এক মাস আগেই প্যারিসে মুখোমুখি দুজন। শেষ হাসি হেসেছিলেন আলকারাজ। তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে জিতেছিলেন ফাইনাল।

সিনার-আলকারাজ
শেষ আপডেট: 13 July 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঞ্চ বদলাল। কিন্তু দ্বৈরথের শিরোনাম পাল্টাল না।
প্রত্যাশা মেনেই উইম্বলডনের ফাইনালে ফের মুখোমুখি কার্লোস আলকারাজ ও ইয়ানিক সিনার। ফরাসি ওপেনের পরে একজনের সামনে বদলা নেওয়ার সুযোগ। অন্যজন চাইবেন আধিপত্যকে ‘একচ্ছত্র’ করে তুলতে।
এক মাস আগেই প্যারিসে মুখোমুখি দুজন। শেষ হাসি হেসেছিলেন আলকারাজ। তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে জিতেছিলেন ফাইনাল। সেই ম্যাচ কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেনিস দ্বৈরথের তকমা পেয়েছে।
যদিও এতশত না ভেবে এবার বদলা নিতে চান ইয়ানিক সিনার। মঞ্চ উইম্বলডন। লড়াই এবার ঘাসের কোর্টে। যেখানে মোটেও পিছিয়ে নেই স্পেনীয় প্রতিপক্ষ। ইতিমধ্যেই দু’বার উইম্বলডন জিতে ফেলেছেন আলকারাজ। ২০২৩ ও ২০২৪—পরপর চ্যাম্পিয়ন। এবার জিতলে বিরল হ্যাটট্রিক। হবেন পঞ্চম খেলোয়াড়, যিনি টানা তিনবার এই খেতাব জিতেছেন। বিয়ন বর্গ, পিট সামপ্রাস, রজার ফেডেরার, নোভাক জোকোভিচের ঝলমলে তালিকায় নাম উঠবে।
অন্যদিকে, সিনার বিশ্বের এক নম্বর। আজ পর্যন্ত তিনটি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জিতেছেন—সব হার্ড কোর্টে। দু’বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, একবার ইউএস ওপেন। ঘাসে এটা প্রথম ফাইনাল।
এই নিয়ে ১৩ বার একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত আলকারাজ এগিয়ে (৮-৪)। টানা পাঁচটি ম্যাচে জিতেছেন তিনি। ফরাসি ওপেনে সিনার পেয়েছিলেন তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট। খেতাব তবু হাতে ওঠেনি। আলকারাজের কাছে হেরেছিলেন পাঁচ সেটে। সেই পরাজয়ের পর আবার এক মাসের মধ্যে ফাইনালে ওঠা বেশ বড় বার্তা।
সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণের পথ মসৃণ ছিল না। চতুর্থ রাউন্ডে দিমিত্রভের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েন। তারপর চোট পেয়ে প্রতিপক্ষ ওয়াকওভার দেন। যদিও হাতে পাওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে দুর্দান্ত খেলেছেন সিনার। সেমিফাইনালে হারিয়েছেন কাসপার রুডকে।
অন্যদিকে আলকারাজ বরাবরের মতো ভয়ঙ্কর ছন্দে। উইম্বলডনে টানা ১২টি ম্যাচ জিতেছেন। চলতি টুর্নামেন্টে একটাও সেট হারেননি। ফরাসি ওপেন জেতার পর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে।
সবমিলিয়ে মারকাটারি ফাইনালের অপেক্ষায় উইম্বলডন। দুই তারকার মধ্যে তুমুল রেষারেষি উত্তাপের আঁচ বাড়িয়েছে। গত ছ’টি গ্র্যান্ডস্ল্যামই দু’জন ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। যদিও নিজেরাই বলছেন, এই দ্বৈরথ এখনও ‘বিগ থ্রি’-র মতো অবিসংবাদী নয়। সিনারের কথায়, ‘ছ’টা গ্র্যান্ডস্ল্যাম মানে দেড় বছরের কাজ! আমরা যদি তিন-চার বছর ধরে ধারাবাহিকতা দেখিয়ে যাই, তখন তুলনা হতে পারে!’
একমত আলকারাজও। চাপা সুরে বলেছেন, ‘এমন লড়াই ভালো খেলার জন্য উৎসাহ দেয়। টেনিস অনুরাগীরা আমাদের খেলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সেটাই বড় কথা।’
রবিবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে আটটায় ম্যাচ শুরু। ফলাফল যাই হোক না কেন, উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে আজ ইতিহাস লেখা হবে। একজন ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রতিশোধ নিতে মাঠে নামবেন। অন্যজন চাইবেন চান টানা তিনবার উইম্বলডন জিতে কিংবদন্তিদের তালিকায় নাম তুলতে।