সমর্থকদের সিংহভাগ এই কেজো বয়ানে গলে যেতে নারাজ! ম্যাচ চলাকালীন যখন দ্বিতীয়বার ট্রাম্পের মুখ স্ক্রিনে ভেসে উঠল, তখনও টানা তিরিশ সেকেন্ড ধরে বেজে চলল জোরালো শিস। ঝরে পড়ল তীব্র বিদ্রুপ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 8 September 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোর্টের লড়াইটা ছিল আলকারাজ বনাম সিনারের (Carlos Alcaraz vs Jannik Sinner)। কিন্তু নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে আলোচনার মাঝখানে ঢুকে পড়লেন অন্য একজন—ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। পূর্ব ঘোষণামতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরিনায় পা রাখলেন। কিন্তু তিনি ঢুকতেই কপাল পুড়ল দর্শকদের। নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হল না। নিরাপত্তা তল্লাশিতে সবাই আটকে, প্রবেশপথে লম্বা লাইন। দ্বৈরথ পিছিয়ে গেল পাক্কা আধা ঘণ্টা!
তারপর কোর্টে দুই তারকার আগমন, স্বাভাবিকভাবেই হর্ষ-উল্লাস! কিন্তু জায়ান্ট স্ক্রিনে ট্রাম্পের মুখ ভেসে উঠতেই ছন্দপতন। কথায় আছে ‘মিশ্র প্রতিক্রিয়া’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। প্রথমে খানিক হাততালি পড়ল ঠিকই। কিন্তু সেই সমাদরের স্রোত একটু থিতিয়ে যেতেই চড়া ডেসিবেলে বেজে উঠল শিস। সম্মান জানাতে নয়, বিদ্রুপ বোঝাতে! ২৪ হাজার দর্শকের সমবেত বিরক্তি আর অস্বস্তি গোপন থাকল না। কেউ মারকাটারি লড়াই দেখতে এসেছেন, কেউ দুই তরুণ তারকার কাঠখোট্টা সমর্থক। সবাই ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান। যে কারণে অসন্তোষের পুরোটাই গিয়ে পড়ল লাভের গুড় খেতে আসা প্রেসিডেন্টের উপর!
দর্শকাসনে হাজির ছিলেন ব্রুকলিনের কেভিন, প্রাইভেট ইকুইটিতে কাজ করেন। রাখঢাক না দিয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন, ‘পুরোটাই ওর (ট্রাম্পের) জন্য। আপাদমস্তক স্বার্থপর! ও তো জানে, এমন ইভেন্ট ওর কারণে আটকে যাবে। বিশেষত এই শহরে, যেখানে ওকে কেউ পছন্দ করে না!’
আরেকজন রুষ্ট দর্শকের প্রতিক্রিয়া, ‘পুরো ইভেন্টটাই ছিল হট্টগোল। গাড়ি পার্কিং লটে ঢুকতে পারছিল না। লোকজন মাইলের পর মাইল হেঁটে আসছে। এমনকি সেলেবরাও!’ মিশিগান থেকে আসা টেনিসভক্ত ক্যারেন স্টার্ক অবশ্য খানিক নমনীয়। নরম সুরে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে বললেন, ‘ট্রাম্প চাইলে যে কোনও ম্যাচ দেখতে যেতে পারে। ওর সেটা অধিকারে পড়ে!’ সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অবশ্য স্বীকার করেছেন কর্তব্যে গাফিলতি। গলায় আত্মসমালোচনার সুর, ‘প্রেসিডেন্টের সফরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কারণে দেরি হয়েছে। ধৈর্য ধরে থাকার জন্য আমরা সমস্ত দর্শককে ধন্যবাদ জানাই!’
যদিও সমর্থকদের সিংহভাগ এই কেজো বয়ানে গলে যেতে নারাজ! ম্যাচ চলাকালীন যখন দ্বিতীয়বার ট্রাম্পের মুখ স্ক্রিনে ভেসে উঠল, তখনও টানা তিরিশ সেকেন্ড ধরে বেজে চলল জোরালো শিস। ঝরে পড়ল তীব্র বিদ্রুপ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এতশত বিরোধিতা-অসন্তোষে আমল দিতে চাননি। ফাইনাল শেষে নিজস্ব ভঙ্গিতেই বললেন, ‘আসতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। আলকারাজ আর সিনার দু’জনেই অবিশ্বাস্য প্রতিভাবান। আর ভক্তরা? খুবই ভালো। আমি বুঝিনি ঠিক কী আশা করা উচিত! সাধারণত এদের তো ‘প্রগ্রেসিভ ক্রাউড’ বলা হয়ে থাকে। দিনশেষে সবাই কিন্তু বেশ ‘ভদ্র’-ই ছিল!’
সমবেত ‘বু-উ-উ…’-এর জবাবে হুল ফোটাতে ছাড়লেন না ট্রাম্প!