একদিকে সহজ জয়, অন্যদিকে রুদ্ধশ্বাস লড়াই। দুটো আলাদা ধাঁচের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরুষ বিভাগে কার্লোস আলকারাজ ও মহিলা বিভাগে আরিনা সাবালেঙ্কা উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পৌঁছলেন।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 July 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে সহজ জয়, অন্যদিকে রুদ্ধশ্বাস লড়াই। দুটো আলাদা ধাঁচের অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরুষ বিভাগে কার্লোস আলকারাজ ও মহিলা বিভাগে আরিনা সাবালেঙ্কা উইম্বলডনের সেমিফাইনালে পৌঁছলেন।
স্পেনের তারকা আলকারাজ বরাবরের মতো আগুনে ফর্মে। কোয়ার্টার ফাইনালে ঘরের ছেলে ক্যামেরন নরিকে হারালেন একপেশে ম্যাচে। স্কোরলাইন ৬-২, ৬-৩, ৬-৩। মাত্র ৯৯ মিনিটে লড়াই শেষ। মারলেন ৩৯টি উইনার। যার সুবাদে টানা তিন বছর সেমিফাইনালে উঠলেন আলকারাজ। ফরাসি ওপেন, মন্টে কার্লো ও রোম মাস্টার্সে চ্যাম্পিয়ন। টানা ২৩টি ম্যাচ অপরাজেয়। দুরন্ত ফর্মে থাকা টেনিস তারকার শেষ চারে প্রতিপক্ষ আমেরিকার টেলর ফ্রিটজ। যিনি আরেকটি কোয়ার্টারে হারিয়েছেন রাশিয়ার খাচানভকে। স্কোর: ৬-৩, ৬-৪, ১-৬, ৭-৬ (৭/৪)।
যদিও এই ম্যাচ আলকারাজ-নরি দ্বৈরথের মতো নিষ্প্রাণ ছিল না। প্রতিরোধ গড়েন খাচানভ। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যায় প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিতর্ক। ফ্রিটজের একটি শটে ‘ফল্ট’ কল দেওয়া হয়। যদিও আদতে তখনও বল বয় কোর্ট পার হচ্ছিল। সিস্টেম বুঝতে পারেনি পয়েন্ট শুরু হয়ে গেছে। ফলত ফের রি-প্লে চালু হয়। আয়োজকরা ক্ষমা চেয়ে নেন।
অন্যদিকে মেয়েদের বিভাগে সাবালেঙ্কার ম্যাচ ছিল রোমাঞ্চে ভরপুর। প্রতিপক্ষ জার্মানির লরা সিগমুন্ড। যিনি আন্ডারডগ হিসেবে শুরু করেও প্রথম সেট দাপটের সঙ্গে ছিনিয়ে নেন। যখন মনে হচ্ছে চমকপ্রদ অঘটন হলেও হতে পারে, ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়ান সাবালেঙ্কা। পরপর দুই সেট জিতে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলেন। স্কোরলাইন: ৪-৬, ৬-২, ৬-৪। তৃতীয় সেটে দু'বার পিছিয়ে পড়লেও শেষতক পদস্খলন হয়নি। প্রায় তিন ঘণ্টার লড়াই জিতে এই নিয়ে তৃতীয়বার উইম্বলডনের সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কা। এর আগে ২০২১ ও ২০২৩-এ শেষ চারে জায়গা পাকা করেছিলেন।
সাবালেঙ্কা চলতি বছর দুর্দান্ত ফর্মে। অস্ট্রেলিয়ান ও ফরাসি ওপেনে রানার্স-আপ। গত বছর ইউএস ওপেন জিতেছেন। এ বার লক্ষ্য, পরপর চারটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনাল খেলা। সেমিতে তাঁর প্রতিপক্ষ আমেরিকার আমান্ডা আনিসিমোভা। যিনি রাশিয়ার পাভলিউচেনকোভাকে হারিয়েছেন ৬-১, ৭-৬ (১১/৯) স্কোরলাইনে। তরুণী আনিসিমোভার প্রত্যাবর্তনের গল্পও রঙচঙে। মাত্র সতেরো বছর বয়সে ফরাসি ওপেন সেমিফাইনালে নামেন। তারপর আচমকা মানসিক অবসাদে ভুগে আট মাস কোর্টের বাইরে। এ বছর ফিরেই চমক! ফাইনালে উঠলে এবং উইম্বলডন জিতলে নিঃসন্দেহে টেনিসের লোককথায় নাম লেখাবেন আনিসিমোভা।