এই গবেষণা অদূর ভবিষ্যতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ পরিবর্তন আনতে চলেছে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 5 July 2025 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘চোখের জলের হয় না কোনও দাম…’ তা তো আগেই জানা ছিল। তবে মরুভূমির জাহাজ নামে পরিচিত এক নিরীহ প্রাণীর চোখের জল যে একদিন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান অ্যান্টিভেনম হয়ে উঠবে, তা কেউ হয়তো কল্পনাও করেনি।
সম্প্রতি রাজস্থানের বিকানের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন ক্যামেল (NRCC)-এর এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, উটের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি ২৬ ধরনের সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। আর এতে শুধু বিজ্ঞানের আশীর্বাদ নয়, নতুন আশার আলো দেখছেন রাজস্থানের উটমালিকরা।
গবেষকরা স-স্কেল্ড ভাইপার বা এক ধরনের চন্দ্রবোড়া সাপের (Echis carinatus sochureki)-এর বিষ উটের শরীরে প্রবেশ করিয়ে প্রথমে সেই বিষের প্রতি ইমিউনিটি তৈরি করেন। এরপর উটের চোখের জল ও রক্ত থেকে সংগৃহীত অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেন, এটি বিষের হেমোরেজ (রক্তক্ষরণ) ও কোয়াগুলোপ্যাথি (রক্তজমাট সংক্রান্ত সমস্যা) প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর।
প্রচলিত অ্যান্টিভেনম (যেমন ঘোড়ার শরীর থেকে পাওয়া IgG) এর তুলনায় এতে অ্যালার্জির ঝুঁকি কম। উটের শরীর থেকে অ্যান্টিবডি তৈরি করা তুলনায় কম ব্যয়সাপেক্ষ এবং সহজও।
পরিসংখ্যান বলে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫৮,০০০ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান, আরও ১.৪ লক্ষ মানুষ চিরতরে পঙ্গু হন। তাই এই গবেষণা চিকিৎসা-সম্ভাবনায় এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি রাজস্থানের উটব্যবসায়ীদের জন্য নতুন উপার্জনের রাস্তা খুলে দিয়েছে। বিকানের, জয়সালমের ও যোধপুরে NRCC স্থানীয় উটব্যবসায়ীদের থেকে গবেষণার জন্য নিয়ন্ত্রিতভাবে উটের চোখের জল ও রক্ত সংগ্রহ করছে। বিনিময়ে প্রত্যেক উটের জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে সংস্থা।
সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (Serum Institute of India)-সহ একাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই উট-নির্ভর অ্যান্টিবডির প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে।
প্রচণ্ড গরমেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা ও বিশেষ রোগ প্রতিরোধক গুণাগুণের কারণে, উট এখন ‘বায়ো-অ্যালাই’ হিসেবে নতুন পরিচয় পাচ্ছে। শুধুই চিকিৎসাবিজ্ঞানে নয়, এই গবেষণা অদূর ভবিষ্যতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিশেষ পরিবর্তন আনতে চলেছে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।