অশান্তি-বিতর্ক আর দুর্ভোগে ভরা এই একটা সফরই যেন পাকিস্তান হকির অন্দরের ছবি তুলে ধরল। মাঠে হার, মাঠের বাইরে অপমান—দুই মিলে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
.jpeg.webp)
ছবি এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 18 February 2026 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাভেল এজেন্টের কথায় নাচতে নাচতে বেড়াতে গিয়ে কমবেশি যন্ত্রণা অনেককেই ভোগ করতে হয়েছে৷ কথার খেলাপ থেকে থাকা-খাওয়ার দুর্ভোগ—নতুন অভিজ্ঞতা নয়!
কিন্তু তাই বলে জাতীয় হকি টিম বিদেশে খেলতে যাচ্ছে আর গিয়ে শুনছে ফেডারেশন উপযুক্ত অগ্রিম অর্থ না দেওয়ায় রুম বুক হয়নি! এরপর গোটা টিম রেস্ট নেওয়ার বদলে রাস্তায় রাস্তায় টো-টো করে ঘুরে বেড়িয়েছে। পরদিন ম্যাচ। তার আগে নোংরা বাসনকোসন ধুয়েমেজে খাবার খেয়ে ছুট দিতে হয়েছে ময়দানে!
এমনই একগুচ্ছ অভিযোগের ফিরিস্তি শোনালেন যিনি, তাঁর নাম শাকিল আহমেদ বাট (Shakeel Ammad Butt)। পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক৷ দেশে পা রাখামাত্র ধুয়ে দিলেন ফেডারেশনকে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন শোনার আগেই পরপর পেশ করলেন দুঃসহ নরকযন্ত্রণার বিবরণ।
‘এরপর ফল আশা করবেন কীভাবে?’
লাহোর বিমানবন্দরে নেমেই বিস্ফোরক শাকিল। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান হকি ফেডারেশন (Pakistan Hockey Federation) খেলোয়াড়দের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে মিথ্যে কথা বলেছে। ‘এই ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে যদি বাসন মাজতে হয়, রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হয়—তাহলে ফল কীভাবে চাইবেন?’—ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
শাকিলের কথামাফিক, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দলকে ১৩-১৪ ঘণ্টা সিডনি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। পরে ক্যানবেরায় পৌঁছে আরেক দফা বিপত্তি। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, অগ্রিম অর্থ না পাওয়ায় বুকিং নিশ্চিত হয়নি। ফলে খেলোয়াড়দের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় ঘুরে কাটাতে হয়। পরদিনই ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এফআইএইচ প্রো লিগ (FIH Pro League) ম্যাচ, যা পাকিস্তান হেরে যায় ২-৩ গোলে।
টাকা গেল কোথায়?
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়, যখন পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড (Pakistan Sports Board) জানায়, দলীয় আবাসনের জন্য ১ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবু কেন হোটেল বুক হয়নি? সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে।
শাকিলের বক্তব্য, ১৩ দিনের সফরের জন্য এয়ারবিএনবি (Airbnb) বুক করা হয়েছিল মাত্র ১০ দিনের। বাকি তিন দিনের জন্য দলকে সস্তা হোটেলে সরে যেতে হয়। এই দুর্ভোগের ছাপ পড়েছে টার্ফের লড়াইয়ে। সফরের প্রতিটি ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির কাছে হেরে ভূত পাকিস্তান!
অভিযোগের আঁচ পেয়ে দেশের স্পোর্টস বোর্ডের ডিরেক্টর জেনারেল নূর উস সাবাহ (Noor us Sabah) জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) কাছে পাঠানো হবে। যিনি, তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ফেডারেশনের প্যাট্রন-ইন-চিফ-ও বটে!
মুখ খুললে শাস্তির হুঁশিয়ারি
এই আবহে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি—ফেডারেশন নাকি খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছিল, মিডিয়ার সামনে কথা বললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবু কেন মুখ খুললেন? শাকিলের জবাব, ‘অস্ট্রেলিয়ায় যা সহ্য করেছি, এরপর চুপ করে থাকলে অন্যায় হবে!’ সেই সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু উন্নতি করতে হলে বিদেশি কোচ দরকার, দরকার দক্ষ ম্যানেজমেন্টও!’
সব মিলিয়ে অশান্তি-বিতর্ক আর দুর্ভোগে ভরা এই একটা সফরই যেন পাকিস্তান হকির অন্দরের ছবি তুলে ধরল। মাঠে হার, মাঠের বাইরে অপমান—দুই মিলে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এখন দেখার, আদৌ তদন্ত হয় কিনা আর হলেও তদন্তের পর কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।