এই বছর জুলাই ও অগস্টে দিনের দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হবে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমাদের ঘড়ি একটুখানি হলেও এগিয়ে থাকবে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি বাড়তে চলেছে আগামী কয়েক সপ্তাহে। এর ফলে স্বাভাবিক ২৪ ঘণ্টার চেয়ে খানিকটা ছোট হতে পারে প্রতিদিনের সময়।
জুলাই ও অগস্টের তিনটি নির্দিষ্ট দিনে, ৯ জুলাই, ২২ জুলাই এবং ৫ অগস্ট, চাঁদের অবস্থানের কারণে পৃথিবী আরও দ্রুত ঘুরবে বলে পূর্বাভাস বিজ্ঞানীদের। ফলে প্রতিটি দিন ১.৩ থেকে ১.৫১ মিলিসেকেন্ড পর্যন্ত কম হতে পারে বলে জানিয়েছে ‘লাইভ সায়েন্স’-এর একটি রিপোর্ট।
কীভাবে কমছে দিনের দৈর্ঘ্য?
সাধারণভাবে, একটি পূর্ণ দিনের দৈর্ঘ্য হয় ৮৬,৪০০ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু পৃথিবীর ঘূর্ণন সব সময় সমান থাকে না। চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র, প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট কারণে ভরবন্টনের পরিবর্তন, সব কিছুর প্রভাব পড়ে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির উপর।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতীতে পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমছিল। প্রায় ১ থেকে ২ বিলিয়ন বছর আগে একটি দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১৯ ঘণ্টা। কারণ, তখন চাঁদ ছিল অনেকটাই কাছে, ফলে তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ছিল অনেক বেশি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ দূরে সরে যাওয়ায় দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে।
বিগত কয়েক দশকে পৃথিবীর ঘূর্ণন কিছুটা গতি পেয়েছে। ২০২০ সালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন, পৃথিবী ১৯৭০ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত ঘুরতে শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ছোট দিনটি রেকর্ড করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ জুলাই। ওই দিনটি ছিল স্বাভাবিক দিনের চেয়ে ১.৬৬ মিলিসেকেন্ড কম।
কেন এই পরিবর্তন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেদিন চাঁদ পৃথিবীর বিষুবরেখার তুলনায় নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে, সেদিন পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি কিছুটা বেড়ে যায়। এটা অনেকটা ঘূর্ণায়মান বেয়ালেন্সিং টপ বা বরফ নৃত্যশিল্পীর মতো, শরীরকে কেন্দ্রে টেনে নিলেই ঘূর্ণন বাড়ে।
এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে যাওয়া বা ভূগর্ভস্থ জলের গতিবিধি, এমনকি ভূমিকম্প, ঋতুচক্র পরিবর্তনও পৃথিবীর ঘূর্ণনে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০১১ সালের জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্পে পৃথিবীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ মাইক্রোসেকেন্ড কমে গিয়েছিল। ইউনিভার্সিটি অফ লিভারপুলের ভূ-ভৌতবিদ রিচার্ড হোম বলেন, 'ঋতু পরিবর্তনের সময় পৃথিবীর ভরের বণ্টনও বদলায়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে গাছপালায় পাতা আসে, ফলে ভর চলে যায় মাটির ওপরে, পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষে আরও দূরে।'
হোমের ব্যাখ্যা, 'যখন পৃথিবীর ভর কেন্দ্র থেকে দূরে চলে যায়, তখন পৃথিবীর ঘূর্ণনও কমে। ফলে দিনের দৈর্ঘ্য খানিকটা বাড়ে।' অর্থাৎ, পৃথিবীর দিন-রাত শুধু সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দিয়ে নয়, নির্ভর করে পৃথিবীর গঠন ও আচরণগত বৈচিত্র্যের উপরও।
এই বছর জুলাই ও অগস্টে সেই জটিল গাণিতিক হিসাবের বাস্তব রূপ সাধারণ মানুষ হয়তো অনুভব করতে না পারবেন না। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমাদের ঘড়ি একটুখানি হলেও এগিয়ে থাকবে।