মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার থাকতেন, তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো?

শশী থারুর-মুস্তাফিজুর রহমান
শেষ আপডেট: 3 January 2026 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Sashi Tharoor)। তাঁর সাফ কথা—খেলাধুলাকে নির্বিচারে রাজনীতির হাতিয়ার করা উচিত নয়।
বিসিসিআই-এর নির্দেশে শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর মুস্তাফিজকে দল থেকে মুক্ত করার পরই থারুর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন,“আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি— একটা দেশকে, একজন ব্যক্তিকে, না তাঁর ধর্মকে? খেলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?”
‘ধর্ম অন্য হলে প্রতিক্রিয়া আলাদা হতো?’
থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার থাকতেন, তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো? তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত খেলাধুলার মূল ভাবনাকেই আঘাত করছে।
‘সংখ্যালঘু নির্যাতনের দায় ক্রিকেটারের নয়’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভারতকে অবশ্যই ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখতে হবে। কিন্তু সেই ঘটনার দায় কোনও ক্রিকেটারের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য ও অযৌক্তিক।
থারুর বলেন, “মুস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি, কোনও হিংসায় যুক্ত নন। তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ— এই দুটো বিষয় গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়,”
আইপিএল নিলাম থেকে বিতর্কের কেন্দ্রে
ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২০ কোটি টাকায় দলে নেয় কেকেআর। তখন বিষয়টি ছিল একেবারেই ক্রিকেটকেন্দ্রিক। কিন্তু বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে মুস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন।
‘খেলাধুলা দিয়ে প্রতিবেশীকে একঘরে করা সমাধান নয়’
থারুর সতর্ক করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলিকে খেলাধুলার মাধ্যমে একঘরে করে দেওয়ার নীতি দীর্ঘমেয়াদে কোনও সুফল আনবে না। তাঁর কথায়, “ভারতের মতো বড় দেশের উচিত বড় মন আর বড় দৃষ্টিভঙ্গি রাখা”।
তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ
এর আগে বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার জন্য শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আক্রমণ করেন। শিবসেনা ও বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর ‘অত্যাচার’ চলার সময়ে সে দেশের ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া যাবে না। এই আবহেই শশী থারুরের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢেলেছে। প্রশ্ন একটাই—খেলার মাঠ কি আদৌ রাজনীতির লড়াইয়ের জায়গা হওয়া উচিত?