অভিযোগ, প্রিমিয়ার ডিভিশনের একাধিক ম্যাচের ফলাফল আগেভাগেই ঠিক করা হচ্ছিল। কলকাতার ফুটবলে এহেন ঘটনা নতুন করে লিগের সততা ও তদারকির সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

শেষ আপডেট: 4 November 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ (Kolkata Premier League) ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের (Match Fixing) অভিযোগে গ্রেফতার খিদিরপুর ক্লাবের (Khidirpur Club) দুই আধিকারিক। সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) গোয়েন্দা বিভাগ তাদের আটক করে। অভিযোগ, প্রিমিয়ার ডিভিশনের একাধিক ম্যাচের ফলাফল আগেভাগেই ঠিক করা হচ্ছিল। কলকাতার ফুটবলে এহেন ঘটনা নতুন করে লিগের সততা ও তদারকির সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্তের নাম আকাশ দাস (Akash Das) ও রাহুল সাহা ওরফে রাজ (Rahul Saha alias Raj)। আকাশ দাস ক্লাবের টিম ম্যানেজার পদে আর রাহুল মিডিয়া ম্যানেজার। তদন্তে জানা গিয়েছে, দুজনেই আর্থিক লাভের বিনিময়ে ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তনের চক্রান্তে যুক্ত।
সূত্র অনুযায়ী, গোটা ঘটনায় ক্লাবের ভূমিকা সন্দেহজনক মনে হয়েছে তদন্তকারীদের। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগে আইএফএ (Indian Football Association) অভিযোগ দায়ের করে। জানানো হয়—প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে কিছু ব্যক্তি এবং এর মাধ্যমে বেআইনি বেটিং চক্রে টাকা ঘুরছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পর দেখা যায়, অন্তত দু’টি ক্লাবের কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক। তার মধ্যে একটি খিদিরপুর ক্লাব। তদন্তকারীরা আকাশ ও রাহুলের যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের বারাকপুর (Barrackpore) ও বেলঘরিয়া (Belghoria) থেকে আটক করে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার (Rupesh Kumar) বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করেছে। তারা আরও কয়েকজনের নাম জানিয়েছে, যাদের ভূমিকা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ক্লাবের কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে নির্দিষ্ট স্কোর নির্ধারণের জন্য আর্থিক লেনদেন করত। যার উৎস ও টাকার গতিপথ এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনায় কলকাতা পুলিশের তরফে নিজস্ব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজু হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির নতুন ধারা (BNS 61(2)/318(4)/319(2)) এবং ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্টের (IT Act 2000) ধারা 66 ও 43 অনুযায়ী। দু’জন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়েছে হেফাজতের আবেদন জানিয়ে। পুলিশ এখন জানতে চাইছে—কতগুলি ম্যাচ ফিক্স করা হয়েছে, কারা মূল চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এর কোনও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র আছে কি না।