শেষ বিচারে ফেডেরার কেবল ট্রফি জেতেননি। খেলার ভঙ্গি, মসৃণ ফুটওয়ার্ক, আক্রমণাত্মক অল-কোর্ট টেনিস—সব মিলিয়ে এক কাঙ্ক্ষিত আদর্শ গড়ে দিয়েছেন।

রজার ফেডেরার
শেষ আপডেট: 12 February 2026 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবসর নিয়েছেন চার বছর। তবু চাহিদা কমেনি এতটুকু। রজার ফেডেরার (Roger Federer) আবার প্রমাণ করলেন, টেনিসে বক্স অফিস মুখ এখনও তিনিই। ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অব ফেমে (International Tennis Hall of Fame) তাঁর অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠান ঘিরে টিকিট বিক্রি শুরু হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মাত্র ১২০ সেকেন্ডে—অর্থাৎ দু’মিনিটে—বিক্রিবাটা শেষ। আয়োজক সংস্থা আগেই আসনসংখ্যা বাড়িয়েছিল। তবু চাহিদার চাপে কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।
আয়োজনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, মূল অনুষ্ঠানের জন্য ৯০০টি টিকিট ছিল। বাড়তি হিসেবে ৩৬০০ আসনের স্টেডিয়াম খুলে ‘ওয়াচ পার্টি’-র ব্যবস্থাও করা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টিকিট। কিন্তু সবই শেষ দু’মিনিটে। হল অব ফেমের মুখপাত্র মেগান এরবেস-ও (Megan Erbes) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে ২৯ অগস্ট, নিউপোর্টে (Newport)। একই দিনে সম্মানিত হবেন প্রখ্যাত সম্প্রচারক মেরি ক্যারিলো (Mary Carillo)।
নিউপোর্টে ঐতিহাসিক আসর
টেনিস হল অব ফেমের সদর দপ্তর উনিশ শতকের নিউপোর্ট ক্যাসিনো (Newport Casino) ভবনে। সম্প্রতি প্রায় ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার খরচ করে সংস্কার করা হয়েছে। সামনে ফেডেরার এবং সেরেনা উইলিয়ামসের (Serena Williams) মতো কিংবদন্তিদের অন্তর্ভুক্তি অনুষ্ঠান মাথায় রেখেই প্রস্তুতি। এমনিতে ছেলেদের বিভাগে রজার ফেডেরার-ই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক খেতাব জিতেছেন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই কীর্তির স্বীকৃতি মিলতে চলেছে। অবসরের পরও তাঁর জনপ্রিয়তা যে অটুট, টিকিট বিক্রির এই হিড়িক-ই তার প্রমাণ।
কেরিয়ারের অমলিন অধ্যায়
ফেডেরারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে, উইম্বলডনে (Wimbledon)। সেখানেই প্রথম বড় শিরোপাজয়। ২০০৯ সালে একই মঞ্চে পিট সামপ্রাসের (Pete Sampras) ১৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ড ভেঙে দেন। অ্যান্ডি রডিককে (Andy Roddick) হারানো সেই ফাইনাল গড়িয়েছিল ১৬-১৪ পর্যন্ত।
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন (Australian Open) জিতে তাঁর মেজর সংখ্যা দাঁড়ায় কুড়িতে। পরে রাফায়েল নাদাল (Rafael Nadal) ২২ এবং নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic) ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামে পৌঁছে সাফল্যের মানদণ্ড আরও উঁচুতে তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানের হিসেবে ফেডেরারের ঝুলি ভরপুর। ১০৩টি টুর-স্তরের খেতাব। ১২৫১টি ম্যাচ জিতেছেন। ওপেন যুগে এই হিসেব ছাপিয়েছেন একমাত্র জিমি কোনর্স (Jimmy Connors)। তা ছাড়া এটিপি (ATP) র্যাঙ্কিংয়ে মোট ৩১০ সপ্তাহ শীর্ষে থেকেছেন রজার। টানা ২৩৭ সপ্তাহ বিশ্ব এক নম্বর—এখনও রেকর্ড। ২০১৪ সালে সুইজারল্যান্ডকে (Switzerland) ডেভিস কাপ (Davis Cup) জেতান। ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকে (Beijing Olympics) স্টান ভাভরিঙ্কার (Stan Wawrinka) সঙ্গে জুটি বেঁধে ডাবলসে সোনা। ২০২২ সালে লেভার কাপে (Laver Cup) নাদালের সঙ্গেই ডাবলস খেলে বিদায় নেন।
শেষ বিচারে ফেডেরার কেবল ট্রফি জেতেননি। খেলার ভঙ্গি, মসৃণ ফুটওয়ার্ক, আক্রমণাত্মক অল-কোর্ট টেনিস—সব মিলিয়ে এক কাঙ্ক্ষিত আদর্শ গড়ে দিয়েছেন। আজকে দুনিয়ার এক নম্বর কার্লোস আলকারাজ-সহ (Carlos Alcaraz) নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁকে অনুসরণ করেন। অবসরের পরেও তাই নাম ঘোষণা হতেই টিকিট উধাও বুঝিয়ে দেয়, বক্স অফিসে এখনও ফেডেরারই রাজা।