মালাবদলের দিনেই পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে বিয়ে ভাঙলেন স্মৃতি মন্ধনা। বাবার অসুস্থতা থেকে জেমাইমার সফর বাতিল, একটার পর একটা ঘটনা শেষে এখন সবটা পরিষ্কার।

স্মৃতি ও পলাশ
শেষ আপডেট: 7 December 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ভাইস–ক্যাপ্টেন স্মৃতি মান্ধানা (Smriti Mandhana) ও সংগীত পরিচালক পলাশ মুচ্ছলের (Palash Muchhal) সম্পর্ক যে ভেঙে গেছে, তা ঠারেঠোরে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল। বিষয়টা স্পর্শকাতর তাই এ ব্যাপারে জল্পনা থাকলেও অনেকে বাইরে মন্তব্য করার থেকে সংযত ছিলেন। কিন্তু রবিবার প্রথমে স্মৃতি ও পরে পলাশের বিবৃতির পর গোটা ঘটনাক্রম এখন জলের মতই স্বচ্ছ। তা হল মালাবদলের দিনই পলাশের সঙ্গে সম্পর্কে ছেদ টানেন স্মৃতি। সাঙ্গলীতে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেদের মতে, পলাশের সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্কের কথা বিয়ের সকালে জানতে পেরে ভেঙে পড়েন তিনি। তার পর মুহূর্তে বিয়ে বাতিল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন শান্ত অথচ স্বভাবে জেদি মেয়ে। অবিশ্বাসের সম্পর্ক কোনওমতেই আর টেনে নিয়ে যেতে চাননি তিনি।
বিয়ের দিনই এভাবে সবটা ভেস্তে যাওয়াতেই স্মৃতির বাবা শ্রীনিবাস মান্ধানা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তা ছাড়া শ্রীনিবাস হাসপাতালে ভর্তি যাওয়ায় বিয়ে ভেস্তে দেওয়ার ব্যাপারটা তাৎক্ষনিক ভাবে গোপন রাখতে সুবিধাও হয়। প্রাথমিক অস্বস্তি এর ফলে এড়ানোর চেষ্টা করে মান্ধানা পরিবার। তবু স্মৃতিকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় মুচ্ছল পরিবার। কখনও পলাশের মা, কখনও বা তাঁর বোন পলক মুচ্ছল স্মৃতিকে ফোন করে বা তাঁর বাবা শ্রীনিবাসকে ফোন করে মিটমাটের চেষ্টা করেন। এমনকি পলাশের মা সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দাবি করেন, স্মৃতির বাবা শ্রীনিবাসের প্রতি অতিশয় শ্রদ্ধাশীল পলাশ। শ্রীনিবাসের সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক বাবা-ছেলের মতো।
স্মৃতির সহানুভূতি আদায়ে সাঙ্গলী থেকে মুম্বই ফিরে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন পলাশ মুচ্ছল। তাঁর মা দাবি করেছিলেন, বিয়ে পিছিয়ে যাওয়ায় পলাশ ভেঙে পড়েছেন। সারা রাত কান্নাকাটি করেছেন। কিন্তু কিছুতেই আর নরম করা যায়নি স্মৃতি মান্ধানাকে। তাঁর সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন স্মৃতি। আর তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে যান জেমাইমা রড্রিগেজ, হরমনপ্রীত সহ গোটা মহিলা ভারতীয় টিম।
বাবা শ্রীনিবাস মন্ধানা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দিনই স্মৃতি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রি ওয়েডিং সব ছবি ও ভিডিও মুছে দেন। শুধু স্মৃতি নন, তাঁর সতীর্থরাও সবাই ইনস্টা পোস্ট মুছে দেন। তাঁদের প্রোফাইল থেকে হলদির অনুষ্ঠানের সব পোস্ট সরিয়ে ফেলেন। এমনকি ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে হাঁটুমুড়ে পলাশ যে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই ভিডিওটিও ডিলিট করে দেন স্মৃতি। তাতেঅ জল্পনা আরও বাড়ে—বিশেষত পালাশের বিরুদ্ধে ওঠা ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনার ঝড় বইতে থাকে নেটমাধ্যমে।
জেমাইমা রড্রিগেজ আচমকা সফর বাতিল করেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন
এই জল্পনার মধ্যে আরও নতুন মাত্রা যোগ করে জেমাইমা রড্রিগেজের হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরা। ২০২৫–২৬ মরশুমে উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে (WBBL) ব্রিসবেন হিট দলে খেলছিলেন তিনি। তিনটি ম্যাচ খেলার পর হঠাৎই ভারত ফিরে আসেন। জানা যায়, তিনি আর ফেরত যাচ্ছেন না। ব্রিসবেন হিট এক বিবৃতিতে জানায়—“জেমাইমা রড্রিগেজ তাঁর প্রি–অ্যারেঞ্জড কমিটমেন্ট অনুযায়ী ভারতীয় সতীর্থ স্মৃতি মন্ধানার বিয়েতে যোগ দিতে দেশে ফিরেছিলেন। তবে স্মৃতির বাবার অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় তিনি আর লিগে যোগ দিচ্ছেন না।”
