আগামী ৯ অগস্ট থেকে প্রজ্ঞা খেলবেন সেন্ট লুইস র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিৎজে। ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কারমূল্য-সহ এই প্রতিযোগিতায় থাকছে ৯টি র্যাপিড ও ১৮টি ব্লিৎজ রাউন্ড।

প্রজ্ঞানন্দ ও কার্লসেন
শেষ আপডেট: 20 July 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে একবার হারানোই চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু তিন দিনের ব্যবধানে দু-দু’বার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তরুণ দাবাড়ু রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। লাস ভেগাসে ‘ফ্রিস্টাইল চেস গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্যুরে’র মঞ্চে ফের হারালেন কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে তাঁকে তিন নম্বরে থামতে হল।
শনিবার গভীর রাতে প্রথম খেলায় প্রজ্ঞানন্দ সাদা ঘুঁটি হাতে মাত্র ৪৩ চালে হারিয়ে দেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কার্লসেনকে। টাইম কন্ট্রোল ছিল ১০ মিনিট। শুরুর 'পজিশন নম্বর ৪১৪'-এ দুই দিক থেকে রাজা, একজোড়া গজ আর নৌকা দাঁড়িয়ে, মধ্যিখানে রাজা।
চতুর্থ চালে ছক ভাঙেন দুই দাবাড়ু। আর দশম চালেই স্পষ্ট হয়ে যায়, প্রজ্ঞানন্দের ঘুঁটি এগিয়ে। ঘড়ির কাঁটাতেও তিনি কার্লসেনকে পরাস্ত করেন। নরওয়ের দাবাড়ু যখন ৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে, প্রজ্ঞার হাতে ৯ মিনিট ১১ সেকেন্ড। যা দেখে বিশ্লেষক ভিনসেন্ট কেইমার বলতে বাধ্য হন, ‘কার্লসেন ফ্রিস্টাইল ওপেনিংয়ে দারুণ। কিন্তু আজ ওর পজিশন খুব খারাপ দেখাচ্ছে!’ শেষমেশ কুইন স্যাক্রিফাইস করেও ম্যাচ ঘোরাতে পারেননি কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার ৪৩তম চালেই গেঁথে ফেলেন জয়।
একই প্রতিযোগিতার আগের রাউন্ডেও নরওয়ের দাবাড়ুকে হারিয়েছিলেন বছর উনিশের প্রজ্ঞা। তিন ম্যাচ টানা জিতে হয়ে উঠেছিলেন গ্রুপ-এ-র সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়। বুধবারের ম্যাচে মাত্র ৩৯ চালেই হারিয়েছিলেন কার্লসেনকে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পরপর দু’বার গুকেশের হাতে পরাজিত হন দুনিয়ার পয়লা নম্বর দাবাড়ু। যা পরিস্থিতি, তাতে উঠতি প্রজন্মের ভারতীয় প্রতিপক্ষের সামনে চৌষট্টি খোপের দ্বৈরথে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ছেন ম্যাগনাস!
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স চেস ট্যুরে ১৬ বছর বয়সেই প্রথমবার কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। গত বছর নরওয়ে চেস প্রতিযোগিতায় ক্লাসিক্যাল ফর্ম্যাটেও একই ফল!
চেন্নাইয়ের এই তরুণ প্রতিভা দীর্ঘদিন ধরেই দাবাবিশ্বের নজরে। ভারতের অন্যতম কনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার। সদ্য রোমানিয়ার গ্র্যান্ড চেস ট্যুর জিতেছেন। এবার বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বারবার নিজেকে প্রমাণ করছেন… তাও এমন এক ফর্ম্যাটে, যেখানে চাল আগে থেকে জানা থাকে না, খেলার খোলনলচেই একপ্রকার বদলে দেওয়া হয়!
আসলে লাস ভেগাসে আয়োজিত এই ফ্রিস্টাইল দাবা গ্র্যান্ড স্ল্যাম একেবারেই অন্যধারার। এখানে প্রথাগত সূচির বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধাঁচায় খেলা। তাই খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, পজিশন মূল্যায়ন এবং সৃজনশীলতা—সবকিছুর একসঙ্গে পরীক্ষা চলে। এমন মঞ্চে কার্লসেনকে একাধিকবার হারিয়ে প্রজ্ঞা প্রমাণ করলেন, তিনি এখন স্রেফ ‘উদীয়মান প্রতিভা’ নন, প্রস্তুত দাবার বিশ্বমঞ্চ শাসন করতে।
আগামী ৯ অগস্ট থেকে প্রজ্ঞা খেলবেন সেন্ট লুইস র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিৎজে। ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কারমূল্য-সহ এই প্রতিযোগিতায় থাকছে ৯টি র্যাপিড ও ১৮টি ব্লিৎজ রাউন্ড। পাঁচ দিনে হবে মোট ১৩৫টি গেম। ছ’জন নিয়মিত ও চারজন ওয়াইল্ডকার্ড খেলোয়াড় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। এরপর তাঁকে দেখা যাবে সিনকিউফিল্ড কাপে।
প্রজ্ঞানন্দের এই জয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। আন্তর্জাতিক দাবায় ভারতের নতুন প্রজন্মের যে উত্থান শুরু হয়েছে, তারই ঝলক এই দু’দিনের পারফরম্যান্স।