বিধ্বংসী ইনিংসের পথেই মার্লন স্যামুয়েলসের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের নতুন নজির গড়লেন সঞ্জু।

কোহলিকেও ছাপিয়ে গেলেন সঞ্জু
শেষ আপডেট: 8 March 2026 21:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঞ্জুর সংহার। রবিবাসরীয় আমদাবাদ তাই দেখল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup Final) ফাইনালে কিউয়ি বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। এই বিধ্বংসী ইনিংসের পথেই মার্লন স্যামুয়েলসের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে (Sanju Samson breaks Marlon Samuels record) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের নতুন নজির গড়লেন সঞ্জু (T20 World Cup Final personal record Sanju Samson)।
কোহলিকেও ছাপিয়ে গেলেন সঞ্জু
ফাইনালে সঞ্জুর এই ইনিংস কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যামুয়েলসকেই নয়, ছাপিয়ে গিয়েছে বিরাট কোহলিকেও (Sanju Samson breaks Virat Kohli record)। ২০১৪ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বিরাটের ৭৭ রানের ইনিংসটি এতদিন ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। আজ ঘরের মাঠে সেই রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন সঞ্জু। সেই সঙ্গে শাহিদ আফ্রিদি এবং বিরাট কোহলির পর বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল— দুই ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগের দিন সঞ্জু স্যামসনকে প্রশংসা ভরিয়ে দিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব। প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ার পরও কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। সেই পরিশ্রমের ফল পেলেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে ভাল রান করে, শুধু ভাল রান নয় সাবধানী ব্যাটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৪৬ বলে ৮৯ করলেন তিনি। এবারও শতরান অধরা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে রান পাননি সঞ্জু। ফর্মে না থাকায় বিশ্বকাপের প্রথম কয়েকটি ম্যাচেও সুযোগ দেওয়া হয়নি তাঁকে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যর্থ হন। তার পর সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ফেরানো হয় তাঁকে। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকে প্রশ্ন করা হয়, সঞ্জু এত ভাল খেলছেন। কী দেখে ওকে প্রথম একাদশে ফেরানো হয়েছিল? সূর্য বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের আগে আমরা যে শেষ সিরিজটা খেলেছিলাম, তখন প্রথম ব্যাটার ছিল অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশন এবং সঞ্জু। ডানহাতি-বাঁহাতি সমন্বয় করা হয়েছিল। এই ধরনের সমন্বয়ের সুফল আমরা জানি। তার পর সঞ্জু যখন খেলছিল না, তখনও আমরা দেখেছি অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করত। দলের জন্য যা যা করতে পারে, সব করত অনুশীলনে। যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলের বাইরে থাকার সময় যে পরিমাণ পরিশ্রম করেছে, এখন তারই প্রতিদান পাচ্ছে। শেষ তিন-চারটে ইনিংসে যে ভাবে ব্যাট করছে, সেটা ওই পরিশ্রমের ফল।’’
১৮ বলের ‘অভিষেক’ ধামাকা
সঞ্জু যখন একদিক ধরে রেখেছিলেন, অন্যপ্রান্তে তখন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন অভিষেক শর্মা। চলতি বিশ্বকাপে ফর্মের ধারেকাছে না থাকা অভিষেক মোক্ষম সময়েই জ্বলে ওঠেন। মাত্র ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করে এই বিশ্বকাপের দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল এইডেন মার্করাম, জেকব বেথেল এবং শিমরন হেটমেয়ারদের (১৯ বল)। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসেও এটিই দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি।