
শেষ আপডেট: 20 November 2023 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করলেন।
চোটের কারণে বিশ্বকাপে প্রথম দিকে খেলতে পারেননি। তার পরেও কেন ট্রেভিস হেডকে দলে রেখে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, সেটা তিনি মাঠে ফিরেই বুঝিয়ে দিলেন। একা একজনই ভেঙে চুরমার করে দিলেন ১৪০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন। অসি ক্রিকেটারই যেন এবারের বিশ্বকাপে রূপকথার নায়ক।
ট্রেভিস এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার সেরা ওপেনার। তাঁর সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারের জুটি যে কোনও দলের কাছেই বেশ ভয়ের। লেগ সাইডে বেশি শক্তিশালী তিনি। ম্যাট হেনরিকে সেই দিকে পর পর দু’টি ছক্কা মেরে বেশ ভালরকমই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন চোটের জন্য বাইরে থাকলেও ফর্ম হারাননি তিনি। বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড আছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামোর। হেড ৫৯ বলে শতরান করেন। এ বারের বিশ্বকাপে দ্রুততম শতরানের তালিকায় তিনি রয়েছেন তিন নম্বরে।
হেডের ১২০ বলে ১৩৭ রানের অনবদ্য সেঞ্চুরিই অস্ট্রেলিয়াকে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ এনে দিয়েছে। ফাইনালের রাতে তাঁর বিধ্বংসী ঝোড়ো ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি চোটের কারণে প্রায় দেড় মাস বাইরে ছিলেন তিনি। ম্যাচ সেরা হেড তাই সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেছেন, “কী অসাধারণ একটা দিন! এর অংশীদার হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। বাড়িতে সোফায় বসে বিশ্বকাপ দেখার চাইতে অনেকগুণ ভাল। আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে উইকেটে ব্যাটিং করাটা তত সহজ হয়েছে। এমন একটি দিনের জন্যই আমি পরিশ্রম করেছি, এমন মাঠভর্তি দর্শকের সামনে নিজের সেরাটা দিতে পেরে আমি গর্বিত। ”
২০০৩ বিশ্বকাপে রিকি পন্টিং, ২০০৭ বিশ্বকাপে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পর এবার হেড—বিশ্বকাপ ফাইনালে তিন অস্ট্রেলিয়ানের সেরা কীর্তি। আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে হেডই টিম ইন্ডিয়ার হেডেকের কারণ ছিলেন। এমনিতেই বিশ্বকাপ জিততে ভারতের রানের পুঁজি ছিল কম। মাত্র ২৪০ রান। তবে সেই রান নিয়েও শুরুতে আশা জাগিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। তবে হেডের দাপটে ভারতের সব আশাই শেষ হয়ে যায়। চোটের কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দিকে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। লিগ পর্বে ষষ্ঠ ম্যাচে মাঠে নেমেই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১০৯ রানেন ইনিংস খেলেন। এরপর সেমিফাইনালে ম্যাচ সেরা ৬২। তবে সব ছাপিয়ে গেল ফাইনালের দিনের পারফরম্যান্স। অসি নায়ক একাই চুপ করিয়ে দিলেন গোটা গ্যালারিকে।