ফাইনালে ডায়মন্ড হারবারকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ৬-১ গোলে জিতল জন আব্রাহামের ক্লাব।

ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড
শেষ আপডেট: 23 August 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হল না স্বপ্ন পূরণ। যে স্বপ্ন ডায়মন্ড হারবার এফসির সমর্থকরা দেখতে শুরু করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর পর থেকে। তিন আইএসএল ক্লাব মহামেডান, জামশেদপুর ও ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল কিবু ভিকুনার ছাত্ররা। কিন্তু ট্রফি জেতা আর হল না।
সারাদিনই আকাশের মুখ ভার। এই হালকা তো কয়েক পলকের মধ্যেই ভারী বৃষ্টি। তবুও হাজার হাজার মানুষ ছুটে চলেছেন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের উদ্দেশে। আজ যে ডুরান্ড ফাইনাল (Durand Cup Final)। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল নেই তো কি হয়েছে, বাংলারা ডায়মন্ড হারবার এফসি তো রয়েছে। তারা বঙ্গ ফুটবলকে এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ডুরান্ড ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড (Diamond Harbour vs North East)।
কিন্তু যে আশা নিয়ে আজ ডায়মন্ড সমর্থকরা যুবভারতী গিয়েছিলেন, তা আর পূরণ হল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাবকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ২০২৫ ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। ফাইনালে ডায়মন্ড হারবারকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ৬-১ গোলে জিতল জন আব্রাহামের ক্লাব।
ডায়মন্ড হারবার থেকে বাস, টেম্পো, ছোট হাতি, নিজস্ব গাড়ি নিয়ে এদিন সল্টলেক গিয়েছিলে অসংখ্য সমর্থক। গায়ে ক্লাবের জার্সি, মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছিল, ‘জয় ডায়মন্ড হারবার, জয় বাংলা’। দেখা গেল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, এমনকি আর্জেন্টিনার জার্সি পড়েও অনেকে চলেছেন যুবভারতীর উদ্দেশে। কাদাপাড়া মোড়ে বেশ কিছু যুবক-যুবতীকে দেখা গেল টিকিটের খোঁজ করছেন। রয়েছে খুদে সমর্থকদের ভিড়ও।
ঠিক পাঁচটায় যুবভারতীতে শুরু হয়ে গেল ফাইনালের আগের অনুষ্ঠান। সেনাবাহিনীর প্যারেড নানা কসরতের পর হল গানও। হেলিকপ্টার থেকে উড়ল ভারতীয় পতাকাও। গ্যালারিতে দেখা গেল সাদা-নীল-লালের আধিক্য। ডায়মন্ড হারবারের জার্সিতে তো এই তিন রঙই রয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলার এই ক্লাবের বেশির ভাগ টিফোতে দেখা গেল ডায়মন্ড হারবার এফসির পেট্রন তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। লেখা রয়েছে, 'অভিষেকেই বাজিমাৎ'। তবে ফাইনালের অপর দল নর্থ-ইস্টকে সমর্থন জানাতেও বেশ কিছু দর্শকও মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
ডুরান্ড ফাইনালে দুটো দলই শুরু করল আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে। তবে সময় যত গড়াতে থাকে ম্যাচ থেকেও হারিয়ে যেতে শুরু করে ডায়মন্ড হারবার। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জবি, মায়সেনরা যে খেলা খেলেছিলেন, তাঁর কোনও নমুনাই এদিন দেখা যাচ্ছিল না। মাঝমাঠ ও ডিফেন্সের মধ্যে কোনও তালমিল ছিল না। সেই সুযোগে বারবার আক্রমণে উঠছিলেন আলাদিন আজারাই, থই সিংরা।
ডায়মন্ড হারবারের ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে আশীর আখতারের গোলে ৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। এরপর ৪৫+১ মিনিটে পার্থিবের গোগোইয়ের শট থেকে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় জন আব্রাহামের ক্লাব। এই বলিউড তারকার উপস্থিতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় হাইল্যান্ডার্সরা।
বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের চাপ বজায় রাখে হাইল্যান্ডার্সরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফের গোল পেল নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। ৫০ মিনিটে আলাদিনের বাড়ানো বলে থই সিংয়ের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নর্থ-ইস্ট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখলেন এবারের ডুরান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলাদিন। গতবারের ডুরান্ডেও তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তিন গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কিবু ভিকুনার ছেলেরা। ৬৮ মিনিটে লুকা মায়সেনের গোলে ব্যবধান কমায় ডায়মন্ড হারবার। কিন্তু ৮১ মিনিটে জাইরো বুস্তারার গোলে ব্যবধান ৪-১ করে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। চতুর্থ গোলের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পঞ্চম গোলটি পেয়ে যায় হাইল্যান্ডার্সরা। এবার স্কোরার আন্দ্রে রদ্রিগেজ, অ্যাসিস্ট ছিল আলাদিনের। এদিন গোল না পেলেও ডায়মন্ড ডিফেন্স নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন তিনি। অবশেষে অবশ্য আলাদিন গোল পেলেন সংযোজিত সময়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ৬-১ গোলে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।