Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

'রুপো, ব্রোঞ্জ মানেই হেরে যাওয়া', কোন মন্ত্র ফেলপসকে সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান বানিয়েছে?

মাইকেল ফেলপস শুধু সোনা নয়, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও নিয়মিত অভ্যাসের প্রতীক। তাঁর দর্শন যে কোনও লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

'রুপো, ব্রোঞ্জ মানেই হেরে যাওয়া', কোন মন্ত্র ফেলপসকে সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান বানিয়েছে?

মাইকেল ফেলপস

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 17 January 2026 13:08

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাইকেল ফেলপস (Michael Phelps) প্রচুর নিয়মের মধ্যে দিয়েই তাঁর জীবন কাটিয়েছেন। দিনের পর দিন একই নিয়ম, একই ছক। প্রশিক্ষণ, রিকভারি, ঘুম এবং নির্দিষ্ট রুটিন। এই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনই বাল্টিমোরের এক প্রতিভাবান কিশোরকে ধীরে ধীরে গড়েছে সর্বকালের সবচেয়ে সফল অলিম্পিয়ান (Olympics) হিসেবে।

প্রতিযোগিতামূলক সাঁতার থেকে অবসর নেওয়ার বহু বছর পরেও, ফেলপস আজও নিজের সাফল্যের মূল সূত্র নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, এই যাত্রার ভিত্তি ছিল কোনও আবেগী অনুপ্রেরণা নয়, বরং কঠোর শৃঙ্খলা এবং প্রতিদিনের অভ্যাস। এমন এক দর্শন, যা খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

ফেলপস বিশ্বাস করতেন, তাঁর অনুসরণ করা নীতিগুলো শুধু সাঁতারের জন্য নয়। কেরিয়ার গড়া, কোনও দক্ষতায় পারদর্শী হওয়া, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা সন্তান লালন-পালন, যে কোনও লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রেই এই একই পদ্ধতি কাজে লাগানো যায়। স্বপ্নকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা, তার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা এবং নিয়মিত কাজের মাধ্যমে সেই পথে এগিয়ে চলাই ছিল তাঁর মূল দর্শন।

একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমি যে বিষয়টি অনুসরণ করি তা হল ‘ড্রিম, প্ল্যান, রিচ’। আমাদের সবারই একটা স্বপ্ন থাকে, কিছু অর্জন করার ইচ্ছা। কিন্তু সেই স্বপ্নের সঙ্গে যদি কোনও পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই পথ হারিয়ে ফেলবেন।”

ফেলপসের কাছে কাঠামোহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোনও মূল্য ছিল না। তাঁর মতে, স্বপ্ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু হয় এখুনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনি এখন কী করছেন সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল কী হয়েছে বা আগামীকাল কী হবে, সেটা নয়।”

এই বাস্তববাদী মানসিকতাই তাঁর জীবনের প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। কিশোর বয়সেই তিনি বুঝেছিলেন, সাঁতারে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে হলে অন্য সব খেলাধুলা থেকে সরে আসতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পেয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেন ফেলপস। “আমি কি ভয় পেয়েছিলাম? অবশ্যই। কিন্তু আমি এটাও বুঝেছিলাম যে সেটাই আমার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত।”

একবার নিজের লক্ষ্যে স্থির হওয়ার পর আর পিছনে তাকাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আপনার লক্ষ্য কী, সেটি খুঁজে বের করুন। তারপর সেখানে পৌঁছানোর জন্য যেসব ক্ষুদ্রতম বিষয় প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করুন, যাতে অন্তত আপনার সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ থাকে।”

২০০৪ থেকে ২০১৬, এই সময়কালে পাঁচটি অলিম্পিকে অংশ নিয়ে ফেলপস গড়েছেন অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড। ২৩টি সোনা-সহ মোট ২৮টি পদক। তবে তাঁর মতে, এই সাফল্যের মধ্যে কোনও অলৌকিকতা ছিল না। বলেন, “আমার সাঁতারজীবনের সাফল্যে কোনও রকেট সায়েন্স নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে করা অসংখ্য ছোট ছোট কাজের ফল এটা।”

এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিল পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা। ইচ্ছা ও বাস্তবায়নের মধ্যেকার দূরত্ব কমানোই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ফেলপস বলেন, “অনেকে সুযোগের কথা বলেন। কিন্তু সেই সুযোগ পাওয়ার জন্য যা করা দরকার, যদি আপনি তা না করেন, তাহলে সবকিছুই শুধু ফাঁকা কথায় রয়ে যায়।”

অজুহাত প্রসঙ্গে ফেলপসের দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল স্পষ্ট এবং কঠোর। তাঁর মতে, অজুহাত আসলে মানুষের অগ্রাধিকারকেই প্রকাশ করে। “আপনি যদি কিছু করতে না চান, তার মানে আপনি আসলে সেটা চাননি। যদি আপনার লক্ষ্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে আপনার কাছে কোনও অজুহাত থাকবে না।”


```