এই বিধ্বংসী ইনিংসের মাধ্যমে অভিষেক টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতরান করলেন। তবে সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি হলো— বিশ্বকাপের যেকোনো নকআউট ম্যাচে এটিই এখন দ্রুততম ফিফটি।

শেষ আপডেট: 8 March 2026 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমালোচনা, প্রশ্ন আর পাহাড়প্রমাণ চাপ— সব কিছুর জবাব দিলেন মাঠেই। টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের (India vs New Zealand Final) মতো হাই-ভোল্টেজ মঞ্চে ব্যাট হাতে টর্নেডো তুললেন ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নাস্তানাবুদ করে মাত্র ১৮ বলে ৫০ রান পূর্ণ করে ইতিহাস ((Abhishek Sharma 18 ball fifty) গড়লেন তিনি।
এই বিধ্বংসী ইনিংসের মাধ্যমে অভিষেক টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতরান করলেন। তবে সবচেয়ে বড় রেকর্ডটি হলো— বিশ্বকাপের যেকোনো নকআউট ম্যাচে এটিই এখন দ্রুততম ফিফটি।
ভাঙল মেন্টর যুবরাজ সিংয়ের রেকর্ড (Abhishek Sharma breaks Yuvraj Singh record)
অভিষেকের এই ইনিংসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হলো, তিনি ভেঙে দিয়েছেন তাঁরই মেন্টর কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০০৭ সালের প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে যুবরাজ ২০ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন। গুরুকে ছাপিয়ে এবার মাত্র ১৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করলেন শিষ্য অভিষেক।
পুরো ইনিংসে তিনি ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়ে কিউই বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং ভারতকে এক বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।
সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
চলতি বিশ্বকাপে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে কম কাটাছেঁড়া হয়নি। বিশ্বের এক নম্বর টি-২০ ব্যাটার হওয়া সত্ত্বেও আগের সাত ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ৮৯ রান। সুনীল গাভাসকর ও সঞ্জয় মাঞ্জরেকরের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররা সরাসরি তাঁর দলে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তবে কঠিন সময়ে তাঁর ওপর আস্থা হারাননি কোচ গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্ট। ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে জ্বলে উঠে অভিষেক প্রমাণ করে দিলেন কেন তাঁকে আগামীর সুপারস্টার বলা হয়।
পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড
অভিষেক শর্মার তাণ্ডব এবং অন্য প্রান্তে সঞ্জু স্যামসনের মারকুটে মেজাজে পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় ভারত। প্রথম ৬ ওভারে ভারত তোলে ৯২ রান, যা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ারপ্লেতে সর্বোচ্চ স্কোর।
এক সময় যাঁর ফর্ম নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ছিল, সেই অভিষেক শর্মাই আজ প্রমাণ করলেন— বড় ক্রিকেটাররা সবসময় বড় মঞ্চেই নিজেদের জাত চেনান।