রবিবার ভরাডুবির পর পাকিস্তানের খেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন শোয়েব আখতার। বললেন, ‘‘স্বপ্নেও ভারতকে হারানোর ক্ষমতা নেই এই দলের।’

শোয়েব আখতার ও নকভি
শেষ আপডেট: 16 February 2026 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় মনে হয়েছিল ৯৭ রানেই হয়তো ম্যাচ গুটিয়ে যাবে। কিন্তু শেষের কয়েকটা রান পাকিস্তানকে ১১৪ পর্যন্ত নিয়ে যায়। লক্ষমাত্রার সঙ্গে ব্যবধান কমলেও ৬১ রানে হেরে যায় আঘার দল। ম্যাচে ভরাডুবির জন্য এবার গোটা পাকিস্তান ক্রিকেটকে দায়ী করলেন প্রাক্তন পেসার শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar)। ম্যাচ শেষে তিনি সরাসরি দাবি করেন, এই পাকিস্তান দিয়ে ভারতকে হারানোর স্বপ্ন দেখাও ভুল! আদৌ কি পাকিস্তান রবিবার ম্যাচে ছিল? সংশয় প্রকাশ করেন শোয়েব।
এক সাক্ষাৎকারে রবিবার তিনি বলেন, ‘শাহিন ১২৫ কিমি বেগে বল করছে! আধুনিক ক্রিকেটে এটা চলে না। ১৫–২০ বছর ধরে কোনও ইনভেস্টমেন্ট নেই। একসময় মাঠে ভারত–পাকিস্তান লড়ত। আজ ভারতকে হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না। যে লোক কিছুই জানে না, তাকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। আর যিনি ম্যাচ জেতাতে পারেন না, তাঁকে সুপারস্টার করে দেওয়া হয়েছে।’
ইশান–সূর্য–দুবে মিলে ম্যাচের ভোল বদল
টসে জিতে ফিল্ডিং নেয় পাকিস্তান। ভারতের শুরুটা আসে ইশান কিষানের (Ishan Kishan) ব্যাটে। ৪০ বলে ৭৭ রান, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ৩২ রান (২৯ বল) এবং শিভম দুবে (Shivam Dube) ১৭ বলে ২৭ রান করে দলকে নিয়ে যায় ১৭৫/৭-এ।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন আয়ুব—৪ ওভারে ৩/২৫। উইকেট পেলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি (Shaheen Shah Afridi), উসমান তারিক ও সলমান আলি আঘা।
রান তাড়া করতে নেমে ভয়াবহ শুরু পাকিস্তানের
দ্বিতীয় বলেই সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya)। পরের ওভারে যশপ্রীত বুমরা (Jasprit Bumrah) ফেলে দেন সাইম আয়ুব ও আঘাকে। দুই ওভার শেষে পাকিস্তান ১৩/৩।
ধীরে শুরু করা বাবর আজম (Babar Azam)-কে পরে আউট করেন অক্ষর। ১০ ওভারে স্কোর তখন ৭১/৪। উসমান খান ৪৩-এ লড়লেও, অক্ষরের বলে তাঁর স্টাম্পিং করেন ঈশান। ১০.৪ ওভারে পাকিস্তান পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে।
এরপর একে একে ফিরেছেন মহম্মদ নওয়াজ, শাদাব, ফহিম আশরাফ, আবরার আহমেদ। ১৫.৩ ওভারে পাকিস্তান ৯৭/৮। শেষে উসমানকে বোল্ড করে পাকিস্তানকে ১১৪-তে গুটিয়ে দেন হার্দিক। ১৮ ওভারেই ম্যাচ শেষ।
ভারতের সেরা বোলার অক্ষর পটেল (Axar Patel) ৪ ওভারে ২/২৯। হার্দিক, বুমরা, বরুণ চক্রবর্তীও পান ২টি করে উইকেট।
ম্যাচ শেষে আখতার ফের বলেন, ‘এখানে প্রতিযোগিতাই ছিল না। ভারত এসেছে ট্রফি ডিফেন্ড করতে। আমরা তো লড়াই করতেই পারলাম না।’
দলের প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড়ের কথা কতোটা টনিক হিসেবে পাক দল নেয়, সেটা সময় বলবে। আপাতত চারিদিকে সমর্থকদের বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ্যে।