ভিনগ্রহের প্রাণীরা লুকিয়ে আছে আমাদেরই সমুদ্রতলে। সত্যিই কি তাই?

এলিয়েন
শেষ আপডেট: 6 August 2025 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এলিয়েন আছে কি নেই, তা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। একদিকে বিজ্ঞানীরা, যাঁরা বারবার যুক্তির কাঠামোয় দাঁড়িয়ে ভিনগ্রহের প্রাণীদের অস্তিত্বকে নাকচ করে দিয়েছেন। আবার অন্যদিকে রয়েছেন কিছু বিশেষজ্ঞ, যাঁদের দাবি— এলিয়েনরা বহুবার পৃথিবীতে এসেছে, আবার ফিরে গেছে। UFO বা অজানা উড়ন্ত বস্তু নিয়েও রহস্য আর উত্তেজনা কম নেই।
এই বিতর্কের মাঝেই ফের উঠে এল এক চমকে দেওয়া দাবি। আর সেই দাবি এসেছে নাসারই এক প্রাক্তন বিজ্ঞানীর মুখে। তিনি জানিয়েছেন— এলিয়েনরা আমাদের আকাশে নয়, তারা লুকিয়ে আছে আমাদেরই পৃথিবীর গা-ছমছমে গভীর সমুদ্রে।
এলিয়েনরা লুকিয়ে আছে সমুদ্রতলে?
নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের প্রাক্তন অধ্যাপক ও পদার্থবিদ কেভিন নুথ সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের পৃথিবীর ৭৫ শতাংশই জল। অথচ, আমরা আজও সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চল সম্পর্কে কিছুই জানি না। তাই এলিয়েনদের যদি পৃথিবীতে কোথাও লুকিয়ে থাকতে হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই হবে সমুদ্রের তলদেশ। সেখানেই হয়তো ওদের কোনও 'বেস' বা ঘাঁটি আছে।”
তিনি আরও বলেন, “এমনটা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ, অনেক সময় UFO দেখা যায় জল থেকে উঠে এসে আকাশে মিলিয়ে যেতে। এ ধরনের বহু ঘটনা রেকর্ডও হয়েছে। অথচ আমরা একে মেঘের আড়ালে, রাডারের সীমাবদ্ধতার আড়ালে ফেলে দিই।”
অতীতেও মিলেছে ‘ভিনগ্রহের’ ইঙ্গিত?
এই মন্তব্যের কিছুদিন আগেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল একটি ভিডিয়ো, যা আলোড়ন ফেলে দেয় বিশ্বজুড়ে। মেক্সিকান পার্লামেন্টে বিজ্ঞানীরা হাজির করেন দু’টি অদ্ভুত গঠনবিশিষ্ট মৃতদেহ। তাঁদের দাবি, এটি ভিনগ্রহের প্রাণীদের জীবাশ্ম, উদ্ধার করা হয়েছে পেরুর কুজকো অঞ্চল থেকে। মৃতদেহ দু’টি হাজার বছরের পুরনো, এবং এগুলো আদৌ পৃথিবীর প্রাণীর মত নয়—এমনই মত অনেক গবেষকের।
তবে, এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে গেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি এই “এলিয়েন দেহাবশেষ”-এর উৎস সম্পর্কে। তবে UFO ও এলিয়েন-চর্চায় এটি আরও একবার আগুনে ঘি ঢেলেছে।
তাহলে কি সত্যিই সমুদ্রতলেই লুকিয়ে বসে আছে এলিয়েনরা?
এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিনন্ধানশীল প্রমাণ না থাকলেও, বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বড় অংশ আজ স্বীকার করছেন, ভিনগ্রহের প্রাণীর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমাদের জ্ঞানের বাইরেও একটি বিশাল মহাবিশ্ব রয়েছে। তারই এক অপার, রহস্যময় অংশ, আমাদের মহাসাগরও।
কেভিন নুথের মতামত যদি সত্য হয়, তবে একদিন হয়তো আমাদেরই সমুদ্রের অতল গহব্বরে খুঁজে পাওয়া যাবে এমন কোনও প্রমাণ, যা চিরকাল বদলে দেবে মানুষ ও মহাবিশ্বের সম্পর্কের ইতিহাস।