ভারতীয় দাবা গত কয়েক বছরে যে-মাপের উত্থান দেখিয়েছে, গোয়া বিশ্বকাপ বস্তুত তারই অনিবার্য ফলশ্রুতি। সারা দেশে এর জনপ্রিয়তা শীর্ষ ছুঁয়েছে গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুনদের হাত ধরে।

ডি. গুকেশ
শেষ আপডেট: 26 August 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবার বিশ্বকাপ (Chess World Cup) এবার আয়োজিত হতে চলেছে গোয়ায় (Goa)। মঙ্গলবার আয়োজক সংস্থা ‘ফিডে’ (FIDE) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল—মহারণ চলবে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০৬ জন দাবাড়ু মুখোমুখি হতে চলেছেন নকআউট লড়াইয়ে।
প্রথমে শোনা গিয়েছিল, রাজধানী দিল্লিই (Delhi) হবে আয়োজক শহর। কিন্তু নানা সংশয় ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে জায়গা বদল করে গোয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ফিডে সভাপতি আরকাদি ডরকোভিচ বলেন, ‘ভারত আজ দাবার অন্যতম শক্তিধর দেশ। দুর্দান্ত খেলোয়াড়, দর্শকদের উন্মাদনা—সব মিলিয়ে পরিবেশ অসাধারণ। এ বছরের মহিলাদের বিশ্বকাপ জর্জিয়ায় সফলভাবে শেষ হওয়ার পর আমরা গর্বের সঙ্গে পুরুষদের বিশ্বকাপ গোয়ায় আয়োজন করছি। এটি হতে চলেছে দাবার এক অনন্য উৎসব, যেখানে নব্বইটিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন। হয়ে উঠবে দাবার ইতিহাসে অন্যতম সর্বাধিক দেখা প্রতিযোগিতা!’
খবর শোনামাত্র উচ্ছ্বাস লুকোতে পারলেন না অল ইন্ডিয়া চেস ফেডারেশনের সভাপতি নীতিন নারাং। তাঁর কথায়, ‘এটি ভারতীয় দাবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: আমরা এমন আয়োজন করব, যা যেমন ভক্তদের আবেগকে ছুঁয়ে যাবে, তেমনই ফেডারেশনের পেশাদারিত্বকে তুলে ধরবে। বিশ্বকাপ শুধু লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে না। বরং, বিশ্বদাবার মানচিত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও প্রমাণিত হবে। এজন্য ফিডে-কে ধন্যবাদ!’
টুর্নামেন্টে অন্তত ২১ জন ভারতীয় খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। তালিকায় আছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি. গুকেশ, ২০২৩ বিশ্বকাপের রানার আপ আর. প্রজ্ঞানন্দ, রেটিং তালিকা থেকে যোগ্যতা পাওয়া অর্জুন এরিগাসি ও আরাভিন্দ চিত্তুরাম, সঙ্গে নীহাল সারিন, বিদিত গুজরাথি, সুর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায়, দীপ্তায়ন ঘোষ, ললিত বাবু, নীলাশ সাহার মতো দাবাড়ুরা। উল্লেখযোগ্য, নাম থাকলেও সেমি-রিটায়ার্ড বিশ্বনাথন আনন্দের খেলা প্রায় অসম্ভব। তিনি বর্তমানে ফিডের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বপালনে ব্যস্ত।
ফিডে বিশ্বকাপের ধরন থাকছে আগের মতোই। নকআউট পদ্ধতিতে মোট আট রাউন্ড। প্রতিটি রাউন্ড চলবে তিন দিন—প্রথম দু’দিন দুটি ক্লাসিক্যাল ম্যাচ, প্রয়োজনে তৃতীয় দিনে টাই-ব্রেক। শুরুতেই শীর্ষ ৫০ বাছাই খেলোয়াড় বাই পাবেন। বাকি ১৫৬ জন মুখোমুখি হবেন প্রথম রাউন্ডে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপরের র্যাঙ্ক বনাম উল্টো দিকের নীচের সারির খেলোয়াড়ের মধ্যে। উল্লেখ্য, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পুরস্কার শুধু ট্রফি নয়। শীর্ষ তিনজন সরাসরি জায়গা পাবেন ২০২৬ প্রার্থীপদ টুর্নামেন্টে, যা নির্ধারণ করবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের চ্যালেঞ্জার।
ভারতীয় দাবা গত কয়েক বছরে যে-মাপের উত্থান দেখিয়েছে, গোয়া বিশ্বকাপ বস্তুত তারই অনিবার্য ফলশ্রুতি। সারা দেশে এর জনপ্রিয়তা শীর্ষ ছুঁয়েছে গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুনদের হাত ধরে। এবার গোয়ার মঞ্চ হয়ে উঠবে সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। এক মাস ধরে দাবা দুনিয়ার চোখ থাকবে সমুদ্রতীরবর্তী রাজ্যের চতুরঙ্গের মহারণে।