জম্মুতে বৈষ্ণো দেবীর পথে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। এখনও মাটিচাপা পড়ে রয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকাজ চলছে।

বন্যার 'তাণ্ডবে' দিশেহারা ভারত-চিন-পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 27 August 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত, চিন ও পাকিস্তানের একাধিক অঞ্চলে একটানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন (Flood fury in India, China, Pakistan)। বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি, ভেঙে পড়ছে অবকাঠামো, ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। রিপোর্ট বলছে, এবছরে তিন দেশেই বিভিন্ন জায়গায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। কেন এমন ভয়াবহ অবস্থা, কারণ খুঁজলেন বিশেষজ্ঞরা।
জম্মুতে বৈষ্ণো দেবীর পথে ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। এখনও মাটিচাপা পড়ে রয়েছেন বহু মানুষ। উদ্ধারকাজ চলছে। হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) ও উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) পাহাড়ি রাস্তাগুলি ধসে পড়ায় বহু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে গঙ্গার জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। টাওয়ি, চেনাব ও বাসন্তর নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপরে উঠে যাওয়ায় জম্মু জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল- খাইবার পাখতুনখাওয়া, গিলগিট-বালতিস্তান ও পাঞ্জাব, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাকিস্তানে বন্যা ও বৃষ্টির ধ্বংসযজ্ঞ আরও বেশি হয়েছে।
চিনে টানা দু’মাস ধরে প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৮৪ লক্ষ কোটি টাকা। ভেঙে পড়েছে সড়ক, সেতু, নষ্ট হয়েছে কৃষিজমি ও জীবিকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছরের বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরন একেবারেই আলাদা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মৌসুমি বায়ুর পথ সরে গিয়ে দক্ষিণের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে রাজস্থান, গুজরাতের মতো জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
পর্বতের জল আর বরফ থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প তৈরি হচ্ছে। সেই বাষ্প মেঘে জমেই ঝড়ের মতো বৃষ্টি নামছে। আবার নদীর জল গরম হয়ে বেশি বাষ্প উঠছে, যা একসঙ্গে নেমে প্রচণ্ড বর্ষণ ঘটাচ্ছে। এই প্রবল বৃষ্টির কারণেই হঠাৎ বন্যা হচ্ছে আর চারদিকে ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় গাছ কেটে শহরের পরিধি বাড়ানো এবং জল ধরে রাখার জায়গা নষ্ট হওয়ার কারণেই এখন বর্ষার বন্যা অনেক বেশি মারাত্মক হয়ে উঠেছে।
আগামী দিনে বিপর্যয় রুখতে হলে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে, নদীর পুরনো বন্যাপ্রবণ অঞ্চলগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে এবং টেকসই শহর পরিকল্পনা করতে হবে। নইলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে প্রতি বর্ষাই ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনবে।