আজকের ফাইনাল আসলে দুই মানসিকতার দ্বন্দ্ব। জোকোভিচ মানে ‘সাফারিং’। যন্ত্রণা সহ্য করে ম্যাচ বের করে আনা। আলকারাজ আগ্রাসন, শক্তি আর জেদের প্রতিনিধি।

জোকোভিচ বনাম আলকারাজ
শেষ আপডেট: 1 February 2026 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ৩৮। শরীর ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সেমিফাইনালে পাঁচ সেটের যুদ্ধ। তবু সামনে একটাই লক্ষ্য—ইতিহাস। রবিবার মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় নামছেন নোভাক জোকোভিচ (Novak Djokovic)। বিপক্ষে বর্তমান বিশ্ব এক নম্বর, ২২ বছরের ‘স্প্যানিশ বিস্ময়’ কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের (Australian Open) এই ফাইনাল শুধু ট্রফির লড়াই নয়—রেকর্ড, উত্তরাধিকার আর দুই প্রজন্মের মুখোমুখি সংঘর্ষ।
জোকোভিচের সামনে ইতিহাস: ২৫ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম
সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনারকে (Jannik Sinner) পাঁচ সেটে হারানোর পর জোকোভিচ নিজেই বলেছিলেন—‘এই ম্যাচ জেতা মানে প্রায় একটা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা!’ কথাটা ভুল নয়, নিখাদ সত্যি! কারণ শরীরে যে ধকল গিয়েছে, তারপর আবার নিজেকে শান দেওয়া সহজ নয়। তবু রবিবার জোকোভিচ নামছেন ইতিহাস গড়তে। জিতলে—
ক। হাতে আসবে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম, ডিঙিয়ে যাবেন মার্গারেট কোর্টকে (Margaret Court)।
খ। ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন—নিজের রেকর্ড আরও লম্বা করবেন।
গ। হবেন ওপেন এরায় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা সবচেয়ে বেশি বয়সী পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়।
নিজের অবস্থান নিয়ে জোকোভিচ বাস্তববাদী। আলকারাজের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান প্রসঙ্গে মন্তব্য—‘ওর বয়স আমার থেকে ১৫–১৬ বছর কম। শরীরের দিক থেকে ওর রিকভারি সহজ!’ তবু অভিজ্ঞতার পাল্লাটা যে তাঁর দিকেই ভারী, অস্বীকার করার জায়গা নেই।
আলকারাজের সামনে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যামের হাতছানি
আলকারাজের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক নজির গড়ার ইতিহাস। উইম্বলডন, ফরাসি ওপেন, ইউএস ওপেন—সবই জেতা। বাকি শুধু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। রবিবার জিতলে—
ক। ওপেন এরায় ষষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে পূর্ণ করবেন কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম।
খ। হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সি কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী—ছাপিয়ে যাবেন রাফায়েল নাদালকে (Rafael Nadal)।
গ। বিশ্ব এক নম্বর হয়ে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতা খেলোয়াড়দের এলিট তালিকায় ঢুকবেন।
তবে পথটা মসৃণ নয়। সেমিফাইনালে আলেকজান্ডার জেরেভের (Alexander Zverev) বিরুদ্ধে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় কোর্টে ছিলেন আলকারাজ। ম্যাচ শেষে নিজেই জানিয়েছেন, অ্যাডাক্টর মাংসপেশিতে টান রয়েছে। এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে কি সামলাতে পারবেন মানসিক চাপ আর জোকোভিচের ম্যাচ ম্যানেজমেন্ট? প্রশ্নের জবাব মিলবে কোর্টেই।
মুখোমুখি লড়াইয়ের খতিয়ান
আজকের ফাইনাল আসলে দুই মানসিকতার দ্বন্দ্ব। জোকোভিচ মানে ‘সাফারিং’। যন্ত্রণা সহ্য করে ম্যাচ বের করে আনা। আলকারাজ আগ্রাসন, শক্তি আর জেদের প্রতিনিধি। হেড-টু-হেডে সার্বিয়ান তারকা এগিয়ে (৫–৪)। সাম্প্রতিক সাক্ষাতে আলকারাজ জিতেছেন ইউএস ওপেনে। আবার এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই কোয়ার্টার ফাইনালে আলকারাজকে হারিয়েছিলেন জোকোভিচ। অর্থাৎ, পাল্লা দু’দিকেই সমান-সমান।