এর পর শনিবার স্মৃতি সোশাল মিডিয়ায় যে পোস্ট করেন, তাতে দেখা যায় তাঁর হাতে আর এনগেজমেন্ট রিংটাও নেই। ফলে তখন আরও স্পষ্ট হয়ে যায়, বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও বিবৃতি আসা এখন সময়ের অপেক্ষা।
রবিবার দুপুরে স্টোরি শেয়ার করেন স্মৃতি (Smriti Mandhana Statement)। তাতে লেখেন, 'গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিডিয়ায় আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নানা ধরনের অজানা ও বিভ্রান্তির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে আমার মনে হল, আমার নিজেরই সঠিক তথ্যটা প্রকাশ করা উচিত। আমার জীবনকে ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করি। তবে, এই মুহূর্তে কোনও রাখঢাক না করেই বলতে চাই, যে বিয়ে বাতিল (Smriti Mandhana Wedding Called Off) করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করছি, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা এখনই বন্ধ হোক। আর কোনও অযথা জল্পনা তৈরি করবেন না। বিনীতভাবে সবাইকে অনুরোধ করছি দুই পরিবারের ব্যক্তিগত জীবন ও গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। আমরা একটু সময় চাইছি, যাতে আমরা নিজেদের জীবনে এগিয়ে যেতে পারে।'
এখানেই শেষ নয়, স্মৃতি (Smriti Mandhana-Paalash Muchhal) আরও বলেছেন, 'আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জীবনে একটি বড় লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য আছে যা আমাদের প্রত্যেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমার জীবনের ক্ষেত্রে, সেই লক্ষ্য হল দেশের হয়ে খেলতে থাকা এবং দেশের জন্য সাফল্য অর্জন করা। আমার এই লক্ষ্য সব সময়ই প্রাধান্য পাবে এবং আমি সেটিকে বজায় রেখে চলব। দেশের হয়ে খেলা এবং জয়ের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব অর্জন করা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাধান্য। এই লক্ষ্যই আমার জীবনের মূল ফোকাস এবং এটি ভবিষ্যতেও পরিবর্তিত হবে না। এই সময় আমি সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা সবসময় আমাকে সমর্থন করেছেন এবং এই সমর্থন আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন সময় এসেছে এগিয়ে যাওয়ার, নতুন অধ্যায় শুরু করার এবং নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার। আশা করি, সবাই আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন।'
এরপরই মুখ খোলেন পলাশ। স্টোরিতে লেখেন, 'গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনলাইন জল্পনা-কল্পনা যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তা সামলানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। যা আমার কাছে সবচেয়ে পবিত্র, সে সম্পর্কে ভিত্তিহীন গুজব দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় চলছে। নিজের বিশ্বাস আঁকড়ে আমি বিষয়টি মর্যাদার সঙ্গে সামলাব।'
তিনি সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমরা যেন কারও সম্পর্কে যাচাই না করে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকি। কারও কথায় যে কত গভীর আঘাত লাগতে পারে, তা আমরা অনেক সময় বুঝিই না।'
ডিজিটাল দুনিয়ায় লাগামছাড়া অনুমান-অভিযোগের জেরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথেও হাঁটছেন সংগীত পরিচালক। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা মিথ্যা ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে টিম কঠোর আইনি পদক্ষে করবে। পাশাপাশি সমর্থন জানানোর জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।