Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

‘তুমিই আমায় পূর্ণ করেছ!’ আলকারাজ-সিনারের দ্বৈরথের আড়ালে রয়েছে তীব্র প্যাশন, অটুট শ্রদ্ধা

নয়া জমানার লড়াইয়ের ঐতিহাসিক দাবি মেনে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর সেই সঙ্গে একে অপরের কাছ থেকে শেখার তাগিদই যেন ফুটে উঠল উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টের পড়ন্ত বিকেলে।

‘তুমিই আমায় পূর্ণ করেছ!’ আলকারাজ-সিনারের দ্বৈরথের আড়ালে রয়েছে তীব্র প্যাশন, অটুট শ্রদ্ধা

আলকারাজ-সিনার

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 14 July 2025 13:29

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিস্টোফার নোলানের (Christopher Nolan) ‘দ্য ডার্ক নাইটে’র (The Dark Knight) একটি দৃশ্যে দুর্ধর্ষ জোকার (Joker), ছায়াছবির খলনায়ক, ব্যাটম্যানকে (Batman) তাঁর হাতের নাগালে পান। চাইলেই খতম করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। কেন পিছিয়ে এলেন? ব্যাটম্যানের চোখে চোখ রেখে জোকারের মন্তব্য ছিল, ‘তোমায় মেরে আমি কী করব? এরপর কোথায় যাব? তুমিই তো আমায় পূর্ণ করেছ!’

সূক্ষ্ম বিচারে জোকার-ব্যাটম্যানের রাইভ্যালরি তো আর ইঁদুর-বেড়ালের খুনসুটি কিংবা ভাল-মন্দের অথবা ন্যায় বনাম অন্যায়ের লড়াই নয়। আসলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার গল্প। এই আখ্যানের নির্যাস, এই যে দুশমনকে হাতের নাগালে পেয়েও খতম না করা, তাঁর পিছু ধাওয়া করা, তিনি আক্রমণ শানালে ক্রমাগত পাশ কাটিয়ে চলা… তীব্র লড়াইয়ে অনবরত অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ… দুনিয়ার সমস্ত লড়াইকেই আসলে ‘মহিমাময়’ করে তুলেছে।

টেনিসের কোর্টেও এভাবে পিছু ধাওয়া করা ও অবিরত ছুটে চলার কাহিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রবাহিত। যে স্রোতে একই সঙ্গে বয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও শ্রদ্ধা, হারানোর জেদ ও হেরে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাশক্তি! রোলাঁ গ্যারোর (Roland Garros) পরাজয়ের ব্যথা বুকে নিয়ে যখন ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner) উইম্বলডনে (Wimbledon) নামলেন, তখন কেউ ভাবেনি এত তাড়াতাড়ি তিনি কামব্যাক করবেন।

অবাক হননি একমাত্র একজন—প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)!

দুনিয়ার পয়লা নম্বর টেনিস তারকার প্রত্যাবর্তনের সংকেত তিনি যেন আগেভাগেই পেয়েছিলেন। নয়া জমানার লড়াইয়ের ঐতিহাসিক দাবি মেনে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর সেই সঙ্গে একে অপরের কাছ থেকে শেখার তাগিদই যেন ফুটে উঠল উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টের পড়ন্ত বিকেলে।

শুধু টেনিস কেন, আবহমানকাল জুড়ে যে কোনও খেলার মূল সুর লড়াইয়ের স্পিরিট। নাম নয়, খ্যাতি নয়, অর্থ-যশ-গরিমা… কিচ্ছু নয়। বড় খেলোয়াড়, প্রিয় মুখ, অতিপ্রিয় রোল মডেলরা আসেন, যান। কিন্তু খেলাটা রয়ে যায়। ফুটবলে যেমন পেলের পরে মারাদোনা। তারপর জিদান, রোনাল্ডো, মেসি, রোনাল্ডো। ক্রিকেটে গাভাসকর, শচীন, কোহলি। টেনিসেও ফেডেরার (Rodger Federer), নাদাল (Rafael Nadal), জোকোভিচের (Novac Djokovic) ধারাবাহিক প্রবাহ। দ্বন্দ্বের, লড়াইয়ের প্রজন্ম-প্রসূত খতিয়ান। মহাকাব্যিক সংঘাত, চোখধাঁধানো গ্ল্যামার এতটাই বুঁদ করে রেখেছিল টেনিসপ্রেমীদের যে, তাঁদের বিদায়ের উঠতে শুরু করেছিল প্রশ্ন: এবার কে? এবার কারা? এবার বিলবোর্ডে ঝলমল করবে কোন রাইভ্যালরির শিরোনাম? কারা বুঝে নেবে দায়িত্ব? তুলে নেবে ব্যাটন? প্রশ্ন উঠছিল বারবার।

আর ঠিক তখনই উঠে এলেন দুই তরুণ—ইয়ানিক সিনার আর কার্লোস আলকারাজ। স্রেফ একটি ম্যাচে ধূমকেতুর চকিত উত্থান, তারপর তড়িৎ প্রস্থান নয়। একটার পর একটা মহারণে তাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন, দিচ্ছেন—নতুন যুগ সমাগত!

