একদিকে কার্লসেনের ধারাবাহিক আধিপত্য, অন্যদিকে হাম্পির একচুলের জন্য ইতিহাস হাতছাড়া—বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপ আবারও প্রমাণ করল, দাবায় সাফল্য আর হতাশার ব্যবধান কতটা সূক্ষ্ম।

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 29 December 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাটকীয় ফিনালে, টানটান লড়াই আর শেষে পরিচিত ছবিটাই স্পষ্ট—র্যাপিড দাবার মুকুট আবার মাথায় তুললেন ম্যাগনাস কার্লসেন (Magnus Carlsen)। ওপেন বিভাগে ষষ্ঠবারের মতো ফিডে বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়ন নরওয়ের তারকা। অন্যদিকে মেয়েদের বিভাগে ইতিহাসের হাতছানি পেয়েও টাইব্রেকে পিছিয়ে পড়ে ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতের কোনেরু হাম্পিকে (Koneru Humpy)।
কার্লসেনের প্রত্যাবর্তন
ওপেন বিভাগে কার্লসেন শেষ করলেন ১০.৫ পয়েন্ট নিয়ে। এর আগেও তিনি বিশ্ব র্যাপিড জিতেছেন ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৩ সালে। এবারের ট্রফির সঙ্গে তাঁর ঝুলিতে ঢুকল ৭০ হাজার ইউরো প্রাইজমানিও।
জয়ের পথ মসৃণ ছিল না যদিও। সপ্তম রাউন্ডে ভ্লাদিস্লাভ আর্তেমিয়েভের (Vladislav Artemiev) কাছে হার কার্লসেনকে কিছুটা চাপেই ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ান তিনি। শেষ দিনে টানা তিনটি জয়, আর অন্তিম রাউন্ডে অনিশ গিরির (Anish Giri) বিরুদ্ধে ড্র—সব মিলিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন বিশ্বসেরা। আর্তেমিয়েভ ৯.৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হন। একই পয়েন্টে ভারতের অর্জুন এরিগাইসি (Arjun Erigaisi) ব্রোঞ্জ জেতেন, টাইব্রেকে টপকে যান হান্স নিম্যান (Hans Niemann) ও লাইনার ডোমিঙ্গেজকে (Leinier Dominguez)।
ভারতীয়দের জমকালো উপস্থিতি
অর্জুনের ব্রোঞ্জের পাশাপাশি ওপেন বিভাগে ভারতের আরও কয়েকজন দাবাড়ু নজর কাড়েন। নিহাল সারিন (Nihal Sarin) ৮.৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৯তম, দোম্মারাজু গুকেশ (D. Gukesh) একই পয়েন্টে ২০তম, আর. প্রজ্ঞানন্দ (R. Praggnanandhaa) ৮.৫ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেন ২৭তম স্থানে। ফলাফলে স্পষ্ট—বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় দাবার গভীরতা এখন প্রশ্নাতীত।
টাইব্রেকে শিরোপা হাতছাড়া হাম্পির
মেয়েদের বিভাগে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন কোনেরু হাম্পি। ৮.৫ পয়েন্টে তিনি যৌথভাবে শীর্ষে থাকলেও টাইব্রেকে পিছিয়ে পড়ে তৃতীয় হন। একই পয়েন্টে ঝু জিনার (Zhu Jiner) ও আলেকসান্দ্রা গোরিয়াচকিনা (Aleksandra Goryachkina)। টাইব্রেকের নিয়মে দুজন প্লে-অফে ওঠেন। সেখানে ১.৫–০.৫ ব্যবধানে জিতে নিজের প্রথম বিশ্ব র্যাপিড খেতাব ও ৪০ হাজার ইউরো প্রাইজমানি হাতে তোলেন গোরিয়াচকিনা। ঝু রানার্স-আপ। আর হাম্পির ভাগ্যে ব্রোঞ্জ।
এক ড্র-ই বদলে দিল সব হিসাব
শেষ রাউন্ডে ভারতেরই বি সবিতা শ্রীর (B. Savitha Shri) সঙ্গে ৬৪ চালের ড্র-ই হাম্পির সর্বনাশ করে দেয়। ওই ম্যাচে জিততে পারলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন হতেন তিনি। কিন্তু ড্রয়ের ফলে তিনজন সমতায়, আর সেখানেই টাইব্রেকের অঙ্কে পিছিয়ে পড়েন হাম্পি।
সবিতা শ্রী নিজেও ৮ পয়েন্ট নিয়ে কেরিয়ার-সেরা চতুর্থ। আর. বৈশালী (R. Vaishali) পঞ্চম (৮ পয়েন্ট), দিব্যা দেশমুখ (Divya Deshmukh) অষ্টম (৭.৫), আর ডি. হারিকা (D. Harika) ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৯তম স্থানে।
শেষ কথা
একদিকে কার্লসেনের ধারাবাহিক আধিপত্য, অন্যদিকে হাম্পির একচুলের জন্য ইতিহাস হাতছাড়া—বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপ আবারও প্রমাণ করল, দাবায় সাফল্য আর হতাশার ব্যবধান কতটা সূক্ষ্ম। তবে ভারতীয় দাবার জন্য ছবিটা আশাব্যঞ্জক—মঞ্চে লড়াই করার মতো নাম এখন এক নয়, একাধিক।