অবশেষে এই মারণরোগের বিরুদ্ধে এক প্রতিষেধক বাজারে আসতে চলেছে, যা কার্যত এইচআইভি মহামারীর অবসান ঘটাতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 September 2025 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এইডস (AIDS) কি তবে শেষের পথে! অন্তত তাই বলছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (Clinical Trial)। এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুগান্তকারী অগ্রগতি দেখছে গবেষণা মহল। অবশেষে এই মারণরোগের বিরুদ্ধে এক প্রতিষেধক বাজারে আসতে চলেছে, যা কার্যত এইচআইভি মহামারীর অবসান (HIV Cure) ঘটাতে পারে।
লেনাকাপাভির (Lenacapavir) নামে নতুন এই ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ (injection based drug) ২০২৭ সাল থেকেই বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
লেনাকাপাভির কী?
লেনাকাপাভির একটি দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ইনজেকশন (anti-retroviral injection)। গিলিয়াড সায়েন্সেসের (Gilead Sciences) তৈরি এই প্রতিষেধক বছরে মাত্র দু’বার প্রয়োগ করতে হয় এবং পরীক্ষায় দেখা গেছে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ।
আমেরিকার FDA ২০২৫ সালের জুনে ওষুধটিকে ‘ইয়েজটুগো’ ব্র্যান্ড নামে অনুমোদন দিয়েছে। গিলিয়াড সায়েন্সেসের চেয়ারম্যান ও সিইও ড্যানিয়েল ও’ডে একে ‘এইডস বিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এটি আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার, যা সত্যিই এইচআইভি মহামারীর অবসান ঘটাতে পারে।’
সহজলভ্য দামে বাজারে আসছে ওষুধ
জানানো হয়েছে, গেটস ফাউন্ডেশন এবং ভারতীয় সংস্থা হেটেরো ল্যাবসের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের ফলে ওষুধটির জেনেরিক ভার্সন তৈরি হবে। এতে বছরে প্রতি রোগীর খরচ হবে মাত্র ৪০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৩০০ টাকা)। অর্থাৎ জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্যও এটি হবে সহজলভ্য।
কেন এত বড় অগ্রগতি?
এইডস প্রতিরোধক ওষুধ বা প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PrEP) আগে থেকেই ছিল, তবে সেগুলো প্রতিদিন নিয়মিত খেতে হয়। ফলে অনেকেই ধারাবাহিকভাবে ওষুধ খেতে পারতেন না। লেনাকাপাভিরের ইনজেকশন বছরে মাত্র দু’বার দিতে হবে, যা রোগীদের জন্য অনেক সহজ।
ওষুধটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে দু’টি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে—
প্রথম ট্রায়ালে সাব-সাহারান আফ্রিকার ২ হাজারের বেশি মহিলা অংশ নেন। দেখা যায়, একটিও নতুন সংক্রমণ হয়নি - অর্থাৎ ১০০% সাফল্য।
দ্বিতীয় ট্রায়ালে ২ হাজারের বেশি পুরুষ ও লিঙ্গ-বৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ অংশ নেন। সেখানে মাত্র ২টি সংক্রমণ ধরা পড়ে, অর্থাৎ ৯৯.৯% কার্যকারিতা।
উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রচলিত প্রতিষেধক ট্রুভাডা থেকে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এখন এই ওষুধ শুধু বাজারে আসার অপেক্ষামাত্র।