চলতি মাস সাবালেঙ্কার জীবনে ঘটনাবহুল। ঘরে নতুন কুকুরছানা এসেছে, সেরে ফেলেছেন বাগদানও। কোর্টের সাফল্য তো রয়েইছে!
_0.jpeg.webp)
সাবালেঙ্কা ও সিনার
শেষ আপডেট: 30 March 2026 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক রাতে দু-দুটো ইতিহাস। মায়ামি ওপেনের (Miami Open 2026) ফাইনালে পুরুষ বিভাগে ইয়ানিক সিনার (Jannik Sinner) ও মহিলা বিভাগে আরিনা সাবালেঙ্কা (Aryna Sabalenka) শিরোপা জিতলেন। দুই তারকাই এর আগে ইন্ডিয়ান ওয়েলসে বাজিমাত করেছেন। যার সুবাদে একই মরসুমে দুটো বড় হার্ডকোর্ট টুর্নামেন্টে শেষ হাসি হেসে ‘সানশাইন ডবল’ (Sunshine Double) জয়ের কৃতিত্বও হাতে এল। এই কীর্তি মহিলা ও পুরুষ—দুই বিভাগেই একই বছর অর্জিত—খুব একটা দেখা যায় না। শেষবার হয়েছিল ২০১৬ সালে।
সিনারের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা
চেক প্রতিযোগী ইয়িরি লেহেচকাকে (Jiri Lehecka) স্ট্রেট সেটে হারালেন সিনার। ম্যাচের ফল ৬-৪, ৬-৪। খেলা বৃষ্টিতে দেড় ঘণ্টা বন্ধ ছিল। যদিও তাতে বিন্দুমাত্র তাল কাটেনি সিনারের। ১০টি এস মেরেছেন। ৩৬টির মধ্যে ৩৩টি প্রথম সার্ভে পয়েন্ট জিতেছেন। লেহেচকার হাতে কিছু সুযোগ এলেও ইতালীয় তারকার বিরুদ্ধে সেটা যথেষ্ট ছিল না।
এই জয়ের সৌজন্যে সিনার পরপর তিনটি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জিতলেন—গত বছর প্যারিস, এ বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলস, এখন মায়ামি। ‘সানশাইন ডবল’ ছিনিয়ে আনার পথে একটি সেটও হারাননি। ২০১৭ সালে রজার ফেডেরারের (Roger Federer) পর এমন কীর্তি এই প্রথম।
উল্লেখ্য, মায়ামি ওপেনে তৃতীয় রাউন্ডে ছিটকে যান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজ (Carlos Alcaraz)। ফলে বিশ্বের এক নম্বর হওয়ার লড়াইয়ে সিনার একটু হলেও এগিয়ে গেলেন।
সাবালেঙ্কার অপ্রতিরোধ্য সিজন
মহিলা বিভাগে একইভাবে দাপট সাবালেঙ্কার। কোকো গফকে (Coco Gauff) হারালেন ৬-২, ৪-৬, ৬-৩ সেটে। প্রথম থেকেই একচেটিয়া আধিপত্য। দ্বিতীয় সেট গফ জিতলেন ঠিকই। কিন্তু নির্ণায়ক তৃতীয় সেট আবার সাবালেঙ্কার দখলে। ঘরের মেয়ে হিসেবে খেলতে নেমেছিলেন গফ, ডেলরে বিচ থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে। তাই জোরালো জনসমর্থন ছিল। কিন্তু তাতে ম্যাচ হাতে আসেনি।
এই জয়ের সৌজন্যে সাবালেঙ্কা স্টেফি গ্রাফ, কিম ক্লিস্টার্স, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা ও ইগা শিয়নটেকের (Iga Swiatek) পাশে নাম লেখালেন, যাঁরা একই বছর ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি দুটোই জিতেছেন। ট্রফি হাতেও ছলকে উঠল আত্মবিশ্বাস। বললেন, ‘আমার লক্ষ্য সবসময় ইতিহাসে নিজের নাম লেখানো। আজ সেটা হল!’ চলতি মাস বেলারুশের তারকার জীবনে ঘটনাবহুল। ঘরে নতুন কুকুরছানা এসেছে, সেরে ফেলেছেন বাগদানও। কোর্টের সাফল্য তো রয়েইছে!
গফের হতাশা ও আশা
অন্যদিকে গফের কাছে মার্চ মাস একরাশ হতাশার। বাঁ-হাতে স্নায়ুর সমস্যায় ইন্ডিয়ান ওয়েলস থেকে মাঝপথে সরে এসেছিলেন। মায়ামিতে ফেরেন, ফাইনালেও উঠেছিলেন প্রথমবার। কিন্তু সাবালেঙ্কাকে আটকানো গেল না। খেতাব হাতছাড়া হলেও গফ আত্মবিশ্লেষণে অকপট। বললেন, ‘এখনও আমার মধ্যে সেরা টেনিস বাকি রয়েছে। এই ফলাফল আমায় আরও অনুপ্রাণিত করছে!’