চলতি মরশুমে কেল্লাফতে হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকেরা। ১৮ নম্বর জার্সির বিরাট কোহলি (Virat Kohli) তাঁর ১৮তম সিজনে আইপিএল ট্রফি হাতে তুলবেন—এমন খোয়াব দেশের তামাম বিরাট-ভক্ত দেখতে শুরু করেছেন।

শেষ আপডেট: 2 June 2025 18:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনবার ফাইনালে। তিনবারই অল্পের জন্য ট্রফি (IPL Trophy) হাতছাড়া।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) আইপিএল (IPL) জার্নি বরাবর যন্ত্রণার। কোনওবার প্লে-অফ (Play-Off) পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলে নক আউটে ছন্দপতন৷ কখনও গ্রুপের লড়াইয়ে নাস্তানাবুদ হওয়া। তারকাখচিত দল গড়েও আইপিএলের তাজ আরসিবির মাথায় ওঠেনি।
চলতি মরশুমে কেল্লাফতে হওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকেরা। ১৮ নম্বর জার্সির বিরাট কোহলি (Virat Kohli) তাঁর ১৮তম সিজনে আইপিএল ট্রফি হাতে তুলবেন—এমন খোয়াব দেশের তামাম বিরাট-ভক্ত দেখতে শুরু করেছেন।
গ্রুপ স্তরে খুব একটা খারাপ খেলেনি বেঙ্গালুরু। দীর্ঘ দিন ধরে চলা লিগ। মাঝেমধ্যে চোট-আঘাতে খেলোয়াড় বাইরে চলে যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত জার্নির ধকল নিতে হচ্ছে। আর এর ফলে মাঝেসাঝে ম্যাচ হারাটা স্বাভাবিক।
কিন্তু এ বছর যেটা নতুন, আগে দেখা যায়নি, সেটা হচ্ছে ঘরের বাইরে আরসিবির দুর্দান্ত ফর্ম। প্লে-অফের আগে পর্যন্ত সাতটি অ্যাওয়ে ম্যাচের প্রত্যেকটি লড়াই জিতেছে। প্রথম কোয়ালিফায়ারেও একই ছবি। গ্রুপ লিগের এক নম্বর দল পাঞ্জাবের ঘরের মাঠ মুল্লানপুর ছিল ম্যাচের ভেন্যু। গত বৃহস্পতিবার সেখানে ছন্দে থাকা শ্রেয়স আইয়ারের বাহিনীকে একপেশে লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন বিরাটরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাব কিংস তোলে মাত্র ১০১ রান। জবাবে বেঙ্গালুরু মাত্র ১০ ওভারে টার্গেট চেজ করে। ওপেনার ফিল সল্ট ২৬ বলে ৫৭ হাঁকান। ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস সাজান বিরাটও৷
কিন্তু আগামিকাল ফাইনালে নামার আগে আরসিবিকে মোটেও স্বস্তিতে রাখবে না তাদের দু:স্বপ্নের ইতিহাস! তিনবার অন্তিম দ্বৈরথের মঞ্চে পৌঁছেও অল্পের জন্য সেরার শিরোপা দখল সম্ভব হয়নি!
ফিরে দেখা যাক সেই তিন ফাইনাল:
১. ২০০৯: সেবার আইপিএল ফাইনাল হয়েছিল দেশের বাইরে, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গে। প্রতিপক্ষ ডেকান চার্জার্স৷ যারা প্রথমে নেমে ১৪৩ রান করে। পরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট খুইয়ে ১৩৭ রান তোলে আরসিবি। জয় হাতছাড়া হয় মাত্র ৬ রানে!
২. ২০১১: দু'বছর বাদে ফের ফাইনালে। এবার সামনে চেন্নাই সুপার কিংস। ধোনির নেতৃত্বে সিএসকে তখন দুরন্ত ফর্মে৷ ২০ ওভারে তোলে ২০৫ রান। জবাবে ১৪৭ রানেই শেষ হয় আরসিবির ইনিংস৷ ৫৮ রানে পরাজয়৷ সমস্ত দিক দিয়ে একপেশে ফাইনাল।
৩. ২০১৬: ষোলোতে সামনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এবারও পরে ব্যাট করতে নামে আরসিবি এবং হায়দরাবাদের তোলা ২০৮ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭ উইকেট খুইয়ে বানায় ২০০ রান৷ এবারও অল্পের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয় বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরুর৷
আগামিকাল গুজরাতের আমদাবাদে ভাগ্যবদল হয় কি না, আরসিবি সমর্থকেরা আপাতত সেদিকে তাকিয়ে৷