এই একমাস আগেই ফ্রেঞ্চ ওপেনে (French Open 2025) ৫ ঘণ্টা ২৯ মিনিট ধরে লড়াইয়ের পর পরাজিত সিনারের মুখের চাহনি এখনও বিস্মৃত হয়নি। কিন্তু স্বপ্নের শহর প্যারিস অপ্রত্যাশিত স্বপ্নভঙ্গের পরেও সিনারকে মুচড়ে দেয়নি। তিন-তিনটে সেট পয়েন্ট পেয়েও পরাস্ত হন ইতালির তরুণ তারকা। এমন হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের অবসাদ থেকে বেরনো কঠিন। মনে পড়বে স্টেফানোস সিসিপাসের কথা। চার বছর আগে জোকোভিচের বিরুদ্ধে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে দুই সেট এগিয়ে থেকেও মাথা নীচু করে সেই যে কোর্ট ছাড়লেন, তারপর থেকে আর মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি!

কিন্তু সিনার অন্য ধাতুতে গড়া। একটা অলৌকিক হার তাঁকে গড়েপিটে আরও ধারালো, আরও মজবুত করেছে। উইম্বলডন দেখল সেই নতুন চেহারার সিনারের দাপট, অপ্রতিরোধ্য তেজ। আলকারাজ এবারও ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচালেন। ফরাসি ওপেনের দুঃস্বপ্ন যখন ফিরব ফিরব করছে, তখনই পালটে যাওয়া মেজাজের নমুনা মেলে ধরলেন সিনার। আলকারাজকে আর দাঁড়াতে পর্যন্ত দিলেন না! যন্ত্রের মতো নির্ভুল। অটল। জিতলেন খেতাব। ইতিহাস গড়লেন ইতালির প্রথম পুরুষ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন।

ম্যাচের শেষে সিনার মাথা তুললেন আকাশের দিকে—যেন বিশ্বাস হচ্ছে না! আর আলকারাজ? নেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন আগেই। মুখে হাসি, মাথা আনত। তবে পদানত নন। বিজয়ীর সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গন বিনিময়… হেরে যাওয়া সত্ত্বেও একটা আনন্দ মিশে ছিল তাতে। বললেন, ‘ইয়ানিক, তোমায় আবারও অভিনন্দন! খুব খুশি হয়েছি। এই দ্বৈরথটা তৈরি করতে পেরে ভাল লাগছে। তুমি আমায় প্রতিদিন আরও ভালো খেলোয়াড় করে তুলছ!’

সিনারের প্রত্যাবর্তনে চমকে গিয়েছিলেন? ‘একটুও না!’ প্রেস কনফারেন্সে জানালেন আলকারাজ। তারপর জুড়ে দিলেন, ‘আমি জানি ও একজন চ্যাম্পিয়ন। চ্যাম্পিয়নরা হার থেকে শেখে। আমি জানতাম, সিনার আবার ফিরে আসবে। আজ যা খেলেছে, সেটা অসাধারণ!’

এই সম্পর্কটা হিংসার নয়। অনুপ্রেরণার। একজন অন্যজনকে ছাপিয়ে যেতে চায়, কিন্তু হারিয়ে যেতে নারাজ। হয়তো তাই সিনারের কোচ ড্যারেন কাহিল লড়াই শেষে বলছেন, ‘সিনার সবচেয়ে বেশি সময় ধরে কার্লোসের ম্যাচই দেখে। এবং সেটা খুব মন দিয়ে। শুধু দেখে না, শেখেও। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ওকে ছুটিয়ে বেড়ায়। আমাদেরও চাপে রাখে! দ্বৈরথটাই আসল। আর আমরা চাই এটা আরও ১০-১২ বছর ধরে বয়ে চলুক!’

রবিবারের ফাইনালে সিনার দুর্দান্ত সার্ভ করলেন। বেসলাইনে আগ্রাসী। প্রথম সেটটা হাত ফসকে আলকারাজের কব্জায় গেলেও হটলেন না। শিখলেন, পাল্টালেন, খেলায় ফিরলেন। গ্রাউন্ডস্ট্রোক আগের চাইতে আরও ধারালো। আত্মবিশ্বাস চড়চড় করে বাড়ল। অন্যদিকে আলকারাজ নিজে যেভাবে উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে আপন ছন্দে উড়ে বেড়ান, এ দিন সেই পরিচিত মেজাজটাই উধাও!

শেষ আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের সাতটিই গেছে দুজনের হাতে। তবু মনে হচ্ছে, এ তো সবে শুরু। পাখির চোখ এখন নিউ ইয়র্কে। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে আলোয় মোড়া আরেক মহারণ অপেক্ষায়। সিনার ব্যাকরণে স্থিতধী থাকবেন? আলকারাজ ফিরবেন নিজের ঘরানায়?... বদলা নেবেন?

ফলাফল যা-ই হোক না কেন, একটা বিষয় পরিষ্কার। দুজনেই একে অন্যের পিছু ধাওয়া করবেন, ছুটে চলবেন। যেমনটা জোকার বলেছিলেন ব্যাটম্যানকে… ‘তোমায় মেরে আমি কী করব? এরপর কোথায় যাব? তুমিই তো আমায় পূর্ণ করেছ!’


```