দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবার নজর ছিল তাঁর দিকে। বরফের দেশের প্রতিরোধ টপকে পারবেন কি দেশকে জেতাতে? পারলেন না। ম্যাচের সবথেকে সহজ সুযোগ পেনাল্টিও নষ্ট করলেন তিনি। মেসির এই পারফরম্যান্স হতাশ করেছে তাঁর কোটি কোটি ভক্তকে। ঠিক সেভাবেই মাঠে বসে কপাল চাপড়েছেন আর এক কিংবদন্তি। দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা। কিন্তু মারাদোনার এই রিঅ্যাকশনের ভুল খবরে উপচে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সংবাদ মাধ্যম।
খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরে একটা ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে গ্যালারিতে বসে আফশোস করছেন দিয়েগো। কালো টি-শার্ট, চোখে সানগ্লাস, হাতে হাভানা চুরুট। হতাশায় হা-হুতাশ করছেন ফুটবলের রাজপুত্র। মারাদোনার এই অভিব্যক্তি দেখিয়েই বলা হচ্ছে, মেসির পেনাল্টি নষ্টের হতাশা প্রকাশ করছেন তিনি। গলদ ঠিক এখানেই।
ভিডিওটি ভালো করে দেখলেই বোঝা যাবে, যে সময়ে মারাদোনার এই হতাশার প্রকাশ, ঘড়ির কাঁটা বলছে তখন খেলা হয়ে গিয়েছে ৯০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছে। কিন্তু মেসি তো পেনাল্টি নষ্ট করেছেন ৬৩ মিনিটের মাথায়। ২৭ মিনিট সময় লাগল মারাদোনাকে হতাশ হতে?
https://twitter.com/priivacy/status/1008017104044462081
আসল ঘটনাটি হলো, খেলার একদম শেষের মুহুর্তে একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টিনার জন্য। বাঁ’দিক দিয়ে প্যাভন একটি ক্রস রেখেছিলেন বক্সে। সেই বলে পায়ের সংযোগ ঘটাতে পারেননি কেউ। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বল চলে যাচ্ছিল গোলের দিকে। আইসল্যান্ড গোলকিপার হ্যালডরসন আসাধারণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন সেই ক্রস। একটুর জন্য বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। আর তখনই দেখা যায় দিয়েগোর ওই হতাশা।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে মেসি-মারাদোনার সম্পর্ক বরাবরই অম্লমধুর। আর্জেন্টিনার কোচ থাকাকালীন মারাদোনা বলেছেন মেসি তাঁর দেখা সেরা খেলোয়াড়। আবার কখনও বলেছেন, মেসির ক্ষমতা নেই বিশ্বকাপ জেতার। লিডার হয়ে ওঠার ক্ষমতা নেই মেসির মধ্যে। আর তাই বারবার মেসি-মারাদোনার উপর ফোকাস করেছে সংবাদ মাধ্যম। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ট্রোল করা হয়েছে তাঁদের। কিন্তু এ দিনের খেলার পরে সম্পূর্ণ ভুল একটা ঘটনা যেভাবে ছড়ানো হলো তাতে আদতে নাক কাটল সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমেরই।