মৃত্যুর পর রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব থানায় বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দীপকের .৩২ বোরের রিভলভার বাজেয়াপ্ত করেছে, সঙ্গে রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করেছে।

রাধিকা ও তাঁর বাবা দীপক
শেষ আপডেট: 12 July 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে বাবার হাতে খুন হন গুরুগ্রামের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হল তাঁকে। পড়ে রইল মেডেল আর খুন ঘিরে একরাশ প্রশ্ন। ঠিক কী কারণে মেয়েকে মারলেন বাবা দীপক? উঠে আসছে একাধিক বিষয়। যে মেয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচা করে অ্যাকাডেমি বানালেন মাত্র কয়েক মাস আগে, যে মেয়েকে টেনিস খেলাবেন বলে নিজের শখ-আহ্লাদ ত্যাগ করলেন, তাঁকেই কি না গুলি করে মারলেন! বিশ্বাস করতে পারছেন না আত্মীয়রা।
চোট পেয়ে যখন রাধিকার টেনিস কেরিয়ার প্রায় শেষের দিকে, তখন মেয়ের কেরিয়ারে দেবদূত হয়ে আসেন দীপকই। তিনিই অ্যাকাডেমি খোলার পরামর্শ দেন। রাধিকার ইচ্ছেতে সায় দিয়ে দু'কোটি টাকা বিনিয়োগও করেন। বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক বছর আগে রাধিকা একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করতে চাইলে দীপক নিজে তাঁকে সেটে পৌঁছে দেন, ১১ ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করেন। মেয়ের কাজ শেষ হলে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
তাহলে প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য সামনে আসছিস, তার কোনওটা দিয়েই খুনের মোটিভ পরিষ্কার নয়। সূত্র বলছে, তদন্তকারীদের অনুমান, দীপকের মানসিক সমস্যা ছিল। তাঁর পরিচিত মহলের অনেকে বলছেন, দীপক ছিলেন চরম সন্দেহপ্রবণ এবং রাগী স্বভাবের। স্ত্রীর সঙ্গে ভাইয়ের কথাবার্তা নিয়ে পর্যন্ত প্রশ্ন তুলতেন। খুনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অপমানবোধ।
কে অপমান করল? কী এমন কথা কানে গেল, যাতে মেয়েকে মেরে ফেলারই সিদ্ধান্ত নিলেন! ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, সম্প্রতি দীপক গিয়েছিলেন নিজের গ্রামে। সেখানকার কয়েকজন নাকি তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, 'তুই একটা গিরা হুয়া বাপ' অর্থাৎ মেয়ের টাকায় চলা অযোগ্য বাবা। এই মন্তব্য দীপক সহ্য করতে পারেননি।
গ্রাম থেকে ফিরে তিনি রাধিকাকে বলেন অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিতে। খুব স্বাভাবিকভাবে রাধিকা অবাক হন। পরিষ্কার জানিয়ে দেন, 'যখন আপনি নিজে টাকা দিয়ে খুলতে দিয়েছিলেন, তখন হঠাৎ বন্ধ করতে বলার মানে হয় না।'
উত্তর শুনে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যান দীপক। পুলিশের দাবি, ওই ঘটনার পর তিন দিন ধরে দীপক মনেমনে রাগ পুষেছিলেন, অপমানে জ্বলছিলেন। আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন প্রথমে। কিন্তু শেষমেশ ঠিক করেন, মেয়েকে মেরে ফেলবেন।
ঘটনার দিন সকালে স্ত্রী মঞ্জু যাদব অসুস্থ ছিলেন। ছেলেও ছিল বাইরে। রান্নাঘরে একা ছিলেন রাধিকা। দীপক হঠাৎ ঢুকে পড়েন, পর পর গুলি চালান নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভার দিয়ে। তার মধ্যে চারটি গুলি লাগে রাধিকার গায়ে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর পর রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব থানায় বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দীপকের .৩২ বোরের রিভলভার বাজেয়াপ্ত করেছে, সঙ্গে রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করেছে।