
শেষ আপডেট: 16 February 2023 10:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ফুটবলের দিকপাল ব্যক্তিত্ব তুলসীদাস বলরামের (Tulsidas balaram) জীবনাবসান ঘটল। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি অকৃতদার ছিলেন। বলরামকে দেখভাল করতেন তাঁর ভাইঝি, ভাইপোরা।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাইপাসের ধারে এক নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নামী এই প্রাক্তন ফুটবলার।
তুলসীদাস বলরাম মানে ভারতীয় ফুটবলের (Indian football) এক দীর্ঘ ইতিহাস। তিনি ভারতীয় ফুটবলে (Indian Football) স্বর্ণযুগের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন।
চুনী-পিকে-বলরাম, ভারতীয় ফুটবলের ‘থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ নামে পরিচিত ছিলেন তাঁরা।
চুনী গোস্বামী (Chuni goswami) ও পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় (Pk Banerjee) আগেই চলে গেছেন। তাঁদের প্রিয় সতীর্থও এবার চলে গেলেন অনন্তলোকে। কয়েকদিন আগেই সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী (Sports Minister) অরূপ বিশ্বাস। তিনি গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
৮৭ বছর বয়সি এই অলিম্পিয়ান বহুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি থাকতেন হুগলির উত্তরপাড়া বাজার স্টপ গঙ্গার ধারের একটি ফ্ল্যাটে। লিভারের অসুখে ভুগছিলেন বহুদিন ধরেই। এর আগেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। বছরের শেষে আবারও তাঁকে ভর্তি করতে হয়েছে। বলরাম ছিলেন চিকিৎসক ডাঃ শোভন সিনহার তত্ত্বাবধানে। বৃহস্পতিবার বেলা দুটোর সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারপর সল্টলেকের হাসপাতাল থেকে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে বিকেলের দিকে। বালিখাল থেকে দুই দলের সমর্থকরা মিছিল করে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাবেন।
হাসপাতালের তরফে ডাঃ পার্থ ভট্টাচার্য মেডিকেল বুলেটিন দিয়েছেন, বলরাম যে শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তার থেকে অনেক উন্নতি হয়েছিল। মূত্রে সংক্রমণ রয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বোঝা যায়নি এর মধ্যেই প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যাবে।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন বলরাম। তিনি খেলতেন ফরোয়ার্ডে। তাঁর গোলে লাল হলুদে ক্লাবে বহু ট্রফি ঢুকেছে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল কর্তারা তাঁর খোঁজ রাখেন না, এই নিয়ে আজীবন অভিমানী ছিলেন প্রাক্তন।
ক্লাবের পক্ষ থেকে দেবব্রত সরকারসহ আরও কিছু কর্তা দেখতে গিয়েছিলেন বলরামকে। তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছিলেন।
বলরাম এও বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পরে মরদেহ যেন ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে না নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বক্তব্য নিয়ে একটা সময় আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। বলরামের জীবনে আরও একটা আক্ষেপ ছিল, তিনি পদ্মশ্রী পাননি, এটা নিয়েও বহুবার হতাশা ঝরে পড়েছে তাঁর।
তিনি ভারতের হয়ে অলিম্পিক দলের তারকা ছিলেন। সেই সার্টিফিকেট তাঁর বাড়িতে টাঙানো থাকত।
তিনি হায়দরাবাদ ছেড়ে পাকাপাকি ভাবে কলকাতায় চলে এসেছিলেন। এই শহরের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে গিয়েছিল। আজ সব কিছুই অতীত হয়ে গেল।
পেলের শেষকৃত্য স্টেডিয়ামে! যেখানে শুরু করেছিলেন, সেই মাঠেই ২৪ ঘণ্টা শায়িত থাকবে দেহ