দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা ফুটবল দুনিয়ার এখন একটাই প্রশ্ন, লিওনেল মেসি কী বার্সেলোনা ছেড়ে দিচ্ছেন? নাকি তাঁর সঙ্গে রফাসূত্র করে ফেলতে পারেন বার্সা কর্তারা? সমানে জল্পনা চলছে, তার মধ্যেই খবর, বার্সেলোনা সভাপতি জোশেফ মারিয়া বার্তাবিউর সঙ্গে কথা বলতে বার্সেলোনা পৌঁছে গিয়েছেন মেসির বাবা তথা তাঁর এজেন্ট জর্জ মেসি। যিনি অবশ্য বিমানবন্দরে মিডিয়াকে জানিয়েছেন, আমি কিছু জানি না কী হতে চলেছে!
মেসিকে বৈঠকে বসানো যাবে না, এমনটা ধরে নিয়েই বার্সেলোনা কর্তারা চেষ্টা করেন মেসির বাবাকে বুঝিয়ে কোনও রফা বের করা। কারণ আর্জেন্টাইন ফুটবল রাজপুত্র মনস্থই করে ফেলেছেন তিনি এবার বার্সায় থাকবেন না। সেই জন্যই তিনি বার্সা সভাপতির সঙ্গে বৈঠক তো দূর, দলের প্রস্তুতিতে কিংবা করোনা টেস্ট করাতে শিবিরেও যোগ দেননি। ২০ বছর ধরে মেসি বার্সায় খেলছেন। সেই কারণেই তাঁকে নিয়ে আবেগ সমর্থকদের মধ্যে এমনিতেই রয়েছেন। তাঁরা প্রতিদিনই ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামে হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, মেসির সঙ্গে বার্সেলোনার চুক্তি রয়েছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পরে পর্যন্ত। তবে চুক্তিতে এও লেখা রয়েছে তিনি ইচ্ছে করলে ২০২১ সালের জুন মাসে এই চুক্তি ছেড়ে বেরিয়েও আসতে পারেন।
জটিলতা বেঁধেছে মেসি তার আগেই ক্লাব ছাড়ার কথা বলে। কারণ বার্সা সভাপতির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক ভাল নয় একদমই। তাঁর সঙ্গে প্রথম বিতর্ক বাঁধে করোনাভাইরাসের সময় ক্লাব কর্মীদের বেতন কাটা নিয়ে। তখন মেসিসহ দলের প্রায় অধিকাংশ তারকাই ঠিক করে কর্মীদের পাশে থাকার জন্য তাঁরা বেতন নেবেন না। ফুটবলারদের অর্থে যদি কর্মীদের বেতনের পুরোটা পাওয়া যায়, তা হলে ভালই। মেসিদের এই পরিকল্পনার কথা কোনওভাবে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সভাপতি সেইসময় ঘোষণা করেন ফুটবলাররা যেন তাঁদের অর্ধেক বেতন নেন। এতেই বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন মেসি। তিনি মিডিয়াকে বলেন, ‘‘যে পরিকল্পনা আমরাই গ্রহণ করেছিলাম, সেটি অন্য কারোর মুখে শুনলে ভাল লাগে না।’’
মেসিকে যখন বৈঠকে পাওয়া যাবে না, সেটা ধরে নিয়েই তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলে সভায় আসার পরে কথা জানান সভাপতি। মেসি যখন বার্সেলোনার অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দেন, সেইসময়ই তাঁর বাবা সঙ্গী ছিলেন। তাই বাবাই তাঁর এজেন্ট ও পরামর্শদাতা। অনেকেই মনে করছেন, বাবাকে রাজি করানো মানে মেসিকে রাজি করিয়ে ফেলা। চুক্তিতে এও লেখা ছিল, মেসি যদি কোনও কারণে চুক্তি ভেঙে বেরিয়েও আসতে চান, তা হলে তাঁকে সেটি জানাতে হবে মরসুম শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ আগে। মেসির সঙ্গে বার্সার চুক্তি পুনর্নবীকরণ হয় ২০১৭ সালের জুন মাসে। কিন্তু মেসি ক্লাব ছাড়ার কথা বলেন এর অনেক পরে, অর্থাৎ জুন মাসের পরে তিনি ইচ্ছেপ্রকাশ করায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা বলে দিয়েছে, তখনই মেসি ক্লাব থেকে রিলিজ পাবেন যদি তিনি ৭০০ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬১৪৪ কোটি টাকা।
যদিও এও জল্পনা চলছে মেসির এই পরিমান অর্থ দিয়ে দেবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যান সিটি। তাঁদের কোচ পেপ গুয়ার্দিওলার কাছে ফের খেলার কারণেই মেসি চাইছেন বার্সা সংযোগ ছিন্ন করতে। এমনকি ম্যান সিটির সভাপতি টোনি ফেইক্সাও মেসির সঙ্গে কথা বলতে বার্সায় গিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মেসি কী করবেন, কেউ জানে না। এমনকি তাঁকে দলে নিতে চাইছে জুভেন্টাস ও ইন্টার মিলানও। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট চান তাঁদের দেশের ক্লাবে খেলে অবসর ঘোষণা করুণ রাজপুত্র।