শাসক দল ও মোহনবাগান ক্লাব সূত্রে খবর, দিদির দেওয়া ফর্মুলা নিয়ে এখন মাঠে নেমেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও মোহনবাগানের কর্মকর্তা কুণাল ঘোষ।

সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত
শেষ আপডেট: 4 June 2025 16:28
চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকেই মোহনবাগানের নির্বাচনের (Mohunbagan Election) ঢাকে কাঠি পড়েছে। সেদিন কালীঘাট মন্দিরের স্কাইওয়াকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক পিছনে বসেছিলেন সৃঞ্জয় বসু। আর মোহনবাগান ক্লাব সচিব দেবাশিস দত্ত ছিলেন দর্শকাসনে। দেওয়াল লিখন তাতেই স্পষ্ট ছিল। কিন্তু এমন সাদাকালোয় ইঙ্গিতের পরেও মোহনবাগানের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোটেও খুশি নন বলেও খবর। বরং কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, দিদি মনে করছেন, শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের ঐতিহ্য ও গরিমার সঙ্গে এই চাপানউতোর ঠিক মানাচ্ছে না।
তাহলে উপায়?
শাসক দল ও মোহনবাগান ক্লাব সূত্রে খবর, দিদির দেওয়া ফর্মুলা নিয়ে এখন মাঠে নেমেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও মোহনবাগানের কর্মকর্তা কুণাল ঘোষ। তাঁরা মেঘনাদের মতই আড়াল থেকে রফাসূত্রের জন্য দৌত্য শুরু করেছেন। সেই রফাসূত্রের মোদ্দা কথা একটাই, ভোটাভুটি ও কাদা ছোড়াছুড়ি এড়িয়ে সৃঞ্জয় বসুকে (Srinjoy Basu) সচিব পদে মেনে নেওয়া হোক। আর দেবাশিস দত্তকে (Debashis Dutta) দেওয়া হোক ক্লাব সভাপতি পদের দায়িত্ব। যে পদে ছিলেন টুটু বসু তথা স্বপনসাধন বসু।
মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচনে ভোটের দিন তারিখ ঘোষণা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে মনোনয়নপত্র তোলা ও জমা দেওয়ার কাজ চলছে জোর গতিতে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৯ জুন।
এবারের নির্বাচনে দুই প্রতিপক্ষ একসময়কার হরিহর আত্মা দেবাশিস দত্ত ও সৃঞ্জয় বসু (Srinjoy Basu)। কিন্তু এবার নির্বাচন ঘিরে দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, দেবাশিস ব্যাপারটাকে ইগো ইস্যু করে নিয়েছে। আবার দেবাশিস দত্তকে খোলাখুলিই ইন্ধন জোগাতে শুরু করেছেন সৃঞ্জয় বসুর ভাই সৌমিক বসু।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দেবাশিস দত্তের উচিত সমঝোতার পথে হাঁটা। এর আগে ক্লাব বহির্ভূত কারণে সৃঞ্জয় বসু ভোটাভুটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। গত ভোটে সৃঞ্জয় কোনও প্যানেলও দেননি। ফলে অনায়াসে সচিব হয়ে তিন বছর কাটিয়েছেন দেবাশিস। ক্লাব চালাতে কখনও কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি। দেবাশিসের উচিত সেটাও মাথায় রাখা। এও মাথায় রাখতে হবে, মোহনবাগানের আর্থিক সংকটের দিনে এই বসু পরিবারই ছিল একমাত্র মধুসূদন।
এই বিষয়ে দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে দেবাশিস দত্তকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "মনোনয়ন পেশ করার করার আগে আমি কিছু বলতে চাই না। আগে মনোনয়ন পেশ করব, তার পর যা বলার বলব।" অর্থাৎ দেবাশিস এখনও অনড় মনোভাবেরই বার্তা দিতে চেয়েছেন।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ এক নেতা এদিন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচনে মাথা গলাতে চান না। তবে তিনি অবশ্যই চান ময়দানের ভাল হোক। সাম্প্রতিক অতীতে যতবারই মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল বা মহামেডানের সমস্যা হয়েছে, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। এ বারও তাঁর বার্তাকে সেই প্রেক্ষাপটে দেখা যেতে পারে।
এখন দেখার কালীঘাটের এই বার্তার পরও দেবাশিস দত্ত ভোটাভুটিতে অনড় থাকেন, নাকি সমঝোতার সূত্রই মেনে নেন।