স্টেডিয়ামের আলো-আতশবাজি নয়, লাল তিলক, প্রণাম আর আশীর্বাদের নীরব মুহূর্তে ধরা দিলেন লিওনেল মেসি।

বনতারায় মেসির দেশি অবতার
শেষ আপডেট: 16 December 2025 23:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্টেডিয়ামের চিৎকার, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্লোগান—সব পেছনে ফেলে একেবারে অন্য মেজাজে লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ভারতের ‘গোট ট্যুর’-এর শেষে সূচি বদলে গুজরাতের জামনগরে পৌঁছে গিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা। গন্তব্য—আম্বানিদের বন্যপ্রাণ উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারা (Vantara)। আজ সেখানে যে দৃশ্য ধরা পড়ল, তা মেসির ভারত সফরের সবচেয়ে ‘দেশি’ অধ্যায় বললেও কম বলা হয়।
প্রণাম, পূজা আর আর্শীবাদে শুরু সফর
বনতারা-ভ্রমণের শুরুতেই ভারতীয় রীতিতে আপ্যায়ন। লোকসংগীত, ফুলের তোড়া, আরতি। মাথায় লাল তিলক, হাতে অর্ঘ্য—সনাতন ধর্মের প্রথা মেনেই আশীর্বাদ গ্রহণ করেন মেসি। অম্বে মাতা পূজা, গণেশ পূজা, হনুমান পূজা ও শিব অভিষেক—সব ক’টি আচারেই অংশ নেন। বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রার্থনায় যখন মগ্ন, পাশে অনন্ত আম্বানি (Anant Ambani) ও রাধিকা আম্বানি (Radhika Ambani)। ফুটবল তারকার এই নিঃশব্দ, সংযত উপস্থিতি নতুন করে নজর কাড়ে।
বনতারার অন্দরমহল
পূজা-পর্বের পর শুরু হয় বনতারার বিস্তৃত এলাকা ঘুরে দেখা। বিগ ক্যাট কেয়ার সেন্টারে সিংহ, বাঘ, চিতার সঙ্গে সামনাসামনি সাক্ষাৎ। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই উদ্ধারপ্রাপ্ত প্রাণীদের কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকা দেখে থমকে যান মেসি। এরপর হার্বিভোর কেয়ার সেন্টার, রেপটাইল কেয়ার সেন্টার—সর্বত্র আধুনিক ভেটেরিনারি পরিচর্যা ও বিশেষ খাদ্যব্যবস্থার খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহ দেখান। মাল্টি-স্পেশালিটি ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতাল ঘুরে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও খুঁটিয়ে দেখেন মেসি।
হাতির সঙ্গে ফুটবল, সিংহশাবকের নাম ‘লিওনেল’
এই সফরের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে এলিফ্যান্ট কেয়ার সেন্টারে। সেখানে উদ্ধারপ্রাপ্ত হাতিশাবক মানিকলালের সঙ্গে সময় কাটান। আচমকাই ফুটবল নিয়ে ছোট্ট ‘প্লে সেশন’—হাতিশাবকের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। ফস্টার কেয়ার সেন্টারে দুর্বল প্রাণীদের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হন আর্জেন্তিনীয় ফুটবল তারকা। এখানেই অনন্ত ও রাধিকা আম্বানি একটি সিংহশাবকের নাম রাখেন ‘লিওনেল’—মেসির সম্মানে।
বিদায়ের আগে মেসির বার্তা
সফরের শেষে নারকেল উৎসর্গ, নারকেল ফাটানোর মতো প্রথাগত আচারেও অংশ নেন লিও। বিদায়ী মুহূর্তে স্প্যানিশে বলে ওঠেন, ‘বনতারা যা করছে, তা সত্যিই অসাধারণ। প্রাণীদের যেভাবে উদ্ধার করে যত্ন নেওয়া হচ্ছে, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা খুব আনন্দে সময় কাটিয়েছি। আবার ফিরব।’ ফুটবলের আইকন থেকে মানবিক দূত—সব মিলিয়ে বনতারায় মেসি ধরা দিলেন অন্য এক পরিচয়ে।