বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট বলছে, এই জনপ্রিয় AI প্রতিদিন গ্লাস গ্লাস জল খেয়ে তবে আপনাকে উত্তর দেয়। আসলে ওকে তো মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়!

কতটা জল লাগে চ্যাটজিপিটির?
শেষ আপডেট: 7 June 2025 19:36
চ্যাটজিপিটি শুধু সারাদিন আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না, জলও খায়! শুনে অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন, এ আবার কেমন কথা! কিন্তু বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট বলছে, এই জনপ্রিয় AI প্রতিদিন গ্লাস গ্লাস জল খেয়ে তবে আপনাকে উত্তর দেয়। আসলে ওকে তো মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়!
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে যখন ওপেনএআই চ্যাটজিপিটি চালু করল, তখন থেকে আমাদের কাজের ধারা অনেকটাই বদলে গেছে। স্কুলের প্রজেক্ট হোক বা অফিসের রিপোর্ট, সবেতেই AI ঢুকে পড়েছে। টেলিভিশনে এআই অ্যাঙ্করও চালু হয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির পেছনের গল্পটা আরও মজার—এ নাকি প্রতিদিন জল না খেলে প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারে না।
কতটা জল লাগে চ্যাটজিপিটির?
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো রিভারসাইড এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস আর্লিংটনের গবেষকরা জানাচ্ছেন, চ্যাটজিপিটি গড়ে ২০–৫০টি প্রশ্নের জন্য খরচ করে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার জল। সহজ করে বললে, আপনার করা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মাঝেই ও একগ্লাস জল ‘খেয়ে নেয়’!

GPT-4 মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে মাইক্রোসফটের ডেটা সেন্টারে লেগেছিল প্রায় ৭ লাখ লিটার জল। এই পরিমাণ জলে বানিয়ে ফেলা যেত ৩৫০টি BMW বা ৩২০টি টেসলা গাড়ি! আর যদি এই প্রশিক্ষণ হয় কোনও এশিয়ান (উষ্ণ অঞ্চল) ডেটা সেন্টারে? তাহলে এই জলের খরচ তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে।
জল না দিলেই কাজ বন্ধ!
চ্যাটজিপিটি যে সারাক্ষণ আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়, তার জন্য ভিতরে থাকে একটা ‘লার্নিং মেশিন’—মানে, ওর মস্তিষ্ক। সেটা কাজ করতে করতে গরম হয়ে যায়। আর সেই গরম ঠান্ডা করতেই লাগে এত এত জল। না হলে সার্ভার হিট হয়ে যায়, আর তখন আপনার ‘Hi ChatGPT’ বলাটা শুনেই না শোনার ভান করে বসবে!
শুধু চ্যাটজিপিটি নয়, গুগলের বার্ডসহ অন্যান্য AI-এর ক্ষেত্রেও একই ছবি। ২০২২ সালে Google-এর ডেটা সেন্টারগুলো ব্যবহার করেছে ৬৭,৫০০ কোটি লিটার জল। শুধু একটা বছরেই! একটা রিপোর্ট বলছে, ২০২১ সালে শুধু একটি এলাকাতেই Google খরচ করেছিল ১২৫ কোটি লিটার জল।

এইভাবে তো জল সংকট ভয়াবহ রূপ নেবে!
বিশ্বের অনেক জায়গায় জল সংকট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে AI-কে ঠান্ডা রাখতে লক্ষ লক্ষ লিটার জল খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিজ্ঞানীরাও। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে টেকনোলজি আর পরিবেশ—দু'টোই বাঁচাতে হবে।
তাহলে উপায় কী?
অনেক AI কোম্পানি এখন ভাবছে, তাদের ডেটা সেন্টার যেন ঠান্ডা অঞ্চলে তৈরি হয়। যেমন পাহাড়ি অঞ্চল বা বরফে ঢাকা জায়গা। তাহলে কৃত্রিম ঠান্ডা করার জন্য এত জল ঢালতে হবে না। মাইক্রোসফ্ট ইতিমধ্যেই এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। ভবিষ্যতের লক্ষ্য? এমন একটা AI বানানো, যে কম জল খেয়ে, ঠান্ডা মাথায় আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেবে—তাও পরিবেশকে না নষ্ট করে।