শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। তিনি রদ্রিগো ডি পল (Rodrigo De Paul)। এ হল বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার বিরল এক বন্ধুত্ব, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে, দৃঢ় হয়েছে আরও

লিওনেল মেসি-রদ্রিগো ডি পল।
শেষ আপডেট: 14 December 2025 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিওনেল মেসির (Lionel Messi) ফুটবল-জীবনে অসংখ্য তারকা খেলেছেন তাঁর সঙ্গে। কত যুগলবন্দি তৈরি হয়েছে। কেউ এসেছেন, কেউ কিছুদিন পর সরে গিয়েছেন। কিন্তু এক জন যেন তাঁর মেসির জীবনে একেবারেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। তিনি রদ্রিগো ডি পল (Rodrigo De Paul)। এ হল বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার বিরল এক বন্ধুত্ব, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে, দৃঢ় হয়েছে আরও। শনিবার সকাল থেকে সেই অভিন্ন হৃদয় সম্পর্কের সাক্ষী থাকল কলকাতা থেকে হায়দরাবাদ ও মুম্বই (Messi in Mumbai)। মেসির পাশে বেশ নজর কাড়লেন স্যান্ডো গেঞ্জি বা হোয়াইট ট্যাঙ্ক টপ পরা ডি পল।
ডি পল নিজেও স্বীকার করেন, “মেসির সঙ্গে পরিচয়ের পর আমি অন্য মানুষ হয়ে গেছি।” খেলার ধরন বদলে গেছে, পজিশন বদলেছ গেছে, জীবনটাই বদলে গেছে। আর এখন সেই সম্পর্ক এতটাই গভীর যে স্পেনের ক্লাব ছেড়ে আটলান্টিক পেরিয়ে মেসির সঙ্গে ক্লাব-ফুটবল খেলতে ডি পল চলে গেছেন ইন্টার মায়ামিতে (Inter Miami)।
এক টেলিপ্যাথিক জুটি
২০১৮ সাল থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির সঙ্গী ডি পল। প্রথম দিন থেকেই তিনি বুঝেছিলেন—মেসি খুব বেশি কথা বলেন না, তবে লিও-র প্রতিটি আচরণই অর্থবহ—“১টার সময় লাঞ্চ হলে, দেখা যাবে তার আগে থেকেই মেসি গিয়ে টেবিলে বসে আছে। মুখে কোনও শব্দ নেই। কিন্তু জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা ষোল আনার মধ্যে আঠারো আনা।” ডি পলের কথায়,“অনেক সময়ে আমাদের শুধু একবার চোখাচোখি হয়, তাতেই বুঝে যাই মাঠে কী পরিবর্তন দরকার। যেন টেলিপ্যাথি।” ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ—প্রতিটি অভিযানে এই অনবদ্য বোঝাপড়াই আর্জেন্টিনাকে শক্তি জুগিয়েছে।
‘ওর মৃত্যু পর্যন্ত সঙ্গে থাকব’
ডি পলকে অনেকে মেসির ‘বডিগার্ড’ বলে মজা করেন। কারণ মাঠে একটিবারও মেসির দিকে কেউ কঠিন চোখে তাকালে সামনে দেওয়াল হয়ে দাঁড়ান ডি পল। এক সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—একটি নির্জন দ্বীপে এক জন সতীর্থকে সঙ্গে নিতে হলে তিনি কাকে নেবেন? ডি পলের উত্তর ছিল সোজাসাপ্টা— “মেসি। আমি ওর সঙ্গে থাকব, যতক্ষণ না ও মারা যায়।”
শুধু ফুটবল নয়—পরিবারিক বন্ধন
দু’জনের বন্ধুত্ব মাঠের বাইরেও অনবদ্য। ডি পল হাসতে হাসতে একবার বলেছিলেন—“এনানো (মেসি) খারাপ পোশাক পরে না, কিন্তু আমি ওকেই ফ্যাশনের কিছু টিপস দিয়েছি।” জাতীয় দলে মেসির সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের একজন ডি পল। ছুটি কাটানো, ডিনার, পরিবার—সবেতেই তাঁদের সম্পর্ক বেশ গাঢ়।
‘১০ নম্বর মানে শিল্প’
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) আর মেসির (Messi) তুলনা নিয়ে যখন তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল, ডি পল বলেছিলেন—“রোনাল্ডো অসাধারণ। কিন্তু ১০ নম্বর? ওটা শিল্প। মেসিকে মানুষ দেখতে টাকা দিতে রাজি, কারণ প্রতিটি ছোঁয়াতেই শিল্প লুকিয়ে থাকে।” মেসির প্রভাবকে ডি পল যুক্তি বা পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান না—বরং বলেন, “টানেল থেকে বেরিয়ে যখন দেখি প্রতিপক্ষ শুধু মেসিকে দেখছে, তখন বুক ভরে ওঠে। কারণ আমি জানি আমি তাঁর সঙ্গে খেলি।”