মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে রীতিমতো লড়াই করছে সারা পৃথিবী। তাই Zaynich শুধু ভারতের জন্য নয়, সারা বিশ্বে সম্ভাব্য জীবনরক্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে রীতিমতো লড়াই করছে সারা পৃথিবী। ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালস ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় খবর এসেছে। ওয়োকহার্ড্ট সংস্থা একটি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করেছে, যার নাম ‘Zaynich’, যা বিশেষভাবে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট বা বহু-ড্রাগ প্রতিরোধী গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ মোকাবিলায় কার্যকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, Zaynich হল একটি কম্বিনেশন ড্রাগ, যা দু'টি ভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক - সেফেপিম (Cefepime) এবং জাইডেব্যাকটাম (Zidebactam) মিলিয়ে তৈরি হয়েছে। সেফেপিম ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ধ্বংস করে, আর জাইডেব্যাকটাম ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদিত β-ল্যাক্টামেজ এনজাইম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করে, সেফেপিমের কার্যকারিতা বাড়ায়। এই কারণে Zaynich কোনও একটা অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে প্রায় ২০% বেশি সফলতা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে।
কেন এই অ্যান্টিবায়োটিক গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া যেমন E. coli, Klebsiella pneumoniae, Pseudomonas aeruginosa এবং Acinetobacter প্রজাতির প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ উন্নত। এরা নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিসসহ গুরুতর সংক্রমণ ঘটায় এবং বহু প্রচলিত ওষুধ এদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।
ভারতের মতো দেশে, যেখানে সংক্রমণের হার বেশি এবং অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহারও বেশি, এই ওষুধের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
যেমনটি নতুন যে কোনও ওষুধের ক্ষেত্রে ঘটে, Zaynichকেও বিস্তৃত ক্লিনিকাল ট্রায়াল, নিরাপত্তা যাচাই, প্রান্তিক দোষ এবং কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। ভারতীয় চিকিৎসা সংস্থা এবং জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ প্রোগ্রামগুলোতে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, ওষুধটি সাশ্রয়ী ও বৃহৎ উৎপাদনযোগ্য হতে হবে, যাতে এটি সরকারি হাসপাতাল ও সাধারণ রোগীদের জন্য সহজলভ্য হয়।
বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ এখন ক্রমবর্ধমান সমস্যা। তাই Zaynich শুধু ভারতের জন্য নয়, সারা বিশ্বের রোগীদের জন্য সম্ভাব্য জীবনরক্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে, সুপরিকল্পিত প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি এক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয়।