এই ফাইনাল শুধু একটা ম্যাচ নয়। এটা ভারতীয় বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের শক্তির প্রদর্শন। বৈভব সূর্যবংশীর ইনিংস সেই বার্তাই দিল।

যুব বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় ভারত
শেষ আপডেট: 6 February 2026 20:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাপটা ছিল ইংল্যান্ডের ঘাড়েই। ফাইনাল। সামনে পাহাড়সম রান। তবু নামের জোরে, আগ্রাসী মানসিকতায় ভর করে যুব বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘বাজবল’ দর্শনেই ভরসা রেখেছিল ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব–১৯ দল (England U19)। কিন্তু হারারের আকাশের নীচে সেই দর্শন একের পর এক ধাক্কা খেল। আর সেই সুযোগটাই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করল ভারত অনূর্ধ্ব–১৯ (India U19)।
এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই নাম—বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Suryavanshi)। মাত্র ১৪ বছর বয়সে যে ইনিংস সে খেলল, তা যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে আলাদা করে লেখা থাকবে। ৮০ বলে ১৭৫ রান। আক্রমণাত্মক, নির্মম, অথচ হিসেবি। ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর কার্যত ঝড় বইয়ে দিয়ে ভারতকে নিয়ে গেল ৪১১/৯-এ। অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে যা সর্বোচ্চ দলগত স্কোর।
ভারতের ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণের সুর বেঁধে দিয়েছিল বৈভব। পাওয়ারপ্লে হোক বা মাঝের ওভার—কোনও সময়েই সে ব্রেক টানেনি। ৫৫ বলে শতরান, যুব বিশ্বকাপ ফাইনালের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড। তারপর ১৫০ ছোঁয়া—এমন কীর্তি আগে কেউ করেনি। ১৫টি চার, ১৫টি ছয়—সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়, ইংল্যান্ডের বোলিং পরিকল্পনার ধ্বংসস্তূপ।
বৈভবের পাশে অধিনায়ক আয়ুষ মহাত্রে (Ayush Mhatre) খেললেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৫১ বলে ৫৩ রান। চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা করলেন নিখুঁতভাবে। উইকেটরক্ষক অভিজ্ঞান কুন্ডু (Abhigyan Kundu), বেদান্ত ত্রিবেদী (Vedant Trivedi), কণিষ্ক চৌহান (Kanishk Chouhan)—সবাই ছোট ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন। শেষদিকে কণিষ্কের ঝোড়ো ব্যাটিং ভারতকে ৪০০ পেরোনোর সাহস দিল।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা করেছিল আগ্রাসী ভঙ্গিতে। ‘বাজবল’ মানে ভয়ডরহীন ক্রিকেট—সেই ছকেই খেলতে চেয়েছিলেন বেন ডকিন্স (Ben Dawkins), বেন মেইস (Ben Mayes), থমাস রিউ (Thomas Rew)-রা। কিছু সময়ের জন্য রান উঠল দ্রুত। কিন্তু এই আগ্রাসনের মধ্যেই এল ছন্দপতন।
ভারতের বোলাররা পরিকল্পনা বদলাল না। চাপ তৈরি হতেই উইকেট পড়তে শুরু করল। দীপেশ দেবেন্দ্রন (Deepesh Devendran) এক ওভারেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন। কয়েক বলের ব্যবধানে উইকেটের পতন—২৮১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেল ইংল্যান্ড।
এই জায়গাতেই ‘বাজবল’ দর্শনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আগ্রাসন দরকার, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে গতি বদলানো আরও জরুরি। সেটাই পারল না ইংল্যান্ড। আর ভারত? তারা জানত কখন আক্রমণ, কখন নিয়ন্ত্রণ।
সব মিলিয়ে এই ফাইনাল শুধু একটা ম্যাচ নয়। এটা ভারতীয় বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের শক্তির প্রদর্শন। বৈভব সূর্যবংশীর ইনিংস সেই বার্তাই দিল—ভারতের পরের প্রজন্ম ভয় পায় না, রেকর্ড ভাঙতে জানে।
ট্রফি এখন আর দূরে নয়। শেষ কয়েক ওভার, কয়েকটা উইকেট—তারপরই ইতিহাস। যুব বিশ্বকাপের মুকুট পরার অপেক্ষায় ‘বৈভবময়’ ভারত।