২২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসীমা ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছিল, আইএসএল অচলাবস্থা কাটাতে ফেডারেশন ও এফএসডিএল আলোচনায় বসতে পারে। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 23:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে অবশেষে মুখোমুখি বসেছিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) ও ইন্ডিয়ান সুপার লিগের আয়োজক এফএসডিএল (ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড - FSDL)। সোমবারের সেই বৈঠককে ইতিবাচক বলেই বর্ণনা করেছে দুই পক্ষ। সব মিলিয়ে, দেরিতে হলেও আসন্ন মরসুমে আইএসএল (Indian Super League) আয়োজনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২২ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসীমা ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছিল, আইএসএল অচলাবস্থা কাটাতে ফেডারেশন ও এফএসডিএল আলোচনায় বসতে পারে। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কী হল এই বৈঠকে?
সূত্রের খবর, ফেডারেশন ও এফএসডিএল-এর মধ্যে চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকা চুক্তি অস্থায়ীভাবে আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। অর্থাৎ, আসন্ন মরসুমেও লিগ আয়োজনের দায়িত্ব এফএসডিএল-এর হাতেই থাকছে। এরপর নতুন নির্বাচিত ফেডারেশন কমিটি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ফেডারেশন ইতিমধ্যেই খসড়া সংবিধান প্রকাশ করেছে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের পর নতুন কমিটি গঠন হলে এফএসডিএল-এর সঙ্গে স্থায়ী চুক্তি প্রসঙ্গে আলোচনা চলবে।
ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে দুই পক্ষই মৌখিকভাবে এক প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে বিষয়টি এখন বিচারাধীন, তাই কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না। জানা গেছে, বুধবার ফের এক দফা বৈঠক হবে। ২৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে এই যৌথ প্রস্তাব পেশ করা হবে। ঠিক পরের দিন, বৃহস্পতিবারই আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি।
এর আগে আইএসএলের ১৩ ক্লাবের মধ্যে ১১টিই ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়েছিল। ফেডারেশন সুপ্রিম কোর্টে নড়াচড়া শুরু করলে ১৮ অগস্ট আদালত জানায়, ২২ তারিখে শুনানি হবে। সেই শুনানিতেই শীর্ষ আদালত আলোচনার নির্দেশ দেয়।
ক্লাবগুলির পক্ষের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, জাতীয় ক্রীড়া বিল ও ফেডারেশনের খসড়া সংবিধান চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আইএসএল ইস্যুতেও জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আদালত সব পক্ষের মতামত শোনার পরই অচলাবস্থা কাটানোর নির্দেশ দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আদালতের হস্তক্ষেপেই আপাতত বেঁচে গেল দেশের শীর্ষ লিগ। মরসুম শুরুতে হয়তো দেরি হবে, কিন্তু আলোচনার সদর্থক ইঙ্গিতেই ক্লাব ও সমর্থকদের আশার আলো জ্বলেছে।