের সঙ্গে কম্পিউটারের ইন্টারঅ্যাকশনের ধরনই বদলে যাবে। তখন টাইপ করা বা ক্লিক করা অতীত হয়ে যাবে, যেমনটা আজকের জেন-জেড-র কাছে MS-DOS। মানুষ বলবে, দেখাবে, এমনকী শুধু তাকালেই কম্পিউটার বুঝে যাবে কী করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, আমরা ভবিষ্যতে চোখ দিয়ে কম এবং গলার স্বর দিয়েই বেশি কাজ করব। ভবিষ্যতের Windows হবে মাল্টিমোডাল। আপনি কথা বলবেন, ইশারা করবেন, এমনকী শুধু তাকিয়েও নির্দেশ দিতে পারবেন।’
AI নিয়ে Microsoft ইতিমধ্যেই পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে। ‘Hey Copilot’ নামে একটি ভয়েস-অ্যাক্টিভেটেড ফিচারও লঞ্চ হয়েছে, যা Google Assistant বা Alexa-র মতো কাজ করে। যদিও এখনও পর্যন্ত তা সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন এবং কী-বোর্ডকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে পারেনি।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ
এই ইন্টারঅ্যাকশন (natural interaction)-এর জন্য প্রয়োজন বিপুল কম্পিউটিং পাওয়ার। Microsoft ইতিমধ্যেই কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের উপর কাজ করছে, যা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তো বটেই, সঙ্গে নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জও আনবে।
ওয়েস্টন জানান, ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এলে সাইবার সিকিউরিটির চেহারা বদলে যাবে। আমরা যদি এগিয়ে না থাকি, তাহলে হ্যাকাররাই এগিয়ে থাকবে। তাই আমরা এখনই Windows-এ কোয়ান্টাম-সেইফ এনক্রিপশন আনছি। এটা ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, বর্তমানের চ্যালেঞ্জ।’
Windows 12 নিয়ে কী জানা গেছে?
Microsoft-এর পরবর্তী বড় রিলিজ Windows 12 নিয়ে এখনও কিছু নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। যদিও কিছু টিজার এবং ধারণাভিত্তিক ভিডিও-তে ভবিষ্যতের Windows-এর আভাস মিলেছে। অনুমান করা হচ্ছে, Copilot-এর ইন্টিগ্রেশন আরও গভীর হবে, নিরাপত্তা আরও স্মার্ট হবে, এবং Windows হবে আর শুধু অপারেটিং সিস্টেম নয় - যেন আপনার ডিজিটাল সহকর্মী।
যদিও ভয়েস ইনপুট শক্তিশালী হয়ে উঠবে, কিন্তু এখনই কি-বোর্ড-মাউসের জায়গা voice পুরোপুরি নিতে পারবে না। বিশেষ করে পাওয়ার ইউজারদের জন্য এই পুরনো কম্বোই এখনও কার্যকর।
তবুও, Microsoft-এর এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ২০৩০-এর Windows শুধু সফটওয়্যার নয়, তা হতে চলেছে আপনার কাজের সঙ্গী, ভাবনার সঙ্গী এবং হয়তো সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সঙ্গী।