চিনের বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন জৈব হাড়ের আঠা, যা মাত্র ২-৩ মিনিটে ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম। ধাতব ইমপ্লান্টের ঝামেলা দূর, স্বাভাবিকভাবেই শরীরে মিশে যায়।

‘হাড়ের আঠা’
শেষ আপডেট: 13 September 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে চিন-এর বিজ্ঞানীরা এক বৈপ্লবিক আবিষ্কার করেছেন—‘হাড়ের আঠা’ (Bone Glue)। এই আঠা মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে ভাঙা হাড় জোড়া লাগাতে সক্ষম। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এটি পুরোপুরি জৈব-উপাদান দিয়ে তৈরি এবং ৬ মাসের মধ্যে এটি নিজে থেকেই শরীরে মিশে যাবে। এর ফলে ভাঙা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য আর ধাতব ইমপ্লান্টের প্রয়োজন হবে না।
চিন-এর বিজ্ঞানীরা 'বোন ০২' (Bone 02) নামে এই জৈব উপাদানটি তৈরি করেছেন, যা সমুদ্রের ঝিনুক থেকে অনুপ্রাণিত। ড. লিন জিয়ানফেং ঝিনুকের স্থির থাকার ক্ষমতা দেখে এই আঠার ধারণাটি পান। তিনি লক্ষ করেন যে, বিশাল ঢেউ বা স্রোতের মধ্যেও ঝিনুক পাথরের সঙ্গে শক্তভাবে আটকে থাকে। হাড়কে আটকে রাখার জন্য একই ধারণা ব্যবহার করে এই আঠাটি তৈরি করা হয়েছে। এই আঠার আঠালো শক্তি ২০০ কেজিরও বেশি।
কীভাবে কাজ করে এই আঠা?
অস্ত্রোপচারের সময় এই আঠা ভাঙা হাড়ের ওপর লাগালে এটি দ্রুত শুকিয়ে ২-৩ মিনিটের মধ্যে হাড়কে জুড়ে দেয়। এটি রক্তে ভরা আর্দ্র পরিবেশেও সমানভাবে কাজ করে। এই উপাদানটি জৈব-নিরাপদ হওয়ায় মানবশরীরের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
কী কী সুবিধা হয়েছে এই আঠার?
ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে, ভাঙা হাড় ঠিক করার জন্য ধাতব ইমপ্লান্ট ব্যবহার করা হয়, যা পরে আবার অস্ত্রোপচার করে খুলে ফেলতে হয়। কিন্তু এই নতুন 'হাড়ের আঠা'র ক্ষেত্রে সেই ঝামেলা নেই। ৬ মাসের মধ্যে হাড় সেরে গেলে আঠাটি নিজে থেকেই শরীরে গলে যায়, ফলে দ্বিতীয় কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। এতে রোগীর কষ্ট যেমন কমবে, তেমনই কমবে চিকিৎসার খরচও।
ড. লিনের দল ৫০টিরও বেশি ফর্মুলা পরীক্ষা করে এবং শত শত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই উপাদানটি তৈরি করেছে। এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি রোগীর ওপর এটি ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে। চিন সরকার এই আবিষ্কারের জন্য চিন-এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেটেন্টের জন্যও আবেদন করেছে।