টেনিস দুনিয়ার সাম্প্রতিকতম বাস্তবও এখন স্পষ্ট—পুরুষদের বিভাগ এখন কার্যত দু’জনের দুনিয়া। আলকারাজ আর সিনার। বাকিদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে তাঁরা। ফ্লাশিং মেডোর ফাইনালে সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হল।

কার্লোস আলকারাজ
শেষ আপডেট: 8 September 2025 10:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্রেঞ্চ ওপেন (French Open) নিজের দখলে রেখেছিলেন। উইম্বলডনের (Wimbledon) ফাইনালে মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পরেও হারতে হয়েছিল। ইউএস ওপেন ছিল এক অর্থে প্রতিশোধের, বৃহত্তর চোখে নিজের রাজপাট বিস্তারের। দুটো কাজই দাপটের সঙ্গে করে দেখালেন বছর বাইশের কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)। ইয়ানিক সিনারকে (Jannik Sinner) হারিয়ে সাম্প্রতিকতম টেনিসের চর্চিত দ্বৈরথ জিতে নিয়ে স্পেনীয় তারকা বুঝিয়ে দিলেন, হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের থেকে তিনি কোথায় এগিয়ে!
নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে যেন টেনিসের নতুন ইতিহাস লেখা হল। কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz) সরাসরি সেটের লড়াইয়ে হারালেন ইয়ানিক সিনারকে (Jannik Sinner)। স্কোরলাইন ৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হল সিনারের ইউএস ওপেন শাসন। দ্বিতীয়বার ফ্লাশিং মেডোয় ট্রফি উঠল আলকারাজের হাতে, সব মিলিয়ে ষষ্ঠ গ্র্যান্ড স্ল্যাম।
ম্যাচ শুরুর আগে যদিও খানিকটা অস্বস্তি তৈরি হয়। পূর্ব ঘোষণামতো স্টেডিয়ামে উপস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আঁটসাঁট। অতিরিক্ত চেকিংয়ের কারণে হাজার হাজার দর্শক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। তাই খেলাও শুরু হয় প্রায় আধ ঘণ্টা দেরিতে। ট্রাম্পকে প্রথম সেটের পর স্ক্রিনে দেখানো হলে দর্শকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান—হাততালির পাশাপাশি শোনা যায় বিদ্রুপের শিসও। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বিল ক্লিনটনের (Bill Clinton) পর এই প্রথম কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউএস ওপেনে উপস্থিত হলেন।
কোর্টের বাইরে যাই ঘটে যাক না কেন, র্যাকেট হাতে কোনও দ্বিধার জায়গা রাখেননি আলকারাজ। বৃষ্টির কারণে ছাদবন্ধ অবস্থায় খেলা শুরু হলে গোড়া থেকেই দাপট ধরে রাখেন। কয়েক মাস আগে উইম্বলডন ফাইনালে সিনারের কাছে হারের ক্ষত হয়তো শুকোয়নি। যে কারণে প্রথম সেট থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন। শেষমেশ ছিনিয়ে নেন ম্যাচ পয়েন্ট।
এই জয়ের সুবাদে মুখোমুখি লড়াইয়ে আলকারাজ এগিয়ে ১০-৫ ব্যবধানে। গ্র্যান্ড স্ল্যামের সংখ্যাতেও সিনারকে পেছনে ফেললেন—৬-৪। ইউএস ওপেনের ট্রফির গুনতিতেও ইতালীয় তারকাকে পেছনে ফেললেন (২-১)।
এই জয়ের ফলে বিশ্ব র্যাঙ্কিং বদলে গেল। ২৪ বছরের ইয়ানিক সিনারকে সরিয়ে এক নম্বরে আলকারাজ। গত আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম দুজনের দখলে। মোট ১৩টির মধ্যে ১০টা তাঁরা নিজেদের ঝুলিতে পুরেছেন। বাকি তিনটি নোভাক জোকোভিচের (Novak Djokovic)। শুক্রবার সেমিফাইনালে সার্ব তারকাকে বিদায় দেন আলকারাজ। রবিবারের ফাইনাল সেই ধারাবাহিকতারই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। এক মৌসুমে দুজন খেলোয়াড় তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে মুখোমুখি হলেন—টেনিস ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম।
আলকারাজ ম্যাচ শেষে তৃপ্ত। বললেন, ‘আবারও ইউএস ওপেন ফাইনালে জিতে দারুণ লাগছে। আমার কাছে এর গুরুত্ব অনেক। হয়তো আজ টুর্নামেন্টের সেরা খেলা হয়নি, কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মান ধরে রাখতে পেরেছি। সার্ভ আজ খুব ভাল ছিল, সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
টেনিস দুনিয়ার সাম্প্রতিকতম বাস্তবও এখন স্পষ্ট—পুরুষদের বিভাগ এখন কার্যত দু’জনের দুনিয়া। আলকারাজ আর সিনার। বাকিদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে তাঁরা। ফ্লাশিং মেডোর ফাইনালে সেটাই আরও একবার প্রমাণিত হল।