২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে রোহিত শর্মা নিবিড় ফিটনেস ও অনুশীলনে এগিয়ে, যেখানে বিরাট কোহলি কিছুটা পিছিয়ে।

রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে দুই স্তম্ভ রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির ক্রিকেট-প্রস্তুতিতে যেন এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই দুই তারকার 'খিদে' বা 'আকাঙ্ক্ষা'র স্তরে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে, রোহিত শর্মা যেখানে নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে ওয়ানডে সেটআপে ধরে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, সেখানে বিরাট কোহলির মধ্যে সেই তীব্রতার অভাব দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের জন্য রোহিত শর্মার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সফরের অনেক আগে থেকেই। জানা গিয়েছে, ভারতীয় দলের অধিনায়ক তাঁর ফিটনেস নিয়ে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছেন।
রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, রোহিত শর্মা প্রায় ১১ কিলোগ্রাম ওজন কমিয়েছেন। এই পরিবর্তন রাতারাতি হয়নি। 'হিটম্যান' নামে পরিচিত রোহিত ভারতীয় দলের প্রাক্তন সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারের সঙ্গে মাসাধিক কাল ধরে নিবিড় অনুশীলন করেছেন। তাঁর এই প্রস্তুতি ২০২৭ বিশ্বকাপের দিকেই যে চোখ তা স্পষ্ট।
পার্থে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ৮ রান করার পর অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৩ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে রোহিত তাঁর পরিশ্রমের ফল দেখিয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের পেস আক্রমণের মোকাবিলায় তাঁর খেলার ধরনে পরিবর্তন এনে আরও রক্ষণশীল পদ্ধতিতে ব্যাট করেছেন।
বিরাট কোহলির সাম্প্রতিক কার্যকলাপ অবশ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোহলি তাঁর বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্টের জন্য ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি (এনসিএ) যাননি। বরং দলের অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার ঠিক আগে ভারতে এসে তিনি উড়ে যান।
অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন তিনি নেট সেশনেও অনুপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই ম্যাচে তিনি শূন্য রানে আউট হন। কোহলির ফিটনেস কিংবদন্তী হলেও, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিনি হয়তো তাঁর পুরনো ভিত্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছেন এবং প্রয়োজনীয় ম্যাচ অনুশীলন বা অতিরিক্ত নেট সেশনে সেইভাবে জোর দিচ্ছেন না।
তাঁর ব্যাটে মরচে ধরা স্পষ্ট, যার ফলস্বরূপ পর পর দুই ম্যাচে শূন্য রান। অন্যদিকে, যশস্বী জয়সওয়ালের মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার রিজার্ভ বেঞ্চে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেও কোহলির মধ্যে যেন সেই তাড়না দেখা যাচ্ছে না।
২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতার কারণে কোহলির মধ্যে হয়তো এই চতুবার্ষিক ইভেন্টের প্রতি সেই একই 'খিদে' নেই, কিন্তু রোহিত শর্মা তাঁর কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত কোনও সাদা বলের আইসিসি ট্রফি জিততে পারেননি। তাই মনে করা হচ্ছে, অতীতের হতাশা ভুলে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রোহিতের আকাঙ্ক্ষা এখন কোহলির চেয়ে অনেক বেশি তীব্র।