অস্কারজয়ী এ আর রহমানের দাবি, ধর্মীয় মেরুকরণ ও ক্ষমতার বদলের জেরে গত আট বছরে বলিউডে কাজ কমেছে তাঁর। মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কে মুখ খুলল বিজেপি।

এ আর রহমান
শেষ আপডেট: 17 January 2026 12:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় সাড়ে তিন দশকের দীর্ঘ সঙ্গীতযাত্রা। বলিউড থেকে দক্ষিণী সিনেমা, সব গণ্ডি ছাপিয়ে এ আর রহমান আজ নিঃসন্দেহে এক ‘গ্লোবাল’ নাম। হলিউডে কাজ করে অস্কার জয়ের নজির যেমন রয়েছে, তেমনই প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবসে তাঁর গাওয়া ‘বন্দেমাতরম’ দেশের অলি-গলি থেকে রাজপথে দেশপ্রেমের সুর ছড়িয়ে দেয়। সুরের মূর্ছনায় যিনি বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, সেই শিল্পীকেই কি না হিন্দি সিনেদুনিয়ায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার হতে হচ্ছে, সম্প্রতি এমনই বিস্ফোরক দাবি করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন ‘মাদ্রাজ মোজার্ট’।
রহমানের বক্তব্য, ক্ষমতার বদল ও ধর্মীয় বিভাজনের আবহ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বলিউডে একের পর এক কাজ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল, সর্বত্রই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
গত এক বছর ধরেই ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিনেমাজগতের একাধিক পরিচিত মুখ। তাঁদের নিশানায় যে গেরুয়া শিবির, তা নিয়ে আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। সেই প্রেক্ষাপটেই সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, বলিউডে কি কখনও ভেদাভেদের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর? উত্তরে অকপটে তিনি জানান, গত আট বছরে ধাপে ধাপে বহু কাজ হারিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল, বলিউডের তুলনায় কেন দক্ষিণী সিনেমায় রহমানের কাজের পরিমাণ বেশি। সেই প্রশ্নের নেপথ্যের কারণ এবার প্রকাশ্যে আনলেন খোদ অস্কারজয়ী সুরকার। তাঁর কথায়, “ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকেই গত আট বছরে বলিউডে কাজের সুযোগ কমেছে। কারণ ক্ষমতা এখন এমন মানুষের হাতে, যাঁরা সৃজনশীল নন। আবার ধর্মীয় বিভাজনের কারণও হতে পারে। যদিও কেউ সরাসরি আমাকে এসব বলেনি, তবে এমন কানাঘুষো কানে এসেছে।”
এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধী শিবিরের নিশানায় উঠে আসে বিজেপি। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ শাসকদলের নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রহমানের অভিযোগের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই। এই ধরনের অভিযোগে কোনও সত্যতা নেই। হিন্দি সিনেদুনিয়ায় সলমন খান, শাহরুখ খান, আমির খান-সহ মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু শিল্পী রয়েছেন, যাঁদের শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গোটা দেশের মানুষ ভালবাসেন।”
বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র কুমার গোথওয়ালের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতাই বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আগে অনেক সময় রাজনৈতিক সুপারিশে কাজ পাওয়া যেত। এখন সেই কারসাজি চলে না। প্রতিভার ভিত্তিতেই কাজ দেওয়া হচ্ছে।” একধাপ এগিয়ে তিনি আরও দাবি করেন, “এই পরিবর্তনের কারণেই হয়তো রহমান অস্বস্তিবোধ করছেন।”
রহমানের অভিযোগ খারিজ করে মুখ খুলেছেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষাও। তাঁর যুক্তি, “রহমান বলছেন বিজেপি সরকারের অধীনে তিনি নাকি কাজ পাচ্ছেন না, কিন্তু তা সত্যি নয়। নইলে ১৯৯২ সাল থেকে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’, ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’র মতো বড় হিট দিতে পারতেন না। উপরন্তু, সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই ২০২২ সালে সেরা সঙ্গীতের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।”