ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে আবেগপ্রবণ ঝুলন গোস্বামী। বললেন, এই সাফল্য শুধু দেশের নয়, ভবিষ্যতের প্রজন্মের মেয়েদেরও খেলাধুলায় অনুপ্রাণিত করবে।

ঝুলন গোস্বামী
শেষ আপডেট: 5 November 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ভারতীয় ক্রিকেট। হরমনপ্রীত কৌর-এর নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো মহিলা বিশ্বকাপ (Women's World Cup 2025) শিরোপা জিতেছে। দেশের মহিলা ক্রিকেটের জন্য এই জয় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ভারতের এই বিশেষ অর্জন নিয়ে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ঝুলন গোস্বামী সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কেরিয়ারে দুইবার বিশ্বকাপের রানার্স-আপ হওয়া ঝুলন জানান, এই জয়টি তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে কতটা স্পেশাল এবং এটি ভবিষ্যতে অসংখ্য তরুণীকে খেলাধুলায় আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
ঐতিহাসিক ফাইনাল জয়ের মুহূর্ত বর্ণনা করতে গিয়ে ঝুলন বলেন, "এটা গোটা দেশের জন্য একটা বিশাল মুহূর্ত ছিল। যখন হরমন (হরমনপ্রীত কৌর) সেই (জয়সূচক) ক্যাচটা নিল, আমরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। এটা সত্যিই বিশেষ মুহূর্ত, আর আমরা অবশ্যই এই মুহূর্তগুলো উদযাপন করব।"
ঝুলন আরও যোগ করেন, "সিনিয়র মহিলা ক্রিকেটে এই প্রথমবার আমরা আইসিসি ইভেন্ট জিতলাম, যা সচরাচর দেখা যায় না। পুরো দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এত বড় জনসমাগম দেখতে পাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। সবচেয়ে ভাল লেগেছিল যখন হরমন ট্রফি তুলল, তখন পুরো স্টেডিয়াম 'ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া' বলে চিৎকার করছিল। এটা আমার জন্য খুব আবেগপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।"
ঝুলন গোস্বামী মনে করেন, এই বিশ্বকাপ জয় ভারতের মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন যে কেন এই সাফল্য ভারতে খেলাধুলা এবং মহিলা ক্রিকেটের জন্য একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায় হতে পারে।
"এই বিশ্বকাপ নিশ্চিতভাবে অনেক উঠতি, তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করবে। তারা ক্রিকেট খেলা শুরু করবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। এটি আরও বেশি সংখ্যক তরুণীকে খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহিত করবে," বলেন ঝুলন।
তিনি হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি ভার্মা, জেমাইমা রড্রিগেজ, দীপ্তি শর্মা এবং রিচা ঘোষ-এর মতো তারকাদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। ঝুলনের কথায়, "খেলাধুলাই সবচেয়ে বড় সমতাবিধায়ক। খেলাধুলা সব কিছু শেখায়। হরমন, স্মৃতি, শেফালি, জেমাইমা, দীপ্তি, রিচা যেভাবে পারফর্ম করেছে, তা আমাদের দেশের আরও অনেক মেয়েকে অনুপ্রাণিত করবে। তারা ভবিষ্যতে খেলাধুলাকে পেশাদারভাবে এবং গুরুত্ব সহকারে নেবে।"
বিজয় উদযাপনে ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়া ঝুলন গোস্বামী জানান, কেন এই জয় তাঁর কাছে এত ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ।
তিনি বলেন, "আমি যখন শুরু করি, তখন ১৯৯৭ সালে ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনাল বল-গার্ল হিসেবে দেখেছিলাম। সেই মুহূর্ত থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। কিন্তু আমার সিনিয়ররা বলতেন, 'না, শুধু দেশের হয়ে খেলা নয়। আমাদের বিশ্বকাপ জিততে হবে।' আমরা দু'বার খুব কাছাকাছি এসেছিলাম—২০০৫ এবং ২০১৭ সালে—কিন্তু ফাইনাল ল্যাপটা শেষ করতে পারিনি।"
ঝুলন আরও বলেন, "এবার আমাদের মেয়েরা সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবং তারপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যেভাবে জিতেছে... গ্রুপ পর্বে টানা তিনটি হারের পর যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সবাই বলতে শুরু করেছিল যে দল ফুরিয়ে গেছে, তাদের বোলিং ভাল নয় বা ফিনিশার নেই। কিন্তু দলটি শুধু একজোট হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং বিশ্বাস করেছিল। আর আমরাও তাদের সাথে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম। তাই এই আনন্দ আরও বিশেষ।"