ইদানীং দেখা যাচ্ছে কিশোররাও ক্রমশ আসক্ত হয়ে পড়ছে এই অ্যাপগুলিতে। এই অ্যাপে টাকা লাগিয়ে উপার্জন করছেন গুটিকয়েক, কিন্তু অর্থ খোয়াচ্ছেন অনেকেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 30 May 2025 21:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি লিগ হল আইপিএল (IPL)। এর টিআরপি রীতিমতো পাল্লা দেয় লা লিগা বা ইংলিশ প্রিমিয়র লিগের সঙ্গে। জনপ্রিয় এই লিগের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে কিছু অনলাইন বেটিং অ্যাপের (Online Bating App) নামও। ফ্যান্টাসি প্ল্যাটফর্মে (Fantasy Platform) আইপিএল নিয়ে চলে দেদার বেটিং। আর বিজ্ঞাপনে এই অনলাইন বেটিং অ্যাপ প্রচার করছেন বর্তমান ও প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটাররাই (Cricketer)। বিজ্ঞাপনে (Advertisement) অবশ্য একটি বিধিসম্মত সতর্কতা লেখা থাকে। কিন্তু তাতে আর নজর দেন ক’জন।
সাধারণত এই অ্যাপগুলি বেশি আকর্ষণ করছে তরুণ প্রজন্মকে।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে কিশোররাও ক্রমশ আসক্ত হয়ে পড়ছে এই অ্যাপগুলিতে। এই অ্যাপে টাকা লাগিয়ে উপার্জন করছেন গুটিকয়েক, কিন্তু অর্থ খোয়াচ্ছেন অনেকেই। বিষয়টিকে অনেকেই মনে করছেন ‘নীরব মহামারি’ হিসাবে। ফোনে বেটিংয়ের অ্যাপস চালু করে এতে মনোযোগ দিতে গিয়ে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
সংবাদ সংস্থা আইএএনএস (INNS) সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি সার্ভে করেছে। তাপা এই বেটিং অ্যাপগুলির বিষয়ে ভুক্তভোগী কিছু মা–বাবার সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ৫৫ বছর বয়সি মণীষ আইএএনএসকে জানিয়েছেন, তাঁর ১৬ বছরের ছেলে অনলাইন বেটিং অ্যাপে রীতিমতো আসক্ত হয়ে পড়ে ৫০ হাজার টাকা খুইয়েছে। এরপর তিনি অবশ্য ছেলের ফোন থেকে অনলাইনে বেটিংয়ের তিনটি অ্যাপস মুছে ফেলেন।
মণীষ প্রশ্ন রেখেছেন অনলাইন বেটিংয়ের প্রচার চালানো তারকা ক্রিকেটারদের কাছে। তিনি আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “এটা হৃদয়বিদারক। ক্রিকেট এত দিন ছিল প্রেরণার ও খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার। আমার নায়কেরা কেন এমন কিছুর প্রচার চালাচ্ছেন, যেটা খুব বিপজ্জনক।”
শুধু মণীষ নন, এরকম প্রতিক্রিয়া এসেছে আরও অনেক অভিভাবকের কাছ থেকে। অপর এক অভিভাবক হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “বিসিসিআইয়ের ব্যস্ততা আরও অর্থ কী ভাবে উপার্জন করা যায়, সেই নিয়ে। আমাদের সন্তানদের কী হচ্ছে, সেটা তারা পাত্তা দেয় বলে মনে হয় না। শীর্ষসারির ক্রিকেটাররা এসব অ্যাপসের প্রচার চালাচ্ছেন, কিন্তু বোর্ড তাদের নিবৃত্ত করছে না। এমনকি কিছু বেটিং প্ল্যাটফর্ম বড় টুর্নামেন্টের স্পনসরও হচ্ছে। তারা স্মার্ট—এটাকে তারা বলে ফ্যান্টাসি খেলা, কিন্তু এটার সঙ্গে অর্থ জড়িত এবং দ্রুত আয়ের একটা পথ ভেবে অল্প বয়সিরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।”
আইএএনএস জানিয়েছে, ভারতে এ নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। ক্রিকেটপ্রেমী ও অভিভাবকরা চাইছেন, এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিক। ক্রিকেটাররা সমাজের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে আর কর্তব্য পরায়ন হোক।